কাবুলে বিমানে উঠতে গিয়ে পদদলিত হয়ে, আমেরিকান সৈন্যদের গুলিতে ও উড়ন্ত বিমানের চাকা থেকে পড়ে ১২ আফগানির মৃত্যু

0
1518
কাবুলে বিমানে উঠতে গিয়ে পদদলিত হয়ে, আমেরিকান সৈন্যদের গুলিতে ও উড়ন্ত বিমানের চাকা থেকে পড়ে ১২ আফগানির মৃত্যু

তালিবানরা কাবুলের দখল নেওয়ার পর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। তবুও যারা এতদিন মার্কিনিদের গোলামী করেছে তারা ভয়ে পালোচ্ছে। এর জন্য কাবুল বিমানবন্দরে দালালদের ভিড় তৈরী হয়েছে। একে অপরকে ঠেলে ফেলে যে ভাবেই হোক বিমানে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। দেশ ছাড়ার জন্য তারা এতই মরিয়া হয়ে উঠেছে যে বিমানের চাকার সাথে ঝুলে ঝুলে দেশ ছাড়তে চাচ্ছে তারা। উড়ন্ত বিমান থেকে ছিটকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঠেলাঠেলি করে বিমানে উঠতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের এবং মার্কিনিরা তাদের গোলামদের ভীড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কমপক্ষে ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, তালেবানরা কাবুল নিয়ন্ত্রণ নিলেও বিমানবন্দর ছিল আমেরিকানদের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে তালেবান যোদ্ধারা ছিল না কিন্তু দূঃজনক হলেও সত্য হলুদ মিডিয়াগুলো এবিষয়টিকে তালেবানদের উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। দালাল মিডিয়াগুলো বলছে, কাবুল বিমানবন্দরের পাশে উড়ন্ত বিমান থেকে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা বিমানের চাকার সঙ্গে নিজেদের বেঁধে দেশ ছাড়তে চেয়েছিল। তালেবানদের অত্যাচারের ভয়েই তাদের এমন প্রাণের ঝুঁকি নিতে হয়েছে।
এদিকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো বিমান নামলে তা ভরে যাচ্ছে মুহূর্তেই। বিমানে তাড়াহুড়া করে উঠতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। গত রবিবার সকালে দক্ষিণের জালালাবাদ দখল নেওয়ার পর দুপুরের মধ্যে বিনা যুদ্ধে কাবুল বিজয় করেছে তালিবান। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তালিবান প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বরাদরের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠকের পরই পদত্যাগ করেছিল প্রেসিডেন্ট গনি। তারপর সেও প্রচুর অর্থসম্পদ নিয়ে দেশ ছেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এক মার্কিন সেনা জানায়, জনতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতেই গুলি করা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেকগুলো ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অনেকগুলো ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, মানুষজন রানওয়ের দিকে দৌড়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছে। এই বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন সৈন্যরা।জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলোয় কূটনৈতিক কর্মীদের আগে সরিয়ে নিতে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, যা বিশৃঙ্খলা আর বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে তালিবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর কর্মীরা রাজধানী ছাড়তে শুরু করলেও চীন ও রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দূতাবাস বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
চীন তার নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তারা যেন ঘরের ভেতরে অবস্থান করে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সেই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন পক্ষকে চীন তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার সেদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তাদের আফগানিস্তান ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
উল্লেখ্য,তালিবানের একটি প্রতিনিধি দল গত জুলাই মাসে চীন সফর করেছেন, যেখানে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং লির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই সময় ওই বৈঠককে রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে তালিবানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলে মনে করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন