গুমের শিকার হওয়া ৮৬ জনের আজও খোজ পাওয়া যায়নি : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

0
1526
গুমের শিকার হওয়া ৮৬ জনের আজও পাওয়া যায়নি : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে যে প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় তারা দেখেছে যে, সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে এবং তাদের মত দাবিয়ে রাখতে গুম এবং গুমের হুমকিকে ব্যবহার করেছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশে এখনো ৮৬ জন গুম হয়ে আছেন। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ বলেছে, তারা মনে করে, জাতিসংঘের উচিত গুম নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া। প্রতিবেদনে গুমের জন্য বাংলাদেশের বাহিনীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।

জুলাই ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মোট ১১৫টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এইচআরডব্লিউ ‘নো সান ক্যান এন্টার: আ ডিকেড অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৬ আগস্ট। নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, গুম বন্ধ করা ও ভবিষ্যতে নির্যাতন প্রতিরোধের নিশ্চয়তা আদায়ে জাতিসংঘ, দাতাগোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে মানবাধিকার সংগঠনটি।

এইচআরডব্লিউর ৫৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে গুম করে আসছে এবং এর বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য–প্রমাণ আছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে থাকে এমন দেশের সরকার, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজ বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার কখনোই এ আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো বহু বছর ধরেই নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। বিগত সরকারের আমলেও এমনটি ঘটেছে। কিন্তু গত এক দশকে ‘গুম’ এই সরকারের ‘হলমার্ক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ গুম বা গুমের ভয় দেখানোর কাজটি করছে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে এবং বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করতে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ পরে ফিরে এসেছেন। আবার কাউকে কাউকে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেউ কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো গুমের বেশির ভাগ ঘটনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) দায়ী করেছে। র‌্যাবকে ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে উল্লেখ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং বিভিন্ন সময় একে ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন