তালেবান কি চোরের হাত না কেটে কুফুরি করেছে?

2
1412
তালেবান কি চোরের হাত না কেটে কুফুরি করেছে?

তালেবান কি চোরের হাত না কেটে কুফুরি করেছে?

মুফতি মুহাম্মাদ মুহিবুল্লাহ

সম্প্রতি তালিবান মুজাহিদিন কর্তৃক চোরকে গাধার উপর চড়িয়ে চুনকালি মেখে ঘুরানোর একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করে অনেককে বলতে দেখা গেছে- তালেবান শরিয়াহ বাস্তবায়ন করছে না, চোরের হাতকাটার শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করছে না। ফলে তালিবান কুফুরি করেছে।

কেউ অজ্ঞতাবশত বলছে, আবার কেউ হয়তো উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন বলছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ইসলামী শরীয়াহ এবং ফিকহের ব্যাপারে প্রাথমিক পর্যায়ের জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই নিজের অজান্তেই এক্ষেত্রে গুরুতর ভুল করে ফেলছেন এবং তাকফীরের ব্যাপারে গুলুহতে লিপ্ত হচ্ছেন। বস্তুত: তালিবানরা যা করছেন, তা শরীয়াহসম্মত এবং ফিকহ অনুযায়ী করছেন এবং সালফে সালেহীনের অনুসরণেই করছেন। এ প্রবন্ধে আমরা তাই তুলে ধরব-

ইসলামী শরিয়তে প্রধানত দুই ধরণের শাস্তি রয়েছে,

(ক) হদ্দ  

(খ) তা’জির

শরিয়তে হদ্দের শাস্তিগুলো নুসূস দ্বারা নির্ধারিত, কিন্তু তা’জিরের শাস্তি নির্ধারিত নয়। যেমন, কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে এবং তা শরয়ীভাবে প্রমানিত হয়, তাহলে তার শাস্তি হলো হাত কেটে দেওয়া। কিন্তু এই হদ্দ প্রয়োগের জন্য বেশ কিছু শর্তও রয়েছে। এখন যদি শরয়ী কোন কারণে হদ্দ প্রয়োগ করা না যায়, অর্থাৎ হদ্দ প্রয়োগের কোন একটি শর্ত পাওয়া যায়নি অথচ তার চুরি প্রমানিত, তাহলে ইসলামী আদালতের বিচারক তার উপর তা’জির প্রয়োগের অধিকার রাখেন।

আর শরিয়তে তা’জিরের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং অপরাধের স্তর অনুযায়ী তা ইমামের ইচ্ছার উপর ন্যস্ত রাখা হয়েছে। তিনি যা কল্যাণকর মনে করেন তাই শাস্তি হিসেবে দিতে পারেন। যেমন-  থুতু নিক্ষেপ করা, মাথা মুন্ডন করা, বেত্রাঘাত করা, দেশান্তর করা, বন্দি করা ইত্যাদি যেকোন শাস্তি হতে পারে। তা’জির প্রয়োগ কখনো ওয়াজিব হয়, আবার কখনো ইমামের ইচ্ছাধীনও  থাকে।

ফিকহের কিতাবাদিতে চোর কখন চুরি করলে এবং তা কিভাবে প্রমানিত হলে হাত কাটা যাবে, আবার কখন কিভাবে হলে হাত কাটা যাবে না, এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি তাজিরের বিধানও বর্ণনা করা হয়েছে।

ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেন-

‏قال الإمام أحمد رحمه الله: ورد فيه عن عمر رضي الله عنه يضرب ظهره، ويحلق رأسه، ويسخم وجهه ويطاف به، ويطال حبسه  )الإنصاف:  10/ 248(

“এই ব্যাপারে ওমর রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি পিঠে প্রহার করতেন, মাথা মুণ্ডন করে দিতেন, চেহারায় কালি মেখে দিতেন ও ঘুরাতেন, দীর্ঘ সময় বন্দি রাখতেন”।

আল-ইনসাফ- ১০/২৮৪

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন-

وأما المعاصي التي ليس فيها حد مقدر ولا كفارة كالذي يقبل الصبي والمرأة الأجنبية أو يباشر بلا جماع أو يأكل ما لا يحل كالدم والميتة أو يقذف الناس بغير الزنا أو يسرق من غير حرز ….فهؤلاء يعاقبون تعزيرا وتنكيلا وتأديبا بقدر ما يراه الوالي على حسب كثرة ذلك الذنب في الناس وقلته فإذا كان كثيرا زاد في العقوبة بخلاف ما إذا كان قليلا وعلى حسب حال المذنب فإذا كان من المدمنين على الفجور زيد في عقوبته بخلاف المقل من ذلك وعلى حسب كبر المذنب ..[3]. السياسة الشرعية، لإبن تيمية، ص: 111 – 12، ط: الرابعة، دار الكتاب العربي، بمصر.

“এমন অপরাধী যার অপরাধের ব্যাপারে শরীয়াত ‘হদ’ এবং কোন ধরণের কাফফারার বিধান নির্ধারণ করেনি, যেমন শাহওয়াতের সাথে শিশু বাচ্চাকে অথবা স্ত্রী নয় এমন কোন নারীকে চুমু দেয়া। কোন নারীকে আলিঙ্গন করা, হারাম কোন কিছু খাওয়া, যেমন রক্ত, মৃতপ্রাণী, কাউকে ব্যভিচার ব্যতিত অন্য কোন বিষয়ে অপবাদ দেয়া, অথবা অরক্ষিত স্থান থেকে কোন কিছু চুরি করা ইত্যাদি…। তো এই ধরণের ব্যক্তিদেরকে লাঞ্চিত করা এবং শিষ্টারের উদ্দেশ্যে শাস্তি দেয়াকে তা’জির বলে। মানুষের কাছে উক্ত অপরাধের ধরণ অনুযায়ী শাসক তার জন্য মুনাসিব শাস্তি নির্ধারণ করবেন। অপরাধের পরিমাণ বেশি হলে শাস্তি বেশি, আর কম হলে শাস্তিও হবে কম। পাশাপাশি অপরাধীর অবস্থাও বিবেচনা করা হবে। যদি সে নিয়মিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হয় তাহলে শাস্তি হবে বেশি, আর নিয়মিত না হলে শাস্তি হবে কম। ঠিত তেমনি অপরাধীর বয়স ও বিবেচনা করা হবে”।

(আসসিয়াসাতুস শারইয়্যাহ লি ইবনে তাইমিয়াহ,১২/১১১ দ্বাদশ সংস্করণ, দারুল কুতুবিল আরাবী, মিশর থেকে প্রকাশিত)

ওয়াহহাব ইবনে মুস্তফা আয যুহাইলী রহিমাহুল্লাহ বলেন

التعزير : العقوبة المشروعة غير المقدّرة شرعاً، والتي يوقعها القاضي على المجرم لمعاقبته بما يكافئ جريمته، ويقمع عدوانه، ويحقّق الزجر والإصلاح، ويكون في كل جريمة لا حدّ فيها ولا كفارة، سواء أكانت الجناية اعتداء على حق الله تعالى، كالأكل في نهار رمضان بغير عذر، وترك الصلاة، أم كانت اعتداء على حقوق العباد كالربا، وطرح النجاسة، وأنواع الأذى في طريق الناس، والسب والشتم وغير ذلك من الجرائم.

) وهبة بن مصطفى الزحيلي، الفقه الإسلامي وأدلته (الطبعة الرابعة)، سورية: دار الفكر، صفحة 5300، جزء 7. بتصرّف.(

‘যে অপরাধের ক্ষেত্রে শরয়ী হুদুদের শাস্তি নির্ধারিত নেই এমন অপরাধের ক্ষেত্রে একজন কাজী অপরাধের স্তর অনুযায়ী অপরাধীর উপর যে শাস্তি প্রয়োগ করেন, পরিভাষায় একে তা’জির বলে। অপরাধীর সীমালঙ্ঘনের রেশ টেনে ধরা, তাকে ভীতি প্রদর্শন করা এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়। আর তা এমন প্রত্যেক অপরাধের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যেখানে শরীয়াত কর্তৃক কোন হদ এবং কাফফারার বিধান নির্ধারিত থাকে না। চাই অপরাধটি আল্লাহর হক বিষয়ক হোক (যেমন রমযানে দিনের বেলা পানাহার করা, সালাত তরক করা।) অথবা বান্দার হক বিষয়ক হোক (যেমন-  সুদ খাওয়া, মানুষের চলাচলের পথে নাপাকবস্তু ফেলে রাখা। কাউকে গালি দেয়া, ইত্যদি.।

(আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু [ওয়াবাহ ইবনে মুস্তফা আয যুহাইলী] ৭/৫৩০০, চতুর্থ সংস্করণ, সিরিয়া থেকে প্রকাশিত)

অপরাধের ক্ষেত্রে ইসলামের শাস্তির বিষয়ে ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আততাশরীউল জিনায়ী আল ইসলামী’তে আবদুল কাদের আওদা রহিমাহুল্লাহ একটি মূলনীতি বলেছেন-  আর তা হলো-

فالقاعدة العامة في ذلك أن كل عقوبة تؤدي إلى تأديب المجرم واستصلاحه وزجر غيره وحماية الجماعة من شر المجرم والجريمة هي عقوبة مشروعة] التشريع الجنائي الإسلامي، عبد القادر عودة، 1/ 686.[

‘তা’জিরের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে-  এ শাস্তির দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে অপরাধীকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া, সংশোধন করা, অন্যদের সতর্ক করা এবং মানুষকে অপরাধীর অনিষ্টতা থেকে হেফাজত করা। এবং এটা হলো শরীয়াত কর্তৃক বৈধ শাস্তি।

(আততাশরীউল জিনায়ী আল ইসলামী- ১/৬৮৬)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেলো-  শরিয়তে হুদুদ ছাড়াও শাস্তির ব্যবস্থা আছে, যাকে পরিভাষায় তাজির বলা হয়। যখন কারো উপর শরয়ী শর্তের অনুপস্থিতিতে হদ্দ প্রয়োগ করা যায় না, তখন তার উপর তাজীর প্রয়োগ করা হয়।

সালফে সালেহীন থেকে তাজীরের বিভিন্ন পদ্ধতির প্রমাণ রয়েছে। নিম্নে কিছু সুরত উল্লেখ করা হলো-

সালাফের যুগে তাজিরের বিভিন্ন সুরত :

১. নং সুরত, চল্লিশ বেত মুখে কালি মেখে দেয়া-

روي أن عمر رضي الله عنه ضرب شاهد الزور أربعين سوطا وسخم وجهه. (مصنف ابن ابي شيبه في مصنفه في كتاب الحدود، البناية ص: 196، باب شهادت الزور، فتح القدير ص: 475، فصل شهادة الزور )

“বর্ণিত আছে যে, ওমর রাযিআল্লাহু তাআলা আনহুআল্লাহু তাআলা আনহু মিথ্যা সাক্ষীদাতাকে চল্লিশ বেত্রাঘাত করেছেন এবং তার চেহারায় কালি মেখে দিয়েছেন”।

(আল বিনায়া, মিথ্যা স্বাক্ষী অধ্যায়’ পৃষ্ঠা: ১৯৬। ফাতহুল কাদীর: মিথ্যা স্বাক্ষী অধ্যায়’ পৃষ্ঠা : ৪৭৫)

 

২.নং সুরত, চল্লিশ বেত, মুখে কালি মেখে দেয়া ও মাথা মুণ্ডানো

حدثنا أبو خالد عن حجاج عن مكحول عن الوليد بن مالك أن عمر رضي الله عنه كتب إلى عماله بالشام في شاهد الزور وبضرب أربعين سوطا ويسخم وجهه ويحلق رأسه. (البناية شرح الهداية، ص: 196، باب شهادة الزور، فتح القدير، ص: 475، فصل شاهد الزور،)

“ওলীদ ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত-  ওমর রাযিআল্লাহু তাআলা আনহুআল্লাহু তাআলা আনহু সিরিয়ায় অবস্থানরত নিজ গভর্নরদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন যেন মিথ্যা সাক্ষীদাতাকে চল্লিশ বেত্রাঘাত করা হয়, এবং তার মাথা মুণ্ড করে চেহারায় যেন কালি মেখে দেয়া হয়”।

(বিনায়া শরহুল হিদায়া, মিথ্যা স্বাক্ষী অধ্যায়-পৃষ্ঠা- ১৯৬, ফাতহুল কাদীর- মিথ্যা স্বাক্ষী অধ্যায়- পৃষ্ঠা: ৪৭৫

 

৩.নং সুরত, তিনশত বেত্রাঘাত

 أن عمر بن خطاب رضي الله عنه جلد معن بن زائدة لما نقش على خاتمة نقش بيت المال فضربه ثلاث مأة جلدة (رواه ابن حجر في الإصابة ج: 3، ص: 169)

“যখন মাআন ইবনে যায়েদা বাইতুল মালের সীল মারার আংটির অবিকল আরেকটি আংটি তৈরী করেছেন, তখন ওমর ইবনে খাত্তাব রাযিআল্লাহু তাআলা আনহুআল্লাহু তাআলা আনহু তাকে তিনশ বেত্রাঘাত করেন”।

(আল ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবা – ৩ / ১৬৯)

৪.নং সুরত, একশ বেত্রাঘাত

روي عن الخلفاء الراشدين في رجل وامرأة وجدا في لحاف يضربان مائة. (السياسة الشرعية- ص: 81)

“খোলাফায়ে রাশিদীন থেকে বর্ণিত যে, একজন নারী ও একজন পুরুষকে একই লেপে দেখতে পাওয়ায় তাদের একশ বেত্রাঘাত করা হয়”।

(আস-সিয়াসাতুশ্শারইয়্যা, লি ইবনে তাইমিয়া পৃষ্ঠা: ৮১)

 

৫.নং সুরত, ত্রিশ বেত্রাঘাত

وروي أن عمر بن عبد العزيز رح جيئ برجل يسب عثمان رضي الله عنه فقال ما حملك على أن سببته قال أبغضه قال وإن أبغضت رجلا سببته قال فأمر به فجلد ثلاثين جلدة. (مصنف ابن أبي شيبة، ج: 6، ص: 567)

“বর্ণিত আছে যে, উসমান রাযিআল্লাহু তাআলা আনহুকে গালি দেয়ায় জনৈক ব্যক্তিকে ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের দরবারে হাজির করা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে গালি দিয়েছ কেন? সে জবাবে বলল: আমি তাকে ঘৃণা করি (তাই তাকে গালি দিয়েছি) তখন ওমর ইবনে আব্দুল আযীয বললেন: তুমি একজন ব্যক্তিকে ঘৃণা কর বলে তাকে গালি দিবে?! অত:পর ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ তাকে ত্রিশ বেত্রাঘাত করার ফরমান জারি করলেন।

(মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, খ: ৬/ ৫৬৭)

৬. নং সুরত, পদচ্যুত করা, ভাতা বন্ধ করা, প্রহার করা, চেহারায় কালি মেখে উল্টো করে বাহনে বসানো, বন্দি করা

وَقَدْ يُعَزَّرُ بِتَرْكِ اسْتِخْدَامِهِ فِي جُنْدِ الْمُسْلِمِينَ، كَالْجُنْدِيِّ الْمُقَاتِلِ إذَا فَرَّ مِنْ الزَّحْفِ؛ فَإِنَّ الْفِرَارَ من الزحف من الكبائر، وقطع أجره نَوْعُ تَعْزِيرٍ لَهُ، وَكَذَلِكَ الْأَمِيرُ إذَا فَعَلَ ما يستعظم فعزله عن إمارته تَعْزِيرٌ لَهُ. وَكَذَلِكَ قَدْ يُعَزَّرُ بِالْحَبْسِ، وَقَدْ يُعَزَّرُ بِالضَّرْبِ، وَقَدْ يُعَزَّرُ بِتَسْوِيدِ وَجْهِهِ وَإِرْكَابِهِ عَلَى دَابَّةٍ مَقْلُوبًا؛ كَمَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بن الخطاب -رضي الله عنه- أنه أمر بمثل ذلك فِي شَاهِدِ الزُّورِ، فَإِنَّ الْكَاذِبَ سَوَّدَ الوجهَ، فسُود وجهُه، وقلَبَ الْحَدِيثَ، فقُلِب رُكُوبُهُ. (السياسة الشرعية في إصلاح الراعي والرعية (ص: 92)

“আর কখনো কখনো উক্ত অপরাধীকে মুসলিম সেনাবাহিনীর পদ থেকে বরখাস্ত করে শাস্তী দেয়া হবে। যেমন যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নকারী সৈনিককে শাস্তি দেয়া হয়। কারণ যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা অন্যতম কবীরা গুনাহ। তার ভাতা বন্ধ করাটাও কিন্তু একপ্রকার শাস্তি। তেমনি আমীর সাহেব বড় কোন অপরাধ করে বসলে  অপরাধের শাস্তি স্বরূপ তাকে আমিরের পদ থেকে বরখাস্ত করা হবে। আর কখনো আটক করে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। কখনো প্রহার করার মাধ্যমে। আর কখনো চেহারায় কালি মেখে বাহনে উল্টো করে আরোহণ করানোর মাধ্যমে। ওমর রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু ব্যপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি মিথ্যা সাক্ষদাতার ব্যাপারে এমনটিই নির্দেশ করেছেন। ওমর রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু যেহেতু মিথ্যা সাক্ষদাতার চেহারায় কালি মেখেছেন, তাই উক্ত অপরাধীর চেহারাও কালি মেখে  উল্টো করে বাহনে বসানো হবে। কারণ সে সত্য কথাকে উল্টো করে উপস্থাপন করেছে”।

(আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ ফী ইসলাহির রায়ী ওয়ার রা-ইয়্যাহ, পৃষ্ঠা:৯২)

তাজীরের ক্ষেত্রে সালাফ থেকে উপরোক্ত সুরতগুলো পাওয়া যায়। তাই তাজীর হিসেবে কারো উপর এ ধরণের শাস্তি প্রয়োগ করা হলে তা শরীয়ত লঙ্ঘন হয়েছে বলা হবে হঠকারিতা, বাড়াবাড়ি, শরীয়তকে অবজ্ঞা করা।

এবার আমরা ফিকহের কিতাব থেকে চোর কখন চুরি করলে এবং তা কিভাবে প্রমানিত হলে হাত কাটা যাবে, আবার কখন কিভাবে হলে হাত কাটা যাবে না, তা বিস্তারিত তুলে ধরছি।

ইসলামে চুরির শাস্তি

চোর যদি চুরি করে এবং সেটা সাক্ষ্য প্রমাণ, মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এবং হদ কায়েমের জন্য নির্ধারিত শর্তগুলো পাওয়া যায় তাহলেই শরীয়াতের বিধান অনুসারে তার হাত কাটা হবে। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে-

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِّنَ اللَّهِ  وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

“পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তারা যা উপার্জন করেছে তার প্রতিফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা মহাপরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞানী”।

(সুরা মায়েদা – ৫:৩৮)

চোরের হাত কাটার ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর সকল জামানার আলেমরাই একমত। তবে চুরি প্রমাণিত হওয়ার পরও শরয়ী হদ কায়েমের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। এসব শর্তগুলো পুরণ না হলে চোরের উপর শরয়ী হদ কার্যকর করা জায়েজ হবে না।

চুরি প্রমাণিত হওয়ার পর হদ কার্যকরার হওয়ার শর্তাবলী:

চুরির জন্য শরীয়তের বিধান হিসেবে চোরের হাত কাটার শাস্তি প্রয়োগ করতে হলে অনেকগুলো শর্ত রয়েছে, নিন্মে শর্তগুলো উল্লেখ করা হলো-

১) চোর প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ ও বিবেক সম্পন্ন হওয়া।

২) চোর ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া।

৩) চুরির উদ্দেশ্যে চোরের হাতে সম্পদ হস্তগত হওয়া।

৪) অপরের মাল জেনে-শুনে তাতে হস্তক্ষেপ করা।

৫) নিজ ইচ্ছায় চুরি করা।

৬) চোর ও সম্পদের মালিক পরস্পর রক্ত সম্পর্কীয় না হওয়া।

৭) চোরের হাতে হস্তগত সম্পদের মধ্যে তার নিজস্ব মালিকানা না থাকা।

৮) ইসলামে চুরির নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে চোরের জ্ঞান থাকা।

৯) চুরিকৃত মালের মূল্যমান থাকা।

১০) চুরিকৃত মালটি পরিমাপ করা যায় এমন হওয়া

১১) চুরিকৃত মালটি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত রাখা।

১২) চুরিকৃত মালটি পচনশীল না হওয়া।

১৩) চুরিকৃত মালটি শরয়ীভাবে হালাল হওয়া।

১৪) চুরিকৃত মাল যেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে সেখানে প্রবেশের অনুমিত না থাকা।

উল্লেখিত শর্তগুলো পাওয়ার সাথে সাথে যে পরিমাণ মালামাল চুরি করলে শরয়ী হুদ কার্যকর করা যায়, তা চুরি করলেই কেবল হদ কার্যকর হবে।

কতটুকু পরিমাণ মালামাল চুরি করলে শরয়ী হদ কার্যকর হবে তার নেসাব:

কতটুকু পরিমাণ মালামাল চুরি করলে চোরের উপর শরয়ী হদ কার্যকর হবে এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের বেশ কিছু মতামত রয়েছে। ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী রহিমাহুল্লাহ তাঁর ফাতহুল বারী গ্রন্থের হুদুদ অধ্যায়ে ১৯টি মতামত উল্লেখ করেছেন। ইবনে কুদামা আল হাম্বলী রহিমাহুল্লাহ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল-মুগনীতে এর কাছাকাছি মত উল্লেখ করেছেন। ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা শায়খ ত্বাকী ওসমানি হাফিযাহুল্লাহ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম গ্রন্থে ১৪টি মতামত উল্লেখ করে শেষে বলেছেন-

والحاصل أن الأئمة الثلاثة الحجازيين اعتبروا ربع دينار أو ثلاثة دراهم نصابا ، على خلاف بينهم في بعض التفاصيل ، وخالفهم الحنفية ، فاعتبروا عشرة دراهم ، أو دينارا واحدا

“মোট কথা: আইম্মায়ে সালাসা তথা ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ এর রায় হলো-  কমপক্ষে চার দিনার অথবা তিন দিরহাম হতে হবে। তবে এর বিস্তারিত বিবরণের ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নভিন্ন মতামত রয়েছে। বিপরীতে হানাফী ইমামদের রায় হলো-  চুরিকৃত মালের পরিমাণ কমপেক্ষ ১০ দিরহাম বা ১ দিনার হতে হবে।

(ফাতহুল বারী ১২/ ১৩৯, ১৪০, মাকতাবায়ে দারু ইবনুল জাওযি, কায়রো) আল মুগনি লি ইবনে কুদামাহ- ৯/১০৫, মাকতাবাতুল কাহেরা (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-৪/২২৯-২৩০, মাকতাবায়ে আশ্রাফিয়া দেওবন্দ)

নিম্নের আমরা শুধু চার মাযহাবের মতামতগুলো উল্লেখ করছি।

হানাফি মাযহাব:

ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ এর মতে হাত কাটার বিধান প্রয়োগ করার জন্য চুরিকৃত মালের পরিমাণ কমপক্ষে দশ দিরহাম কিংবা তার সমমূল্যের হতে হবে। এর চেয়ে কম হলে এই বিধান প্রয়োগ হবে না।

এ বিষয়ে হানাফী ফিকহের কিছু উদ্বৃতি তুলে ধরা হলো-

“قال الحنفية: يشترط أن تكون الدراهم جيادا، فلو سرق مزيوفا أو سرق غير الدراهم، لا يقطع مالم تبلغ قيمة المسروق عشرة دراهم جياد”

“হানাফী আলিমগণ বলেন-  শাস্তি কার্যকর করার জন্য শর্ত হলো-  চুরিকৃত দিরহামগুলো সচল হতে হবে। যদি অচল কোন দিরহাম চুরি করে অথবা দেরহাম ব্যতিত অন্য কিছু চুরি করে, তাহলে হাত কাটার বিধান কার্যকর করার জন্য শর্ত হলো, চুরিকৃত মালের পরিমাণ ভালো ও সচল দশ দেরহাম পরিমাণ হতে হবে।

“قال الصاحبان والكرخي ينبغي أن تكون الدراهم مضروبة. لأن إسم الدراهم في الحديث يطلق على المضروبة عرفا وهو ظاهر الرواية، وهو الأصح، وهو قول الجمهور”

‘ঈমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুমাল্লাহ এবং ইমাম কারাখি রহিমাহুল্লাহ বলেন: দেরহামগুলো ছাঁচে ঢালাইকৃত হওয়া উচিত। কেননা উরফে দেরহাম বলতে ছাঁচে ঢালাইকৃত দেরহামকেই বুঝায়।

“وقال جمهور الحنفية: يجب أن تكون قيمة المسروق عشرة دراهم من وقت السرقة إلى وقت القطع”

الفقه الإسلامي وأدلته: جـ 6، صـ 104. دار الفكر

‘হানাফী আলিমগণ আরো বলেন- চুরির হদ প্রয়োগ হওয়ার জন্য চুরিকৃত বস্তুটির মূল্য দশ দিরহাম হওয়া জরুরী। এবং উক্ত মুল্য চুরির সময় থেকে নিয়ে বিধান প্রয়োগের সময় পর্যন্ত বহাল থাকতে হবে’।

“(هي) ….. لأخذ مكلف) … بصير …… عشرة دراهم …… جياد أو مقدلرها ….. (مقصودة) بالأخذ ….. (في دار العدل) فلا يقطع بسرقة في دار حرب أوبغي …… لاشبهة فيه ولا يأئيل …. ولا قطع ….. أو مال عامة أو مشترك ….. أو من ذي رحم محرم لا يرضاع…..(تنوير الابصار مع الدر المختار- كتاب السرقة- 6/136(

“চুরির শাস্তি কার্যকর করার জন্য শর্ত হলো, চোর শরীয়তের বিধান কার্যকর হওয়ার বয়সে উপনিত হতে হবে। চুরিকৃত সচল মালের পরিমাণ দশ দিরহাম হতে হবে। চুরির উদ্দেশ্যে চুরি করতে হবে। চোর দারুল ইসলামে অবস্থান করতে হবে, সুতরাং দারুল হরবে এবং বিদ্রোহীদের অঞ্চলে চুরির হদ কার্যকর হবে না। চুরিকৃত মালে কোন সংশয় ও ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকা। যৌথ সম্পদ এবং জনসাধারণের সম্পদ না হওয়া। রক্ত অথবা দুধ সম্পর্কীয় ব্যক্তির মাল না হওয়া।

বর্তমান গাণিতিক হিসাব:

(বর্তমানে প্রতি দিহামের মূল হলো-  0.2625 রূপা। যার দশ দিরহাম পরিমাণ সমান হয়-2.625 বর্তমানে প্রতি ভরির মূল্য যদি ১০০০ টাকা হয় তাহলে হাত কাটার বিধান প্রয়োগের জন্য চুরিকৃত মালের পরিমাণ 2625 টাকা হতে হবে)

মালেকি মাযহাব:

মালেকি মাযহাব মতে- চোরের উপর দন্ড-বিধি কার্যকর করার পরিমাণ হলো তিন দিরহাম বা সমমুল্যের কোন জিনিস।

«المالكية – قالوا: نصاب حد السرقة ثلاثة دراهم مضروبة خالصة، فمتى سرقها، أو مما يبلغ ثمنها فما فوق من العروض والحيوان وجب إقامة الحد عليه، وقطع يده،

“চুরির শরয়ী হদ কার্যকরের নেসাব হলো ছাঁচে ঢালাইকৃত তিন দিরহাম। সুতরাং কোন ব্যক্তি যখন তা চুরি করবে অথবা সমপরিমাণ মূল্যের বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ মূল্যের কোন বস্তু অথবা প্রাণী চুরি করবে, হাত কাটার মাধ্যমে তার উপর হদ কার্যকর করা হবে”।

শাফেয়ী মাযহাব:

শাফেয়ীদের নিকট চোরের উপর দন্ড-বিধি কার্যকর করার পরিমাণ হলো: একদিনারের চার ভাগের এক ভাগ বা এর সমপরিমাণ দেরহাম কিংবা এর সমতুল্য বস্তু।

الشافعية – قالوا: نصاب السرقة ربع دينار، أو ما يساويه من الدراهم، والأثمان، والعروض، فصاعداً، فالأصل في تقويم الأشياء هو الربع دينار، وهو الأصل ايضاً في الدراهم فلا يقطع في الثلاثة دراهم إلا أن تساوي ربع دينار

“চোরের উপর দন্ড-বিধি কার্যকর করার পরিমাণ হলো: একদিনারের চার ভাগের এক ভাগ বা এর সমপরিমাণ দেরহাম কিংবা এর সমতুল্য বস্তু বা এর চেয়ে বেশি। কোন বস্তুর মূল্যমান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক দিনার চার ভাগের এক ভাগই হলো মূল। (অর্থাৎ চুরিকৃত বস্তুটি এক দিনারের চার ভাগের এক ভাগের সমপরিমাণ মূল্য হতে হবে) একই মূলনীতি দিরহামের ক্ষেত্রে”।

হাম্বলী মাযহাব

চুরিতে দন্ডবিধি কার্যকর করার পরিমাণের বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো- দিনারের এক চতুর্থাংশ কিংবা তিন দিরহাম। এই দুটিই হলো শরিয়ত নির্ভর। সুতরাং যে এ দুটির কোন একটি কিংবা তার সমমুল্যের কোন কিছু চুরি করবে তার হাত কেটে দেয়া হবে।

الحنابلة – قالوا: إن كل واحج من ربع الدينار، والثلاثة دراهم مراد شرعي، فمن سرق واحداً منهما، أو ما يساويه قطع،

“চুরিতে দন্ডবিধি কার্যকর করার পরিমাণের বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো-  দিনারের এক চতুর্থাংশ কিংবা তিন দিরহাম। এই দুটিই হলো শরিয়ত নির্ভর। সুতরাং যে এদুটির কোন একটি কিংবা তার সমমুল্যের কোন কিছু চুরি করবে তার হাত কেটে দেয়া হবে”।

চারো মাযহাবের তথ্যসূত্র: আল-ফিকহু আলা মাযাহিবিল আরবাআ, কিতাবুল হুদুদ, মিকদারুন্ নেসাব, খ:৫, পৃষ্ঠা:১৪২)

এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিন্মের কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে:

* আদদুররুল মুখতার, চুরি অধ্যায়, খণ্ড-৬/পৃষ্ঠা-১৪৪

* তানভীরুল আবসার মায়াদদূর- চুরি অধ্যায়, খণ্ড-৬/পৃষ্ঠা-১৪৪

* আল মাবসুত আস সারাখসি- চুরি অধ্যায়-  খন্ড-৯, পৃষ্ঠা-১৩৭

* আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস- খন্ড-২ পৃষ্ঠা-৪১৪

* আল জামে লি আহকামিল কুরআন- কুরতুবী খন্ড-৬, পৃষ্ঠা -১৬১

* তাবয়ীনুল হাকায়েক, চুরি অধ্যায়, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা- ৩১৩ (শামেলা)

* ইলাউস সুনান, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা- ৬৯৪ (ইদারাতুল কুরআন থেকে ছাপা)

সম্মানিত পাঠক!  চুরির মাসআলায় যেখানে বিভিন্ন সুরতের বিভিন্ন হুকুম রয়েছে, সে ক্ষেত্রে অজ্ঞাত একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে তালিবান শরিয়াহ আইন প্রয়োগ করছে না দাবি করা ইনসাফ হতে পারে না এবং ইসলামী শরিয়াহ ও ফিকহের বিষয়ে না জেনে মত দেওয়া অত্যান্ত বিপদজনক। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল বিষয়ে শরীয়াতের নীতি অনুযায়ী চলার তাওফীক দান করুন। আমিন।

2 মন্তব্যসমূহ

  1. আমি প্রথমেই সন্তুষ্ট ছিলাম৷ এজন্য যে৷ ১ম
    কারন হচ্ছে
    তারা ইসলাম থেকে অনেক দূরে তাই
    ২য় হচ্ছে প্রথমে তাদেরকে দিন সম্পর্কে জানাতে হবে
    ৩য় আমরা সবাই ইসলাম থেকে প্রায় ১০০ বছর
    বিচ্ছিন্ন ছিলাম৷ দিনের বিধান সম্পর্কে অনেক
    মানুষ জানেনা??

    • ওহ্, এখন দেখি সবাইর সুর অন্যরকম হয়ে গেলো!

      দরবারী আলেমরা যখন বলে, জিহাদ করতে হলে সব সেনাকে দীন পৌঁছাতে হবে, তখন মুজাহিদরা বলে সাহাবায়ে কেরাম সবাইর কাছে কী দীন পৌঁছাইছে? নাকি রাজাকে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছে, কবুল না করলে জিজিয়া দাও নাহয় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও? তখনতো সবাইকে দীন বুঝানো হয় নাই। এখন কেন ইসলাম বুঝাতে হবে? তারা কী এটা জানে না?

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন