“আমাদের অধিকার সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই পশ্চিমাদের”: আফগান নারী

2
1937
“আমাদের অধিকার সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই পশ্চিমাদের”: আফগান নারী

২০২১ সালের ১৫ই আগস্ট রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসেন ইসলামি ইমারত আফগানিস্তান। এর আগে আমেরিকার গোলাম ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শাসনামলে অনৈসলামিক রীতি-নীতিতে চলতো দেশটি; বেহায়াপনা, অশ্লীলতায় সয়লাব ছিল পুরো দেশ। নবগঠিত ইসলামি সরকারের কাঁধে তাই অনেক দায়িত্ব।

আফগানিস্তানে ইসলামি অনুশাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন ইসলামি ইমারত। এর মধ্যে একটি হলো, নারীদের শিক্ষার জন্য নিরাপদ ও ইসলামি পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এই বিষয়টি সহ্য হয়নি পশ্চিমা ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর। তারা আফগান নারীদের অধিকার রক্ষার নামে ইসলামি ইমারতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়ে গেছে। কেমন যেন আফগান নারীরা নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য পশ্চিমাদের ওকালতির দায়িত্ব দিয়েছে! কিন্তু নবগঠিত ইসলামি ইমারত ও কথিত এসব নারী অধিকার কর্মীদের ব্যাপারে আফগানিস্তানের নারীদের কী অভিমত? সেই বিষয়টি জানতে সম্প্রতি ফাইভ পিলারস নামক একটি মিডিয়া কাবুল এডুকেশন ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছে এবং সেখানের কয়েকজন শিক্ষিত মুসলিম নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে কাবুল এডুকেশন ইউনিভার্সিটির নারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আফগানিস্তানে সেক্যুলার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ইসলামি সরকার ক্ষমতায় আসার ঘটনাকে তাঁরা কীভাবে দেখছেন? আফগান শিক্ষিত নারীরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের সাবেক সরকার ছিল বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিবাজ সরকার এবং তাদের বিদেশী সহযোগীরাও ছিল ভয়ানক অপরাধী। নিয়মিত যারা অপরাধ-অপকর্ম করে বেড়াত। তাই, আফগান জনসাধারণ একটি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছিল। এখন তালিবানের ক্ষমতাগ্রহণকে অধিকাংশ আফগান জনগণের মতো আফগান নারীরাও মনে করছেন যে, ভালো কিছুর জন্যই এই পরিবর্তন হচ্ছে।

ইউনিভার্সিটির ঐ নারীদের কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, বর্তমান নতুন ইসলামি শাসনাধীনে একজন নারী হিসেবে তাঁদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে?

তাঁরা জানিয়েছেন, সাবেক আফগান প্রশাসনের মন্ত্রণালয়গুলোতে নারীদের হয়রানি করা হতো। এমনকি কিছু কিছু রিপোর্টে এসেছে, রাষ্ট্রপতির বাসভবনেও নারীদের হয়রানি করা হয়েছে। কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে চাকরির জন্য গেলে নারীদেরকে ইসলামবিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হতো। যেমন: নারীদেরকে সরকারি চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বলা হতো। কিন্তু কোনো মুসলিম নারী এই ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন না। এই কারণে নারীরা চাকরির আবেদন করতে পারতেন না। এখন আমরা দেখছি, ইসলামি ইমারত ইসলামি শরীয়াহ প্রয়োগ করছেন। এই আইন নারীদেরকে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক চাকরি কিংবা ব্যবসা করার সুযোগ প্রদান করে।

আফগানিস্তানের এই শিক্ষিত নারীরা আরও জানিয়েছেন, সাবেক আফগান সরকারের আমলে নারীদের জন্য অন্যতম সমস্যা ছিল কথিত নারী অধিকার কর্মীরা। তারা আসলে পশ্চিমাদের নিয়োগকৃত ছিল, আফগান নারীরা তাদেরকে নিজেদের ওকিল হিসেবে নির্বাচিত করেননি। কথিত এই নারী অধিকার কর্মীরা ইসলাম ও আফগান মূল্যবোধ অনুসারে কাজ করতো না, তাদের চিন্তাধারা অধিকাংশ আফগান নারীর বিপরীত ছিল। তারা ছিল পুরুষবিদ্বেষী, পরিবার ও স্বামীর প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। তাই অধিকাংশ আফগান নারীই মনে করেন, কথিত এই নারী অধিকার কর্মীরা আফগান নারীদের অধিকার আদায়ে যথাযথভাবে কাজ করেনি।

বর্তমানে পশ্চিমারা আফগান নারীদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করছে। তারা বলছে, আফগানিস্তানে নারীরা তাঁদের অধিকার হারাচ্ছেন, তাঁদের কাজ করার অধিকার নেই, তাঁদের জীবন সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। এসব বিষয়ে একজন আফগান নারী হিসেবে কাবুল এডুকেশন ইউনির্ভার্সিটির নারীরা কী ভাবেন—তা জানতে চাওয়া হলে তাঁদের মধ্যে একজন জানান, পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা নারীদেরকে যেকোনো সম্ভাব্য নিকৃষ্ট উপায়ে অপব্যবহার করেছে। তবুও এই পুঁজিবাদীরা যে আফগানিস্তানে নারী অধিকারের ব্যাপারে নিজেদের উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছে, তা খুবই হাস্যকর। তারা বিগত ২০ বছর যাবৎ এই ‘নারী অধিকার’ টার্ম ব্যবহার করেছে, অথচ এই পশ্চিমারা মুসলিম নারীদেরকে নিজেদের পছন্দমতো কথা বলার কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেয়নি। যাইহোক, আমি নিজে অনেক বছর পশ্চিমা দেশগুলোর একটিতে বসবাস করেছি। তারা আমার সাথে আমার হিজাব ও ধর্ম, এমনকি আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারেও বৈষম্য করেছে। আমরা দেখেছি, পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিম নারীদেরকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁদেরকে স্কুল, ইউনিভার্সিটি এবং পাবলিক প্লেস থেকে বহিষ্কার করা হয় কেবলমাত্র নিজেদের ধর্ম পালনের কারণে! আমার জীবনের অন্যতম স্বপ্ন ছিল, একটি ইসলামি দেশে বসবাস করা। এখন দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে ইসলামি ইমারত আফগানিস্তানে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পশ্চিমারা কেন এই ব্যাপারে এত ক্ষিপ্ত? কেন তারা আমাদেরকে ইসলামি ইমারতকে গ্রহণ করে খুশি হওয়ার জন্য দিচ্ছে না? আমরা যা চাই, তা ভালোবাসতে দিচ্ছে না?

এছাড়াও, সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটিতে কাবুল এডুকেশন ইউনিভার্সিটির ঐ শিক্ষিত আফগান নারীরা পশ্চিমাদের কথিত নারী অধিকারের যৌক্তিক সমালোচনা করেছেন এবং ইসলামি শাসনাধীনে একজন নারী কী ধরনের অধিকার পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পশ্চিমাদেরকে আফগান নারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ওকালতি দেননি কিংবা দিতেও চান না। বরং, আফগানিস্তান ইসলামি ইমারতই নারীদেরকে শিক্ষা, চাকরি কিংবা অন্য অধিকার প্রদানের সর্বোত্তম পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। একজন নারী ইসলামি ইমারতের শাসনাধীনেই সর্বাধিক নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ অধিকার পাবেন বলে আশা রাখেন আফগানিস্তানের ঐ শিক্ষিত নারীগণ।

সাক্ষাৎকার: Afghan women: “The West has no right to lecture us about rights” https://tinyurl.com/yckkpxzk

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন