বন্দি সন্তানদের দেখার অপেক্ষায় থেকেই চলে যান কাশ্মীরি মায়েরা

উসামা মাহমুদ

0
1289
বন্দি সন্তানদের দেখার অপেক্ষায় থেকেই চলে যান কাশ্মীরি মায়েরা

কাশ্মীরে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী বাহিনী অন্যায়ভাবে হাজারো মুসলিম যুবকদের গ্রেফতার করছে। অনেককে গুম করে খুন করেছে। যাদেরকে আটক করেছে তাদেরকে বিনা অপরাধে বছরের পর বছর জেলে বন্দি করে রেখেছে। আর তাদের পিতা মাতা,আত্মীয় স্বজন অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে কখন তাদের কলিজার টুকরা জালেমদের হাত থেকে মুক্তি পাবে। অপেক্ষার প্রহর গুনতেই গুনতেই অনেক পিতা-মাতা দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।

এমনই এক অসহায় মা মুনেরা বানু। তার ছেলে আইজাজ আহমেদ নায়েক ৬ মে, ২০১৯ থেকে হিন্দুত্ববাদী বাহিনীর হাতে বন্দি আছেন। তিনি তার বন্দী পুত্রের জন্য গত দুই বছর আট মাস অপেক্ষায় ছিলেন। ছেলেকে দেখার জন্য তিনি মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা করেছেন।

প্রায়ই ঐ অসহায় বৃদ্ধা বলতেন, “তোমরা কি আমাকে আমার ছেলে আইজাজের সাথে দেখা করতে সাহায্য করতে পারবে, আমি তাকে শেষবারের মতো দেখতে চাই।”
এইটাই ছিল মুনিরা বানুর শেষ কথা। অবশেষে ছেলেকে দেখার এই আক্ষেপ সাথে নিয়েই ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

২০০০ সালে, আইজাজের বাবা, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নায়েক, একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ তিনটি ছোট বাচ্চা রেখে গিয়েছিলেন তিনি।
মুনীরা তার পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। তিনি তার সন্তানদের কঠিন পরিস্থিতিতে বড় করেছেন এই আশায় যে, তারা একদিন তার দুঃখের অবসান ঘটাবে।

দ্বাদশ শ্রেণী পাশ করার পর আইজাজ তার পরিবারের জন্য জীবিকা নির্বাহের তাগিদে স্কুল ছেড়ে দেন। ব্যাংক থেকে বন্ধকী ঋণ নিয়ে তিনি বাড়ির বাইরে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরিবারের জন্য তিনি খুব কমই দুবেলা খাবারের টাকা রোজগার করতে পারতেন।

আইজাজের একজন প্রতিবেশী তারিক আহমেদ বলেছেন, “৬ই মে ২০১৯-এর সেই ভয়ঙ্কর দিনে আমরা আমাদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম, যখন হিন্দুত্ববাদী বাহিনী তল্লাশির নামে আইজাজের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ তাকে আটক করে এবং জয়নাপোরার একটি স্থানীয় থানায় তাকে নিয়ে যায়।
“সেখানে এক মাস কাটানোর পর, তাকে পুলওয়ামা জেলে পাঠানো হয়েছিল যেখান থেকে তাকে শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এবং শ্রীনগর থেকে তাকে কাঠুয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে, কাঠুয়া থেকে তিনি আবার সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তরিত হয়েছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে বন্দী রয়েছেন।”

আইজাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই, ৩৭০ ধারা বাতিলের কারণে উপত্যকায় কারফিউ জারি করায় মুনিরার জন্য তার জেলে থাকা ছেলেকে দেখতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর কারফিউ উঠিয়ে নেওয়ার পরই করোনা মহামারীর কারণে বন্দীদের কারও সাথে দেখা করতে নিষেধ করা হয়।
আর এভাবেই দিনের পর দিন ছেলেকে দেখার আক্ষেপ নিয়ে মুনিরা বানু মারা গেলেন।

নিভৃতে চলে গেলেন মুনিরা, আর আমামদের জানিয়ে দিয়ে গেলেন কাশ্মীরি মায়েদের বুকে পাথর চাপা দিয়ে দিন যাপনের গল্প। হয়তো পৃথিবীবাসীকে জানিয়ে গেলেন কাশ্মীরি মুসলিমদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান।

তথ্যসূত্র:
—–
১। Kashmiri mother dies without meeting her jailed son
https://tinyurl.com/2x56wter

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন