কারণ ছাড়াই মুসলিম সাংবাদিকদের বিদেশ ভ্রমনে হিন্দুত্ববাদীদের নিষেধাজ্ঞা

উসামা মাহমুদ

0
296

কাশ্মীরি মুসলিম সাংবাদিক আকাশ হাসান। হিন্দুত্ববাদীরা কোন কারণ ছাড়াই তাকে বিদেশ ভ্রমনে বাধা দিয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিৎজার বিজয়ী কাশ্মীরি ফটোসাংবাদিক সান্না ইরশাদ মাট্টুকে বিদেশ ভ্রমণে বাধা দিয়েছিল হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। এবার সাংবাদিক আকাশ হাসানকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেয় তারা।

গত ২৬ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছার পর হাসান তার বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। ইমিগ্রেশনের দিকে যাওয়ার সময় তার পাসপোর্ট চেক করে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। এবং তাকে সামনে যেতে বাধা দেয়।

কাশ্মীরি সাংবাদিক আকাশ হাসান বলেছেন, “আমাকে প্রথমে বলা হয়েছিল যে আমার পাসপোর্টে কিছু সমস্যা আছে। আমাকে সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। যখন এয়ারলাইন কর্মীরা আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে আসে, তখন তাদের বিমান থেকে আমার লাগেজ নামিয়ে ফেলতে বলা হয়। ইতিমধ্যে তাকে অহেতুক প্রশ্ন, পরিবার এবং পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হয়রানি করা হতে থাকে। অভিবাসন কর্মকর্তারা তার বোর্ডিং পাস এবং পাসপোর্টে স্ট্যাম্প লাগিয়ে দেয় – “পূর্ব ঘোসণা ছাড়া বাতিল করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “আইজিআই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আমাকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে একটি ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেয়। আমি সেদেশের বর্তমান সংকট সম্পর্কে রিপোর্ট করতে যাচ্ছিলাম। অভিবাসন কর্মকর্তারা আমার পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস নিয়ে আমাকে একটি ঘরে বসিয়ে রাখে।”

এ দীর্ঘ সময় হিন্দুত্ববাদীরা তাকে পানিও খেতে দেয়নি। প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে, হাসান নিশ্চিত হয়ে যান হিন্দুত্ববাদীরা তাকে বিদেশ ভ্রমণ করতে অনুমতি দিবে না। তাই তিনি এ বিষয়ে একটি টুইট করে স্ট্যাম্প সহ তার বোর্ডিং পাসের একটি ছবিও আপলোড করেছিলেন।

আরেকটি টুইটে হাসান বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী অফিসাররা তাকে চলে যেতে কলেছে। কারণ জানতে চাইলে, অফিসাররা জবাব দেয় – আমরা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং তারা (উচ্চতর ব্যক্তিরা) বলেছে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না। সাংবাদিক হাসান, যিনি প্রায়শই গার্ডিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থাগুলিতে কাজ করেন, তিনি কলাম, গল্প, রিপোর্ট করতে বিদেশ ভ্রমণের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট পেয়েছিলেন। তবে তিনি কাশ্মীরি মুসলিম সাংবাদিক হওয়ায় তাকে বিদেম ভ্রমনে বাধা দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগেই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বরাত দিয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সানা মাট্টুকে বিদেশে ভ্রমণে নিষেধ করে। মাট্টু একটি বই লঞ্চ ইভেন্টে যোগ দিতে এবং একটি ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীতে অংশ নিতে প্যারিসে যাচ্ছিলেন। পরে তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়।

২০১৯ সালে আরেক প্রবীণ কাশ্মীরি সাংবাদিক গওহর গিলানিকে দিল্লি বিমানবন্দরে জার্মানিতে সাংবাদিকদের সম্মেলনে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, এবং অভিযোগ করা হয়েছিল যে নিষেধাজ্ঞার জন্য তাকে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে না।

এর আগে, ভারতীয় সাংবাদিক রানা আইয়ুবকেও মুম্বাই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দ্বারা জারি করা লুকআউট সার্কুলার (এলওসি) এর ভিত্তিতে বাধা দিয়েছিল।

হাসান বলেন, “এমনকি আমার বিরুদ্ধে এমন কোনও বিচারাধীন মামলা নেই যা এইরকম কিছু হতে পারে। এটি স্পষ্টতই সাংবাদিকদের ভয় দেখানো এবং হয়রানির আরেকটি উপায়।…এখন তারা আমাদের কাজ করতেও বাধা দিচ্ছে। তারা আমাদের ক্রমবর্ধমান এবং আমাদের কর্মজীবনের সুযোগগুলি প্রসারিত না করে বন্ধ করে দিচ্ছে।”

যে কোনও সাংবাদিকের জন্য ভ্রমণ একটি অপরিহার্য অংশ। তা ছাড়াও, ভ্রমণ মানুষের মৌলিক অধিকার।

হাসান বিশ্বাস করেন যে, এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র তার উপর নয়, অন্যান্য মুসলিম সাংবাদিকদের উপরও ক্যারিয়ারের সুযোগ অন্বেষণ থেকে মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। “এখন আমার মাথার সমস্ত কাজ শূন্য হয়ে যাচ্ছে যে, আমার উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি আমার বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে এবং এটি সম্ভবত আমার ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে।”

হিন্দুত্ববাদীরা ইসলাম বিদ্বেষের কারণেই মুসলিমদের উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হয়রানি করে। যদিও তারা মিডিয়ায় বিশ্ববাসির সামনে সকলের সমান অধিকারের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে হিন্দুত্ববাদী ভারতে মুসলিমদের কোন অধিকার নেই।


তথ্যসূত্র:
——–
1. Kashmiri Journalist Aakash Hassan Stopped From Boarding Flight to Sri Lanka
https://tinyurl.com/2jap8vjk
2. Another Kashmiri journalist gets banned from travelling abroad
https://tinyurl.com/2p8bb8sz

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন