
ইমারতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় আসার পর থেকে কমপক্ষে ১,১০০ মাদক উৎপাদন কারখানা নির্মূল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদক নির্মূল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হক হামকার।
ইসলামের মূলনীতির আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হলে মাদকদ্রব্য পরিপূর্ণ নির্মূল করা ব্যতিত বিকল্প কোনো পথ নেই। ইমারতে ইসলামিয়া সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাদকদ্রব্য নির্মূলে ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এসেছে।
মাদক নির্মূল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হামকার এক সাক্ষাৎকারে টলোনিউজকে জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ৭ শতটি মাদকদ্রব্য বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানগুলোতে মোট ১৩ হাজার ৭ শত মাদকাসক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করা হয় এবং তাদেরকে সুপ্রিম কোর্টের আওতায় আনা হয়েছে।
ইমারতে ইসলামিয়া সরকারি কর্তৃপক্ষের ডিক্রির ভিত্তিতে আফগানিস্তানে মাদকের চাষ ও উৎপাদন কমে এসেছে বলে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় মত প্রকাশ করেন। তাছাড়া মাদক মোকাবেলায় সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি বলে তিনি নিন্দা জ্ঞাপন করেন। আফগানিস্তানে মাদক ও পপি চাষ নির্মূল করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন ।
বর্তমানে দেশে ৩ মিলিয়নের অধিক মাদকাসক্ত রয়েছে । তন্মধ্যে ১ লক্ষের অধিক ব্যক্তিকে ইমারত সরকারের উদ্যোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। গ্রেফতারের পর আশ্রয়হীন মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয় । তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে নিজ ঘরে ফিরে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে বলে তিনি অবগত করেন।
গত ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৪ ইং আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হেরাত প্রদেশের মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা শেষে প্রায় ৩৫২ জন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ অবস্থায় নিজ পরিবারে ফেরত দেওয়া হয়েছিলো।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ভাং তৈরির মূল উপাদান গাঁজা ও পপি চাষে ব্যবহৃত প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি থেকে এগুলোর উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাদকাসক্ত গ্রেফতার, পুনর্বাসন, মাদক কারখানা ধ্বংস ইত্যাদি উদ্যোগের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার ও তাদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে ইমারত সরকার তৎপর ভূমিকা পালন করে আসছে।