২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে ২১ জনকে শহীদ, ৪,৬৫০ জনকে গ্রেপ্তার, ২৫৩টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ৫২টি ভবন ধ্বংস করেছে দখলদার ভারতীয় বাহিনী

0
0

দখলদার ভারতীয় বাহিনী তাদের লাগাতার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে অবৈধভাবে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ২১ জন কাশ্মীরিকে শহীদ করেছে।

কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের গবেষণা বিভাগ কর্তৃক ১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ভারতীয় সেনাবাহিনী, রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ), স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) এবং কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (সিআইকে), ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) ও স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)-সহ বিভিন্ন কুখ্যাত সংস্থা ১,৫৫০টি কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন (সিএএসও) এবং বাড়ি তল্লাশির সময় যুবক, ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও নারীসহ ৪,৬৫০ জন বেসামরিক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃতদের অনেকের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন এবং জননিরাপত্তা আইন (পিএসএ)-এর মতো কঠোর আইনে মামলা করা হয়েছিল।

প্রকাশিত তথ্য থেকে আরও জানা গেছে যে, এই সময়কালে ভারতীয় পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করার পর অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

এছাড়াও, ঔপনিবেশিক ধাঁচের দমনপীড়ন আরও তীব্র করে, নয়াদিল্লি-নিযুক্ত লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার নেতৃত্বাধীন এবং ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন কাশ্মীরিদের আবাসিক বাড়ি, জমি, দোকান, প্রতিষ্ঠান এবং যানবাহনসহ ২৫৩টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বছরের প্রথম সাত মাসে আবাসিক বাড়িসহ অন্তত ৫২টি সম্পত্তি ভেঙে দিয়েছে।

কাশ্মীর পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, সম্পত্তির এই অবৈধ বাজেয়াপ্তকরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের কাশ্মীরিদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা, রাজনৈতিক ভিন্নমতকে শাস্তি দেওয়া এবং অধিকৃত অঞ্চলে চলমান স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করার কৌশলেরই অংশ।

তারা বলেছেন, ভারতীয় বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা এই অব্যাহত হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীরিদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা, কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ কাশ্মীরিদের স্বাধীনতার সংকল্পকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, হুরিয়াত নেতা, কর্মী, যুবক, ছাত্র, সাংবাদিক এবং কয়েক ডজন নারীসহ হাজার হাজার কাশ্মীরি ভারত এবং অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের কারাগারগুলোতে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। বিশিষ্ট বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন এপিএইচসি চেয়ারম্যান মাসাররাত আলম বাট, মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিক, শাব্বির আহমেদ শাহ, আসিয়া আন্দ্রাবি, নাহিদা নাসরিন, ফেহমিদা সোফি, নাঈম আহমেদ খান, মোহাম্মদ আয়াজ আকবর, পীর সাইফুল্লাহ, মেরাজুদ্দিন কালওয়াল, ফারুক আহমেদ দার, অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মিজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, ড. মুশতাক-উল-ইসলাম, বিলাল সিদ্দিকী, মৌলভী বশির উসমানি, ফায়াজ হোসেন জাফরি, জাফর আকবর বাট, অ্যাডভোকেট জাহিদ আলী, ডক্টর মুহাম্মদ কাসিম ফাখতু, রফিক আহমদ গানাই, গোলাম মুহাম্মদ খান সোপোরি, এবং ফারুক আহমেদ তাওহীদী।

কাশ্মীরিদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করার কারণে এই রাজনৈতিক বন্দীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দীর্ঘকাল কারাবাসের শিকার হচ্ছেন।


তথ্যসূত্র
– https://tinyurl.com/h6p5whke

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধউত্তর ও মধ্য মালিতে জেএনআইএম-এর ৪ অভিযান: ঘাঁটি বিজয় সহ অসংখ্য জান্তা সদস্য হতাহত