৫ বছরে ১০৩ দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া

0
4

গত পাঁচ বছরে স্বাধীন এবং প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১০০টিরও অধিক দেশের সাথে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া। একই সময়ে চীন, রাশিয়া, সৌদি, কাতার, আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত সহ ৪০টিরও অধিক দেশে কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইমারাতে ইসলামিয়ার সঙ্গে ১০৩টি দেশ ও বিভিন্ন পক্ষের মোট ৩ হাজার ৬৫১টি কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কাবুলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান, চীন, তুরস্ক, কাতার ও উজবেকিস্তান। এসব দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের আগের গবেষণাগুলোতেও দেখা গেছে, ইমারাতে ইসলামিয়ার সঙ্গে চীন, তুরস্ক, ইরান ও কাতারের কূটনৈতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া একমাত্র দেশ, যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে বিভিন্ন দেশ কাবুলের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কয়েকটি দেশ কাবুল কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া কূটনীতিকদের গ্রহণ করেছে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত করেছে।

গবেষণায় ইমারাতে ইসলামিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতার বিস্তৃত পরিধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈঠক ও যোগাযোগে মানবিক সহায়তা, অর্থনৈতিক সুযোগ, শিল্প বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

ইমারাতে ইসলামিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীন, তুরস্ক, ইরান, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের পাশাপাশি কাবুলের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্কও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন বহুপক্ষীয় বৈঠকও নতুন দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।

আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধতা থাকলেও কাবুলের সঙ্গে বাস্তব যোগাযোগের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, কূটনীতিক গ্রহণ এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করছে। আঞ্চলিক ও এশীয় শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ইমারাতে ইসলামিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধীরে ধীরে শক্তিশালী করছে।


তথ্যসূত্র

1. Five Years of Taliban Diplomacy: Recognition Without Concessions
– https://tinyurl.com/48kp6hp6

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধগাজার ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী
পরবর্তী নিবন্ধপর্তুগালে মুসলিম নারীরা নিকাব পরলে ৪ লাখ টাকা জরিমানা