
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বর্বর ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। একই সময়ে শিশু, গর্ভবতী নারী ও সন্তানকে দুধ পান করানো মায়েদের জন্য সংরক্ষিত পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর একটি গুদামও ধ্বংস হয়েছে।
মঙ্গলবার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে বেইত লাহিয়ায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি শহীদ ও আরও কয়েকজন আহত হন বলে আল-শিফা হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। এর আগে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বেসামরিক মানুষের একটি সমাবেশে চালানো ইসরায়েলি হামলায় একজন শহীদ ও তিনজন আহত হন।
এ ছাড়া খান ইউনিসে আগের ইসরায়েলি হামলায় আহত আরও তিন ফিলিস্তিনি পরে শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন সোমবারের হামলায় আহত হয়েছিলেন এবং অপরজন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আহত হয়েছিলেন।
এদিকে মঙ্গলবার ভোররাতে চালানো বর্বর ইসরায়েলি হামলায় শিশু, গর্ভবতী নারী ও সন্তানকে দুধ পান করানো মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষিত একটি গুদামও ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সহায়তাকারী একটি মানবিক সংস্থা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বড় অংশ ধসে পড়ে এবং সেখানে থাকা সব খাদ্যসামগ্রী ধ্বংস হয়ে যায়।
গুদামটি স্থানীয় একটি মানবিক সংস্থার ছিল, যারা ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে গাজার প্রায় ৬০টি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১০০ নারী ও শিশুকে সহায়তা দিয়ে আসছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খাদ্যসামগ্রী হারানোর ঘটনায় শিশু ও নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক চিকিৎসক মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, অব্যাহত হামলার পাশাপাশি অক্সিজেনের তীব্র সংকটে গাজার মানুষের জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজনীয়তাগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজায় থাকা প্রায় ৩৪টি অক্সিজেন সরবরাহকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১২টি বর্তমানে চালু রয়েছে। আরও কোনো কেন্দ্র অচল হয়ে পড়লে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তথ্যসূত্র
1. Seven killed in Gaza as Israeli strike ‘destroys’ aid supply warehouse
– https://tinyurl.com/bdhprt9b


