
আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) যোদ্ধারা, গত ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর ৪টি রাজ্যে অন্তত ১৪টি পৃথক সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন। এতে কয়েক ডজন জান্তা ও মিলিশিয়া সদস্য হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
আয-যাল্লাকা মিডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরোধ বাহিনী জেএনআইএম যোদ্ধারা, গত ২১ এবং ২২শে সেপ্টেম্বর বুরকিনা ফাসোর কায়া রাজ্যের ফুনসা, টুগুরি এবং নিয়াগোডোতে তিনটি সামরিক অবস্থানে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন। প্রতিরোধ যোদ্ধারা এসকল অভিযানের মাধ্যমে ২টি অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নেন, যখন জান্তা বাহিনীর অন্তত ৫ সৈন্য নিহত হয়েছে। অভিযানগুলো শেষে বিভিন্ন অস্ত্র, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম জেএনআইএমের হস্তগত হয়।
এরপর গত ২৪শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়, জেএনআইএম যোদ্ধারা উয়াহিগুয়া রাজ্যের কালয়ো এবং হাউরিমা এলাকায় ২টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানের মাধ্যমে প্রতিরোধ যোদ্ধারা একটি সামরিক পোস্ট এবং ১টি মিলিশিয়া সদর দপ্তরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন।
এর একদিন পর, প্রতিরোধ যোদ্ধারা বুরকিনা ফাসোর দেদুগু রাজ্যের প্রাদেশিক শহরের নিকটবর্তী সেলমুসিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় প্রতিরোধ যোদ্ধারা বুরকিনান জান্তা বাহিনী এবং তাদের মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ৪টি সামরিক চৌকির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন।
এমনিভাবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর, প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফের দেদুগু রাজ্যের সেলমুসেরিতে একটি সফল গেরিলা আক্রমণ চালান। এতে ২ মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয়। এদিন টেনকোডোগো রাজ্যের লালিগাইল এলাকাতেও জান্তা বাহিনীর একটি অবস্থানের উপর আক্রমণ চালান জেএনআইএম যোদ্ধারা। আক্রমণের শুরুতেই জান্তা সদস্যরা জীবন বাঁচাতে তাদের একটি মৃতদেহ যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রেখেই সামরিক অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিরোধ যোদ্ধারা সামরিক অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বহু সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র এবং মোটরসাইকেল গনিমত হিসেবে অর্জন করেন।
এদিকে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর, জেএনআইএম যোদ্ধারা কায়া রাজ্যের কাছাকাছি তুগুরিতে সেনাবাহিনীর একটি সদর দপ্তর এবং ভিডিপির (মিলিশিয়া) একটি সামরিক অবস্থানে অতর্কিত আক্রমণ চালান। অভিযানের মাধ্যমে জেএনআইএম যোদ্ধারা উভয় অবস্থানের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
জেএনআইএম নিশ্চিত করেছে যে, একই দিনে তারা ওয়াহিগুয়া রাজ্যের কেলিও এলাকায় অবস্থিত জান্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যারাকের উপর শক্তিশালী অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত লড়াই শেষে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ব্যারাকটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন, আর এই বিজয়ের ফলে ব্যারাকে অবস্থিত বিশাল অস্ত্রাগারটিও জেএনআইএমের হস্তগত হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
– https://chirpwire.net/thread/1099430
– https://chirpwire.net/thread/1099418
– https://chirpwire.net/thread/1099411
– https://chirpwire.net/thread/1099253
– https://chirpwire.net/thread/1099159
– https://chirpwire.net/thread/1099158
– https://chirpwire.net/thread/1099149


