
ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির (HLCDC) কার্যক্রমকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উক্ত কমিটি রাজ্য সরকারগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের তথ্য আহ্বান করেছে। এতে ভারতের মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুসলমানদের পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।
ভারতের হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্যোগে গত ২৬ মে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি (HLCDC) গঠন করা হয়। হিন্দুত্ববাদী সরকারের দাবি, কমিটির দায়িত্ব হলো অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য কারণে ভারতে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনা করা।
অপরদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, কমিটির তথ্য সংগ্রহের পরিধি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বিস্তৃত। এতে নাগরিকদের ধর্ম অনুযায়ী গাড়ির নিবন্ধন ও জমির মালিকানা, ভোটার ও আধার কার্ড নিবন্ধন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ধর্মান্তর এবং ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের মতো তথ্য চাওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারগুলোর কাছে কমিটির পাঠানো প্রশ্নমালায় গত ১৫ বছরের বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কোন ধর্মের কত মানুষ কত গাড়ি কিনেছেন, কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীর কত জমি বা সম্পত্তি রয়েছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা কোথায় কোথায় তৈরি হয়েছে, মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের GIS ম্যাপিং, উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মান্তরের তথ্য এবং সীমান্তবর্তী ও আদিবাসি এলাকাগুলোতে ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ইত্যাদি।
সমালোচকদের আশঙ্কা, ধর্মভিত্তিক এত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করতে ব্যবহার করা হতে পারে।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কমিটির কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন। সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ওয়াইসি বলেন, আমরা যখন মোদী সরকারের কাছে মুসলিমদের শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছিলাম, তখন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। অথচ অমিত শাহের ‘ডেমোগ্রাফি কমিশন’ এখন রাজ্যগুলোর কাছে জানতে চাইছে কোন ধর্মের মানুষ কতগুলো গাড়ি কিনেছে, কার কত জমি আছে—ইত্যাদি।
তার দাবি, তথ্যের ভিত্তিতে উন্নত নীতি প্রণয়ন করা এই কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন ও বিকৃত করা হতে পারে, যাতে মুসলিমদের টার্গেট করা যায় এবং তাদের অবশিষ্ট নাগরিক অধিকারও কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2xxzfdsu


