
সোমালিয়ার নিম্ন জুবা রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কুধা দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিনরা। এসময় মুজাহিদদের তীব্র আক্রমণে শত্রু বাহিনীর অন্তত ১১৩ সৈন্য নিহত এবং ৪৭ সৈন্য আহত হয়েছে।
দক্ষিণ সোমালিয়ার নিম্ন জুবা রাজ্যের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর কিসমায়ো, গত ২১শে জানুয়ারি বুধবার ভোরে, শহরটির নিকটবর্তী ভারত মহাসাগরে অবস্থিত কুধা দ্বীপে বৃহৎ পরিসরে একটি অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন আশ-শাবাব মুজাহিদিনরা। সোমালিয়ার সাথে কেনিয়ার সামুদ্রিক সীমান্তের কাছের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটিতে শত্রু বাহিনীর ৩টি ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুজাহিদিনরা প্রথমে তাদের আক্রমণ শুরু করেন এবং তা ধীরে ধীরে পুরো দ্বীপে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ে।
শত্রু বাহিনীর সাথে তীব্র সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে মুজাহিদিনরা প্রথমে দ্বীপে অবস্থিত স্থানীয় জুবাল্যান্ড মিলিশিয়াদের তিনটি প্রধান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর মুজাহিদিনরা দ্বীপের অন্যান্য স্থানেও মিলিশিয়া সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেন। তীব্র এই লড়াইয়ের সময় মুজাহিদিনরা দ্বীপে অবস্থিত শত্রু বাহিনীর শত শত সৈন্যকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হন। হারাকাতুশ শাবাব প্রশাসনের সামরিক নেতৃত্ব প্রাথমিক এক অডিও বিবৃতিতে উচ্চপদস্থ ৫ কর্মকর্তা সহ ১১৩ শত্রু সৈন্য নিহত এবং আরও ৪৭ সৈন্য গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে। এছাড়াও এই অভিযানের সময় মুজাহিদিনরা জুবাল্যান্ড প্রশাসনের সাথে যুক্ত একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সহ অন্তত ১৬ সৈন্যকে আটক করেছেন।
শাবাব মুখপাত্র শাইখ আবু মুস’আব আবদুল আজিজ হাফিজাহুল্লাহ্ কর্তৃক জারি করা উক্ত বিবৃতিতে শাবাব নিয়ন্ত্রিত ইসলামী প্রদেশগুলোর জনগণকে সুসংবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে তিনি জনগণকে সুসংবাদ জানিয়ে বলেন, শত্রু বাহিনী পরাজিত হয়েছে এবং আমাদের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জনগণকে আরও সুসংবাদ দিয়ে বলেন যে, তাদের কাছে প্রাচীরের মতো মুজাহিদিনরা রয়েছেন, যারা আমেরিকান ক্রুসেডার এবং তাদের ভাড়াটেদের রাতের আক্রমণ প্রতিহত করছেন এবং তাদের প্রশিক্ষিত স্পেশাল ফোর্সের সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় করেছেন। আমাদের বীর মুজাহিদিনরা ইসলামী প্রদেশগুলির বিরুদ্ধে শত্রুর যেকোনও প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, কুধা দ্বীপটি সোমালিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর কিসমায়ো এবং ভারত মহাসাগরের পাশাপাশি কেনিয়ার সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায়, এটিকে কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চল করে তুলেছে। এছাড়াও দ্বীপটি মৎস সম্পদ ও কয়লার মতো খনিজ সম্পদের জন্যও প্রশিদ্ধ। হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিনরা এই বিজয়ের মধ্যে দিয়ে কুধা দ্বীপে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফিরে এসেছেন।


