বেনিনের আরও গভীরে অগ্রসর হচ্ছে আল-কায়েদা শাখা জেএনআইএম

0
1

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট পশ্চিম আফ্রিকা ভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। দলটির মুজাহিদিনরা গত ২৫মে সন্ধ্যায় উত্তর বেনিনের বুরকিনা ফাসো ও টোগো সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সমন্বিত সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছেন।

অভিযানটি সীমান্তবর্তী কোলো অঞ্চলে অবস্থিত বেনিনিজ সেনাবাহিনীর দুটি ব্যারাক লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই অভিযানে জেএনআইএম মুজাহিদিনরা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র শস্ত্রের পাশাপাশি ভারী মেশিনগানও ব্যবহার করেন। এতে বেনিনিজ সেনাবাহিনীতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং অন্য সৈন্যরা জীবন বাঁচাতে সামরিক অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়। সৈন্যদের এই পলায়নের পর মুজাহিদিনরা ২টি সামরিক ব্যারাকেরই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন। এসময় মুজাহিদিনরা ঘটনাস্থল থেকে বহু অস্ত্র শস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম গনিমত হিসাবে অর্জন করেন।

বেনিনের অভ্যন্তরে জেএনআইএম-এর কার্যকলাপ ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের এটিই সর্বশেষ ইঙ্গিত, যা সীমান্ত অনুপ্রবেশ করে অভিযান পরিচালনা থেকে সরে এসে দেশের উত্তরে একটি স্থায়ী উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার দিকে ঝুঁকেছে। এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বুরকিনা ফাসো এবং নাইজারের সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে, বিশেষ করে ডব্লিউ-আর্লি-বেনজারি কমপ্লেক্সের আশেপাশে শুরু হওয়া ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধিরই ধারাবাহিকতা, যা জেএনআইএম-এর জন্য একটি পশ্চাৎ ঘাঁটি এবং উন্মুক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে, বেনিনের আলিবোরি অঞ্চলে সামরিক টহল এবং সরবরাহ কেন্দ্রগুলোর উপর জেএনআইএম-এর অতর্কিত হামলা ও আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এরপর, ২০২৫ সালের ৮ই জানুয়ারি, দলটি ডব্লিউ ন্যাশনাল পার্কের কাছে একটি বড় আকারের হামলার ঘোষণা করে, যার ফলে কমপক্ষে ২৮ বেনিনীয় সৈন্য নিহত হয়। দেশের উত্তরে সশস্ত্র লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে বেনিনীয় সেনাবাহিনীর জন্য এটি ছিল সবচেয়ে বড় একক আঘাত।

২০২৫ সালের এপ্রিলে, এই হামলাগুলো একই সাথে উত্তর বেনিনের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ছড়িয়ে পড়ে। বেনিনীয় কর্তৃপক্ষ পরে ৫৪ সৈন্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। এই অভিযানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, জেএনআইএম সীমিত অভিযান থেকে সরে এসে সামরিক অবকাঠামোকে দুর্বল করা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে অকার্যকর করার লক্ষ্যে বড় আকারের, সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে।

এই সপ্তাহে ঘোষিত “কোলো” অভিযানটি জেএনআইএম এর কৌশলের আরও একটি বিবর্তনকে তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক ঘাঁটিগুলো সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং সেখান থেকে গনিমতের স্থির চিত্রগুলো প্রচারের উদ্দেশ্যে ক্যামেরাবন্দী করে ছড়িয়ে দেওয়া। এটি আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের একটি চিত্র তুলে ধরা এবং উত্তর বেনিনে একটি দৃঢ় উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

ACLED এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মুজাহিদিনরা গিনি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণের কৌশল গ্রহণ করেছেন। এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে ভঙ্গুর সীমান্ত অঞ্চলে অনুপ্রবেশ, সামরিক ফাঁড়িগুলোকে দুর্বল করা, সরবরাহ পথ ব্যাহত করা এবং গ্রামীণ জনপদগুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বেনিনের জন্য বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কারণ আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম-এর কার্যকলাপের কেন্দ্র সাহেলের কেন্দ্রস্থল থেকে পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে স্থানান্তরিত হচ্ছে।


তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/4ktbcwvw

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফিরতে শতাধিক বাংলাদেশির সীমান্তে ভিড়, শুভেন্দুর বার্তা— জলদি ভাগো