এবারে বিবাড়িয়ায় মাদরাসা ছাত্রদের ওপর কাদিয়ানিদের হামলা

0
304

বাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার ছাত্রদের ওপর কাদিয়ানিরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাহাফফুজে খতমে নবুওত মাদরাসার পাশে কাদিয়ানীদের উপাসনালয়ের নিকটে এ ঘটনা ঘটে। এ হামলায় আহত চার ছাত্রকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  এর আগেও বিভিন্ন সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর দেশের কাফের-মুরতাদ ও বাতিলপন্থীরা বার বার হামলা চালিয়েছে, ছাত্রদের রক্তাক্ত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের বরাত দিয়ে ইসলাম টাইমস২৪ নামক বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, কান্দিপাড়া এলাকায় মাদরাসায়ে তাহাফফুজে খতমে নবুওতের পাশেই কাদিয়ানিদের একটি উপাসনালয় আছে। সেখানে গতকাল তারা একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রতি বছর এমন একটি সম্মেলন করে থাকে তারা। এখানে বেশ কিছু মুসলিমকে প্রতি বছরই নতুনভাবে কাদিয়ানি ধর্ম গ্রহণ করানো হয় এবং সম্মেলন থেকে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে নানা আলোচনা চলতে থাকে।

এবারের সম্মেলনের খবর জানতে পেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইউনুসিয়ার কয়েকজন ছাত্র সন্ধ্যার সময় সম্মেলন কর্তৃপক্ষকে বলেন, ইসলামের নামে এমন অনুষ্ঠান করা যাবে না, তাছাড়া আপনারা প্রশাসনের অনুমতিও নেননি। ছাত্ররা তাদেরকে সম্মেলন বন্ধ করার জন্য এ কথা বললে তারা ছাত্রদের দিকে তেড়ে আসে এবং বর্বরোচিতভাবে ছাত্রদের উপর হামলা চালায়।

কাদিয়ানীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিবাড়িয়ার রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে। বাদ ইশা হাজার হাজার ইসলামপ্রিয় জনতা ও মাদরাসার তালিবে ইলমরা প্রতিরোধ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বলে জানায় ইসলাম টাইমস নামক বার্তাসংস্থা।

হামলায় আহত জামিয়া ইউনুসিয়ার এক ছাত্র বলেন, কাদিয়ানিরা যখন আমাদের দিকে তেড়ে আসে তখন অল্প কয়েকজন ছিলাম আমরা। বিতণ্ডার কথা জানতে পেরে খতমে নবুওত মাদরাসার ছাত্ররাও এসে হাজির হন। তখন ফুটে ওঠে কাদিয়ানিদের আসল রূপ। তারা পূর্ব থেকেই অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিল। খতমে নবুওতের ছাত্ররা ছুটে আসতেই তারা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে।

তিনি বলেন, অস্ত্রের মুখে আমরা টিকতে না পেরে খতমে নবুওত মাদরাসার দিকে গেলে তারা মাদরাসা পর্যন্ত আসে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে। এ সময় জামিয়া ইউনুছিয়ার বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে চারজনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাদিয়ানিরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মাদরাসার দিকে এগিয়ে যাবার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হাজির হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবং আগামীকাল এনিয়ে স্থানীয় আলেম ওলামা এবং সরকারি লোকজন পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন বলে জানা গেছে।

কাদিয়ানিদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, কাদিয়ানিরা হলো যিন্দিক। যিন্দিক হলো ঐসকল মুরতাদ, যারা ভ্রান্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করলেও, প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে ইসলামী আক্বিদা অনুপস্থিত। কাদিয়ানিরা যেহেতু গোলাম আহমদ কাদিয়ানি নামক এক ভণ্ড নবীর অনুসারী, আবার নিজেদের তারা মুসলিমও দাবি করে, তাই তাদেরকে যিন্দিক বলা হয়। যিন্দিকের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হলো, যিন্দিক গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করলে তার তওবা কবুল করা হবে, কিন্তু গ্রেফতারের পর তার তওবা কবুল হবে না। গ্রেফতারের পর তাকে হত্যা করা হবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন