উত্তরপ্রদেশে মালাউন পুলিশের বাড়াবাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে অস্থায়ী কারাগারে তাবলিগ জামাত নেতার মৃত্যু

0
427
উত্তরপ্রদেশে মালাউন পুলিশের বাড়াবাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে অস্থায়ী কারাগারে তাবলিগ জামাত নেতার মৃত্যু

ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের জৌনপুর জেলা তাবলিগ জামাতের আমীর নাসিম আহমেদ (৬৫) অস্থায়ী কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।

বুধবার ‘নবভারত টাইমস’ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন ওই তাবলিগ নেতাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় সম্প্রতি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয়েছিল। তিনি এখানে অসুস্থ হলে বারাণসীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে আবারও জৌনপুরের অস্থায়ী কারাগারে পাঠানো হয়। গত (মঙ্গলবার) রাতে ফের আচমকা তার অবস্থার অবনতি হয়। এসময় তাকে জৌনপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

জৌনপুরে অস্থায়ী কারাগারে রাখা জেলা তাবলিগ জামায়াতের প্রধান নাসিম আহমেদের বিরুদ্ধে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের সম্পর্কে তথ্য গোপন করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিলো।

জৌনপুর শহরের ফিরোজপুরের বাসিন্দা নাসিম আহমদকে গত ২ এপ্রিল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিলো। করোনার সংক্রমণের আশঙ্কায় পুলিশ তাদেরকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠায়। সেখানে তাদের শরীরে করোনা ধরা পড়েনি। যদিও পরে তাদেরকে অস্থায়ী কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটে এবং পরে তাকে জৌনপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই তাবলিগ নেতার বিরুদ্ধে ১৪ জন বাংলাদেশীসহ ১৬ তাবলিগ জামাত সদস্যকে একটি বড় মসজিদ থেকে সরিয়ে নিয়ে লাল দওয়াজা এলাকায় একটি বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিলো।

এদিকে, অস্থায়ী কারাগারে তাবলিগ জামায়াতের জেলা প্রধানের মৃত্যুর পরে সেখানে থাকা অন্য তাবলিগ সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

মরহুম নাসিম আহমেদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ব্যবস্থাপনার অবহেলার কারণে নাসিম আহমেদ মারা গেছেন। মরহুম নাসিমের ঘনিষ্ঠ মুহাম্মাদ শোয়েব জানান, নাসিমের আগেও সমস্যা ছিল। নয়াদিল্লীর স্যার গঙ্গারাম এবং লক্ষনৌয়ের পিজিআই হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হচ্ছিলো। পুলিশ কর্মকর্তাদের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাকে বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। যার কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।

সূত্র: পার্সটুডে

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন