মনগড়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

0
217
মনগড়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

করোনার সময় গড় বিলের নামে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কর্তৃপক্ষ অফিসে বসে ইচ্ছেমত মনগড়া অতিরিক্ত বিল করায় গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গ্রাহকরা বলছেন, তাদের মিটারের রিডিং না দেখেই গত বছরের বিলের দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি করে বিল তৈরি করে করোনা সংক্রমণের মধ্যেও যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর লোকজন শার্শা উপজেলার গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে বিদ্যুৎ বিলের কপি দিয়ে যাচ্ছেন। লকডাউন ও সরকারি ছুটির কারণে বিলের জরিমানা নেওয়া হবে না বলা হলেও ব্যাংকে বিল নিয়ে গেলে জরিমানা নেওয়া হচ্ছে। খবর: কালের কন্ঠ

অবশ্য প্রতিটি বিদ্যুৎ বিলের কপিতে সিল মারা আছে ‘আপনার অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনার গত বছরের একই সময়/একই মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে গড় বিল প্রণয়ন করা হলো। কোনো অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তীতে তা সংশোধন/সমন্বয় করা হবে।

এ ব্যাপারে ফজিলাতুন নেছা মহিলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের অধ্যাপক বখতিয়ার খলজি বলেন, গড় বিলের নামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন। প্রতিটি বিলে গেল বছরের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে বেশি ইউনিট দেখানোর কারনে বিলের ধাপও পরিবর্তন হচ্ছে। টাকার অংকও বাড়ছে। ওরা সমন্বয়ের কথা বলছে কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব?

পল্লী বিদ্যুতের বিলের ইউনিট সাতটি ধাপে আদায় করা হয়। লাইফ লাইনের রেট (০-৫০) প্রতি ইউনিট সাড়ে তিন টাকা, ০-৭৫ প্রতি ইউনিট ৪ দশমিক ১৯ টাকা, ৭৬-২০০ প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৭২ টাকা, চার নম্বর ধাপে (২০১-৩০০) প্রতি ইউনিট নেওয়া হয় ছয় টাকা।

এমন অনেক গ্রাহক আছেন যাদের ইউনিটের সংখ্যা কম থাকার পরও গড় বিলে তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে বিল আদায় করা হচ্ছে। পরে তিন মাস পর সমন্বয় করা হবে কীভাবে? তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপের টাকা তো সমন্বয় করা যাবে না, যাবে কেবল ইউনিটের সমন্বয় করা। এখানে বড় একটা শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। করোনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা গ্রাহকের বাঁশ দিচ্ছে।

বেনাপোল নামাজগ্রামের আলি আজগার বলেন, এ কেমন গড় বিল বুঝলাম না। এপ্রিল মাসে আমার বিল এসেছে ১২২৪ টাকা। অথচ গত বছর (২০১৯) এপ্রিল মাসের বিল ছিল ৬৬৭ টাকা। করোনা ভাইরাসের অজুহাতে এরা ডাকাতি করছে। মহামারীতে বেকারত্বের দিনে তিনি এই অতিরিক্ত বিল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানান।

বেনাপোল ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা আওয়াল হোসেন বলেন, সরকার মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বিল পরিশোধে শিথিলতা প্রদান করেছেন। সে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কেন ঘর থেকে বের হয়ে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিল পৌঁছে দিচ্ছেন তা আমার বোধগম্য নয়। নিরাপত্তার কারণে এটা বলতেই পারি, যে ব্যক্তি বাড়ি এসে বিলটি দিয়ে গেল। তিনি কি কভিড-১৯ নেগেটিভ না পজিটিভ তা কি বিদ্যুৎ বিভাগ জানেন? ঐ ব্যক্তি শার্শা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করে বলে দুর্দান্ত প্রতাপে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছেন। মাস্ক বাদে তার কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছর (২০১৯) সালে এপ্রিল মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৮০০ টাকা। কিন্তু এ বছরে সেই বিল দেওয়া হয়েছে ১২৮৪ টাকা।

নয়ন কাজল নামে এক গ্রাহক বলেছেন, এবার আমার বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার টাকার উপরে। করোনার কারণে ২০ দিনে আমি বাপের বাড়ি ছিলাম। বিল দেখে আমার মাথা ঘুরে গেছে।

ফরহাদ হোসেন নামের অপর এক গ্রাহক বলেন, আমার বাড়ির চারটা মিটার। সবাই ভাড়াটিয়া। চারটি মিটারে আগে বিল আসতো যথাক্রমে ৫০০ টাকা, ৩০০টাকা, ১৯৭ টাকা ও ২২০ টাকা। সেই মিটারে এবার বিল এসেছে ১৫০০ টাকা। এত টাকা বিল দেখে তো ভাড়াটিয়ারা হতবাক।

বিডিনিউজ২৪ এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এপ্রিল মাসের বিলের কপি বাসায় দিয়ে গেছে ৬ মে, ওই বিলটি পরিশোধের তারিখ ছিল ২৫ এপ্রিল, বিলম্ব মাশুলসহ পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ৫ মে।

বেনাপোলের শিকড়ি গ্রামের ছাবদার আলি বলেন, বিলম্বে পাওয়া এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিলটি বেনাপোল স্টান্ডার্ড ব্যাংকে জমা দিতে গেলে তারা জরিমানাসহ বিলের টাকা নিয়েছে। জরিমানা নেওয়া হবে না এমন কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগআঁচড়ার এজিএম (কম) মামুন মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিল পরিশোধে বিলম্ব মাশুল দিতে হবে না। ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত হলে পরে সমন্বয় করে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে প্রকৃত হিসাব মেলাতে পারবো না। যেটা হয়েছিলো সেটা বাস্তবতায় হবে না কিছু কমবেশি হবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা রিডিং আনতে পারিনি, মানুষের বাড়ি যেতে পারিনি। আমরা বুঝতেছি কিছু গড়মিল হয়েছে তবে আমাদের অফিস খোলা আছে। আসলে ঠিক করে দিচ্ছি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন