ইসলামফোবিক বিভৎসরূপে সুইডেন ও নরওয়ে

0
311
ইসলামফোবিক বিভৎসরূপে সুইডেন ও নরওয়ে

পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের সামনে হাজির হয় এক রঙিন ঝলমলে কল্পলোকের সন্ধান নিয়ে । তাদের দেয়া তথ্য উপাত্ত ও উপস্থাপনা দেখে মনে হবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ মানে পৃথিবীর বুকে একটুকরো স্বর্গরাজ্য। স্বাধীনতা আর সুখে ভরপুর এক বৈষম্যহীন সমাজ। জাতিসংঘসহ অন্যান্য পশ্চিমা সংস্থার রিপোর্টে শিক্ষা ও মানবিকতার সব সূচকে এ দেশগুলোকে শীর্ষস্থানে দেখানো হয়ে থাকে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, অভিবাসন ও করোনাকালে লিবারেলিজমের জয়গান গাওয়া এ রাষ্ট্রগুলোর ব্যক্তি স্বাধীনতার ‘সুফল’ বেশ ভালোভাবেই প্রত্যক্ষ করছে বিশ্ববাসী। সেক্যুলার-লিবারেল ডগমার আড়ালে ইসলাম বিদ্বেষী চেতনার উদোম নৃত্য পরিবেশন করতে দেখা চাচ্ছে ইউরোপীয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ায়।

গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অন্যতম দেশ যথাক্রমে সুইডেন ও নরওয়েতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনের প্রকাশ্য অবমাননা করা হয়েছে। সুইডেনের অন্যতম শহর মালমোর রাস্তায় কোরআন পোড়ানো মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে সেদেশের খ্রিস্টানরা। কেবল কোরআন পুড়িয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি , পবিত্র কোরআনের উপর বর্বর খ্রিস্টানরা লাথি মেরেছে। ইসলামবিদ্বেষী টি শার্ট পরিধান করে মুসলিম বিরোধী শ্লোগান দিয়েছে। সুইডেনের জঘন্য ঘটনার ঠিক পরের দিন নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেয় স্টপ দ্য ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে (এসআইএন) নামের একটি খ্রিষ্টান চরমপন্থী গোষ্ঠী। সেখান থেকেও বিক্ষোভকারী পবিত্র কুরআনের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে তার উপর থুতু ছিটিয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে যত অপ্রকাশিত ঘৃণা বুকের গহীনে লুকানো ছিলো তা শ্লোগানে শ্লোগানে উগড়ে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই ঘৃণিত কর্মকান্ডগুলোর ভিডিও ফুটেজ।

বাকস্বাধীনতার ধ্বজাধারী সুইডেন ও নরওয়ে সরকার কোনো প্রকার দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের থাক বরঞ্চ সুইডেনে পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে এই অপকর্ম করতে সহায়তা করা হয়েছে। মুসলিমদের জীবনের চেয়েও প্রিয় মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবমাননার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুসলিমরা রাজপথে নেমে আসলে উল্টো মুসলিমদের দাঙ্গাবাজ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এটাই হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের ব্যক্তি স্বাধীনতার নমুনা। মুসলিমদের ধর্ম গ্রন্থ অবমাননা করা যাবে কিন্তু প্রতিক্রিয়ায় মুসলিমরা ক্ষিপ্ত হলেই পশ্চিমা রাষ্ট্রের চোখে হয়ে যাবে অপরাধী। তাদের অপরাধের সংজ্ঞায় বর্বর এন্টি মুসলিম সংগঠন অপরাধী সাব্যস্ত হয় না, নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনও অনুভব করে না তাদের চৈতন্য। কেবল সহ্য হয়না মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানও।

এটা শুধু নরওয়ে কিংবা সুইডেনের বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়, ইউরোপ তথা সমগ্র পশ্চিমা বিশ্ব জুড়েই এই অভিন্ন দৃশ্য অবলোকন করছে বিশ্বের দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষেরা। তারা একদিকে মুসলিম সমাজে হিজাব-নিকাব পড়া আবশ্যক করাকে অন্যায় ও ব্যক্তি স্বাধীনতার হরণ হিসেবে সোচ্চার হয়। অপরদিকে সহনশীলতার কথা বলা এই পশ্চিমেই হিজাব-নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়। কোনো নারী নিজ খরচে, নিজ ধর্মানুসারে হিজাব করতে চাইলে তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়। কোনো কোনো দেশে জরিমানা করা হয়। প্রত্যহ পদে পদে হেনস্থা তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। লিবারেলিজমের আবরনে ক্রুসেডীয় চেতনার এই পশ্চিমদের ইসলাম বিদ্বেষী দ্বিমুখী চরিত্র এখন অনেকটাই প্রকাশ্য। সুইডেন ও নরওয়ের উক্ত আচরণ কেবল অপরাপর ইউরোপীয় রাষ্ট্রের পদচিহ্নের অনুসরণ মাত্র। ফ্রান্সের শার্লি এবদো নামক সন্ত্রাসবাদী পত্রিকা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে অবমাননার যে ধৃষ্টতা দেখিয়ে যাচ্ছে, নরওয়ে কিংবা সুইডেনের ইসলামবিদ্বেষী সন্ত্রাসীরাও সেই একই পথেই হাঁটছে।

পশ্চিমা লুটেরার সভ্যতার নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছে ইসলামী সভ্যতা। আর এই সভ্যতার সংঘাতে বিজয়ী হতে বিশ্বজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষ। কোরআনের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে, আর এরই প্রতিফলে তৈরি করা হচ্ছে নানা এন্টি মুসলিম সংগঠন। এগুলো সবই নব্য ক্রুসেডের অংশ। তারা চায় পৃথিবীর বুক থেকে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে দিতে। সুন্দর সুন্দর বুলির আড়ালে মুসলিমদের করা হচ্ছে বিভ্রান্ত ও মোহগ্রস্ত। মুসলিমরা মোহ ভেঙে যত দ্রুত ক্রুসেডীয় চেতনার অপকৌশল ধরতে পারবে ততই মঙ্গল। মুসলিমরা তার দায়িত্ব বুঝে নিলে পশ্চিমাদের ইসলাম ফোবিয়াই তাদের জন্য বুমেরাং হতে বাধ্য।

লেখক: রাফিদ ইয়াজভান

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন