‘রায়হানই যেন পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর শেষ নাম হয়’

0
716
‘রায়হানই যেন পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর শেষ নাম হয়’

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত মো. রায়হান আহমদের মা ছালমা বেগম একজন গৃহিণী। ঘরের বাইরে তো দূরের কথা, পারিবারিক পরিমণ্ডলের বাইরে যাওয়া হয়নি কখনো। ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন, মিছিল, স্মারকলিপি পেশসহ সব কর্মসূচিতে সামনের কাতারে থাকছেন তিনি। কথা বলছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। ১১ অক্টোবর থেকে অন্তত শতাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন তিনি। ছেলে হত্যার বিচার দাবির সঙ্গে তাঁর আরও একটি চাওয়া, রায়হান হত্যার মধ্য দিয়ে যেন চিরতরে বন্ধ হয় বাংলাদেশে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন। গত সোমবার রাতে নগরীর আখালিয়া এলাকার নিহারিপাড়ার বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ছালমা বেগম। কথা বলার সময় অধিকাংশ সময় অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি, তবু নিজেকে সামলে নিয়ে দিলেন ঘটনার দিনের বর্ণনা।

আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন—

ছালমা বেগম: এক ছেলে ও এক মেয়ের মা আমি। রায়হান আহমদ ছোট, মেয়ে মাহমুদা আক্তার বড়। মেয়েটা লন্ডনপ্রবাসী। সপরিবার ১৩ বছর ধরে লন্ডনে আছে। রায়হানের বাবা বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ২৯ ব্যাটালিয়নের হাবিলদার ছিলেন। রায়হানের দাদা আমার শ্বশুর পুলিশের হাবিলদার পদে চাকরি করতেন। এই হিসেবে আমরা পুলিশ-বিজিবি সদস্যের পরিবার। রায়হান জন্মের দুই মাস আগে ১৯৮৫ সালের ১ ডিসেম্বর আমার স্বামী মারা যান। ১৯৮৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়হানের জন্ম। রায়হান দেড় বছর আগে বিয়ে করেছে, আড়াই মাস বয়সী তার এক কন্যাসন্তান আছে। সে যেমন তার বাবার মুখ দেখেনি, তার মেয়েটাও…(কান্না)।

রায়হান তো যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিলেন?

ছালমা বেগম: তার এক চাচা আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র) স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আমাদের যৌথ পরিবার। রায়হানসহ ২২ জন একসঙ্গে আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল। করোনার জন্য ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় আমেরিকা যাওয়া হয়নি। করোনা না হলে রায়হান এখন আমেরিকা থাকতো। আগামী জানুয়ারি মাসে ২২ জন অ্যাম্বাসিতে ওঠার কথা ছিলো। এ জন্য সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত ছিলো।

রায়হান কোথায় পড়াশোনা করেছেন, কী চাকরি করতেন?

ছালমা বেগম: এইডেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছে রায়হান। আমেরিকা চলে যাবে বলে আর পড়াশোনা করেনি। তার চাকরিটা আসলে ঠিক চাকরি না। একটি সেবামূলক কাজ। আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতিতে কিছু একটা কাজ করতে গিয়ে এ কাজটি করছিলো। তিনজন চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী ও চিকিৎসাকাজের সহায়ক হিসেবে কাজ করতো রায়হান। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তার ডিউটি। এই সময় ছাড়া বাকি সময় সে পরিবার ও বাসাতেই কাটাতো। চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী বেশি থাকলে রায়হানের বাসায় ফিরতে কোনো কোনো দিন মধ্যরাতও হতো।

১০ অক্টোবর রায়হান কি ডিউটিতে গিয়েছিলেন?

ছালমা বেগম: নগরীর চৌকিদেখি এলাকায় তার নানার বাড়ি। এই নিহারিপাড়ার বাসার পাশে রায়হানের শ্বশুরবাড়িও। ওই দিন বউমা ও নাতনিকে রায়হান তার শ্বশুরবাড়ি রেখে চৌকিদেখি যায়। তখন আমিও চৌকিদেখি ছিলাম। বেলা দুইটার সময় সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘুমায় রায়হান। এরপর চা খেয়ে ডিউটিতে যায়। রাত সাড়ে ১০টার সময় তার বউমা আর নাতনিকে নিয়ে নিহারিপাড়ার বাসায় আসার কথা ছিল। কিন্তু রায়হানের ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে আমি বউমা-নাতনিকে বাসায় নিয়ে আসি। ডিউটির সময় রায়হানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকত। বাসায় ফিরতে রাত হচ্ছে দেখে বেশ কয়েকবার কল দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। আমি ভেবেছি ডিউটিতে আছে। আমিসহ বাসার সবাই অপেক্ষায় থাকি। এই অপেক্ষার সময়ে মাঝরাত পেরিয়ে ফোনটা এলো।

পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রায়হানই ফোন করেছিলেন কি?

ছালমা বেগম: অন্য একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন এসেছিল। পরে জেনেছি এটি ফাঁড়ির এক পুলিশের ফোন। আমি তখন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে তসবিহ পড়ছি। কেমন যেন অশান্তি লাগছিল। ভাবছি, ছেলেটা কোথায়, রাত শেষ করে হয়তো ফিরবে। এমন সময় ফোন বাজে। আমি নামাজ পড়ছি ভেবে আমার ফোন তার চাচা রিসিভ করেন। কথা শোনা যাচ্ছিল, রায়হান ‘আম্মা আম্মা’ বলে ‘আমাকে বাঁচাও’ বলছিল। বলছিল, ‘আমাকে পুলিশ বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে রাখছে। তাড়াতাড়ি টাকা নিয়ে আসো, আমারে বাঁচাও চাচা।’ মাত্র ২২ সেকেন্ড কথা হয়। কিন্তু ফোন ঘুরিয়ে আর সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোনটি কার, সেটিও জানা যায়নি তখন। হাতে কিছু টাকা নিয়ে রায়হানের চাচা বের হন। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে গেলে তিনি ফোন নম্বর দেখিয়ে রায়হানের খবর জানতে চান। এ সময় সেখানে এক পুলিশ সদস্য বলেন, পুলিশের সবাই ঘুমিয়ে আছে। রায়হানও ঘুমে। পরে আসার জন্য বলেন ওই পুলিশ। রায়হানের চাচা ফাঁড়ির পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে আবার ফাঁড়িতে যান। সেখানে দ্বিতীয় দফা গেলে জানানো হয়, রায়হানকে হাসপাতাল (সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। এই খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু ছেলেকে হাসপাতালে নয়, দেখি মর্গে পড়ে আছে, লাশ হয়ে… (অঝোরে কান্না)।

কী অবস্থায় দেখেছিলেন? নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে বলে তখনই কি আপনারা বুঝতে পেরেছিলেন?

ছালমা বেগম: রায়হান পুলিশ হেফাজতে আছে, ওই ফোনটাতেই আমরা বুঝি হয়তো কোনো ঝামেলায় পড়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে ছেলে আছে বলে মনে করেছিলাম নিরাপদেই আছে। ওই দিন যখন ডিউটিতে যায় রায়হান, তার পরনে ছিল নেভি ব্লু গেঞ্জি ও নেভি ব্লু প্যান্ট। কিন্তু মর্গে যখন লাশ শনাক্ত করি, তখন তার পরনে খয়েরি-লাল রঙের মিশেল একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট। রায়হানের সব পোশাক আমি কিনে দিতাম। মাপজোখও আমার জানা। কিন্তু এই শার্ট-প্যান্ট রায়হানের না, সেটি আমি এক নজর দেখেই বলেছিলাম। আমি লাশ গ্রহণ করার সময় বলেছি, রায়হানের পরনে এই শার্ট-প্যান্ট আমার অচেনা লাগছে। এটি অন্য কারও। রায়হানের শার্ট-প্যান্টের মাপজোখ আমার মুখস্থ। এই শার্ট-প্যান্ট অন্য কারও ছিল। সেগুলো আমি রেখে দিয়েছি। আমার মনে হয়, এই পোশাক পরিবর্তন করার পেছনে কোনো কারসাজি ছিল।

কী কারসাজি, কারা করেছিল বলে মনে হয়?

ছালমা বেগম: রায়হানের পরনে শার্ট-প্যান্ট তার না, মর্গে ছেলের লাশ দেখে এই ব্যাপারটি আমিই প্রথম চিৎকার করে বলেছিলাম। আমার মনে হয়, মারতে মারতে ফাঁড়িতেই মেরে ফেলা হয়েছে রায়হানকে। পোশাক বদল করে হয়তো বেওয়ারিশ লাশ বানানোর কোনো কারসাজি থাকতে পারে। ফাঁড়িতেই যখন ঘটনা ঘটেছে, তখন তো কোনো পাবলিক জড়িত না। সবাই ফাঁড়ির পুলিশ। তাঁদের কয়েকজনকে আমি মর্গে দেখে গালিও দিয়েছি। বলেছি, আমার ছেলের পরনে এই শার্ট-প্যান্ট বদল করে লাশটা বেওয়ারিশ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো আমি রেখে দিয়েছি। তদন্ত করলে এখান থেকে অনেক কিছু বের হতে পারে।

পুলিশ তো শুরুতে বলেছিল, ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত হয়ে মৃত্যু হয়েছে রায়হানের। তাঁর নামে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে দুটি পুরোনো মামলাও নাকি আছে। এসব কথা নিশ্চয় আপনিও শুনেছেন?

ছালমা বেগম: দেখুন, আমার ছেলে আমার সঙ্গে সব বিষয় নিয়ে কথা বলত। চলতে-ফিরতে সামান্য কোনো অসুবিধায় পড়লে সবার আগে আমার সঙ্গে কথা বলত। কোনো দিন থানা-পুলিশ, কেস-মামলা এসব নিয়ে রায়হান আমাকে কিছু বলেনি। কোনো রাজনীতিও করত না রায়হান। মাদক তো দূরের কথা, পানের সঙ্গে জর্দা খেতে হলেও আমাকে জিজ্ঞেস করত খাবে কি না। যদি পুলিশ কেস থাকত, তাহলে সবার আগে আমাকেই বলত। পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দিতে এসব মিথ্যা বলেছে। পুলিশকে আমরা রক্ষক বলি। রক্ষকেরাই ভক্ষণ করল আমার রায়হানকে।

কখন সত্যটি প্রকাশ পেল? পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা মধ্যরাতে করতে গেলেন কেন?

ছালমা বেগম: সেই ফোন ও আর আমাদের দাবি আর মানুষের প্রতিবাদের মুখে সত্যটা প্রকাশিত হয়। এখানে মিডিয়াও বেশ সহায়তা করে যাচ্ছে। আমি বা আমরা শুরু থেকে যেসব কথা বলছিলাম, তা থেকে এক চুলও সরিনি। কিন্তু পুলিশ কথা বদল করেছে বারবার। লাশ পাওয়ার পর যখন মিডিয়াতে আমরা কথা বলছিলাম, তখন পুলিশের সুর নরম হয়। রাত নয়টার সময় আমার বউমা (রায়হানের স্ত্রী) ও আমার নাতনিসহ আমরা সবাই থানায় যাই। আমাদের একজন আইনজীবী মামলার এজাহার লিখে দেন। রাত ১টা ৪৪ মিনিটের সময় আমরা মামলা করে এজাহারে সিল-সই নিয়ে বাসায় ফিরি। ফাঁড়িতে যেহেতু ঘটনা ঘটেছে, তাই ফাঁড়িতে পুলিশ কারা, নাম-পদবি আমাদের জানা ছিল না। তাই মামলায় আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরদিন ফাঁড়ির ইনচার্জসহ চারজনকে বরখাস্ত করা হলো, তখনই ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ সাত-আটজনের নাম প্রকাশ পেল। আকবর পালানোয় জড়িত থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। শুধু আকবর নয়, আরও অনেক জড়িত আছে। আকবরের সামনে ও পেছনে অনেকই জড়িত। শুধু টাকার জন্য নয়, বড় কোনো কারণ আছে নিশ্চয়। নইলে এভাবে কেউ মারে? (আবার কান্না)

ফাঁড়ির ইনচার্জসহ যে চারজন বরখাস্ত ও তিনজন প্রত্যাহার করা হয়েছেন, তাঁরাই নির্যাতনকারী—এ বিষয়টি আপনারা কীভাবে জানলেন?

ছালমা বেগম: ফাঁড়িতে যারা ছিল, তারাই নির্যাতনকারী ও হত্যাকারী। তাদেরকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পালিয়ে গেছে। এরা রায়হানকে নিয়ে একেক সময় একেক কথা বলেছে। প্রথম বলছিল, রায়হান হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত করে লাশ কবর দিতে বলা হয়। এখন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের পর দেখা গেল রায়হানের শরীরে ১১১টি আঘাত। কী কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে রায়হানকে, আমি তো মা, কী করে সই, আমি তো ভাবতেই পারছি না… (কান্না)।

রায়হান হত্যার বিচার দাবির সঙ্গে দলমত–নির্বিশেষ সব মানুষ এককাট্টা এখন। মামলার তদন্ত, আসামি শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তাতে কি আস্থাশীল আপনি?

ছালমা বেগম: আমি জীবনে কোনো সভা, মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিইনি। শুধু দূর থেকে দেখেছি। মাইকে (মাইক্রোফোন) কথা বলিনি কোনো দিন। ছেলের লাশ দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। ঘরে মন রাখতে পারিনি। বাসার সামনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এসে অবস্থান নেন। রায়হান হত্যার বিচার চান তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে আমি দাঁড়িয়েছি। মানববন্ধনে শামিল হচ্ছি, বিচার দাবি করছি। মিছিলও করছি। আমার শরীর ভালো না। কিন্তু মানুষের দাবি দেখে শক্তি পাই। ১০ দিন হয়ে গেল। আমার কাছে তো ১০ যুগের মতো মনে হয়। তবে মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে আছেন, মিডিয়া যেভাবে আমাদের সঙ্গে আছে, বিচার পাওয়ার আশায় আছি। আমার মুখ কোনো অবস্থাতেই বন্ধ হবে না। আমি চাই টেকনাফের মতো কিছু একটা হোক। আমার রায়হানই যেন পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর শেষ নাম হয়। আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না, এমন কিছুর নিশ্চয়তা চাই।

আসামি গ্রেপ্তার করার দাবিতে সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এই আলটিমেটাম শেষ হতে চলল, এ বিষয়ে কিছু বলুন—

ছালমা বেগম: আসামি তো শনাক্ত করাই আছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। ঘটনার চার দিন পর পুলিশ কমিশনার বাসায় এলেন। আমাদের বলেছেন, ফাঁড়ির এসআই আকবর পালিয়ে গেছে। কীভাবে পালাল কিছুই বলেননি তিনি। কমিশনার সাহেব চার-পাঁচ বছর ধরে সিলেট আছেন বলে জানিয়েছেন। এ রকম ঘটনা প্রথম ঘটল বলে তিনি লজ্জিত। আমি তো লজ্জিত শুনতে চাই না। আমি চাই যারা খুনি, তারা গ্রেপ্তার হোক। একটা নজির স্থাপন হোক।

তাহলে খুনি শনাক্ত করে গ্রেপ্তার না হওয়াই বেশি ক্ষুব্ধ করছে আপনাকে?

ছালমা বেগম: এই ক্ষোভ সবার। আজ যদি পুলিশ না হয়ে কোনো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ থাকত, তাহলে কি গাফিলতি করতে পারত পুলিশ? গণদাবির মুখে আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতেই তো পুলিশকে আমরা দেখি। এখন পুলিশের কাছ থেকে পুলিশের অপরাধের বিচার পাব না? আমার ছেলে হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা চাই। পিবিআই তদন্ত করছে, তারাও তো পুলিশ। ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আমার তো মনে হয়, এই ৭২ ঘণ্টা শুধু ঘণ্টা নয়, ৭২টা সন পেরোতে হচ্ছে। আমার রায়হানের মধ্য দিয়ে যেন চিরতরে বন্ধ হয় বাংলাদেশে পুলিশি হেফাজতে সব নির্যাতন-হত্যা। কোনো মাকে যেন আমার মতো ছেলে হত্যার বিচার চাইতে রাস্তায় নামতে না হয়।
প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন