খোরাসান | রাজধানী কাবুল ব্যাতিত পুরো আফগান এখন তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে

6
1932
খোরাসান | রাজধানী কাবুল ব্যাতিত পুরো আফগান এখন তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে

একে একে আফগানিস্তানের সমস্ত প্রদেশ ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ করেছেন তালিবান মুজিহিদিন।

গতকাল আফগানিস্তানের ৬টি প্রদেশ বিজয়ের পর তালিবানরা আজ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৯ দিনের তীব্র লড়াই আর কাবুল সরকারি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে তালিবান মুজাহিদগণ আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টি উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর বাকি থাকে রাজধানী কাবুল সহ খোস্ত, দাইকুন্দী, ময়দানে ওয়ার্দাক, নানগারহার, নুরিস্তান, বামিয়ান, পারওয়ান, পাঞ্জাশীর ও কাপিসা সহ মোট ১০টি প্রদেশ।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ ১৫ আগস্ট, তালিবান মুজাহিদগণ উপরুক্ত প্রদেশগুলোর অধিকাংশেরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বিনা যুদ্ধে, তবে কিছু কিছু স্থানে হালকা সংঘর্ষ হলেও শেষ পর্যন্ত কাবুল সৈন্যরা পলায়ন ও অনেকেই মুজাহিদদের কাছে আত্মসমর্পণের পথ ধরে। ফলে এই ১০ দিনের বিজয় অভিযানের মাধ্যমে তালিবান মুজাহিদগণ আফগানিস্তানের ৩৩টি প্রদেশের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ করলেন।

বাকি থাকে রাজধানী কাবুল। জানা যায়, তালিবান মুজাহিদগণ আজ রাজধানীর কাবুলেরও অধিকাংশ জেলা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এখন কেন্দ্রীয় রাজধানীর ফটকগুলোতে অপেক্ষা করছেন মুজাহিদগণ। কেননা কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, রাজধানীতে যেন অভিযান চালানো না হয় বরং মুজাহিদগণ যেন কাবুলের গেটে দাঁড়ান।

এবিষয়ে তালিবান মুখপাত্র- জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয় যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তা’আলার জন্য, যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্’র সহায়তায় এবং আমাদের জনগণের ব্যাপক সহায়তায় দেশের সমস্ত অংশ এখন ইমারতে ইসলামিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

এরপর বলা হয়, যেহেতু রাজধানী কাবুল একটি বড় এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহর, তাই ইমারতে ইসলামিয়ার মুজাহিদিনরা জোর করে বা যুদ্ধের মাধ্যমে শহরে প্রবেশ করতে চান না, বরং তারা বিরুধী পক্ষগুলোর ঐক্যমতে শান্তিপূর্ণভাবে কাবুলে প্রবেশ করতে চান। তিনি বলেন এই লক্ষ্যে বিরুধী পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা চলছে।

তিনি জানসাধারণকে আশ্বস্ত করে বলেন যে “তাদের সম্মান, জীবন এবং সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না”, কেননা যুদ্ধ ছাড়াই শহর হস্তান্তরের জন্য আলোচনা চলছে।

তাই ইমারতে ইসলামিয়া তার সকল সামরিক বাহিনীর সদস্যদের এই নির্দেশ দিচ্ছে যে, তাঁরা যেন কাবুলের ফটকে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং শহরে প্রবেশ থেকে বিরত থাকেন।

তিনি বিবৃতিতে আরও বলেছেন, আমরা পুনরাবৃত্তি করছি যে ইমারতে ইসলামিয়া কারও থেকে প্রতিশোধ নিতে চায় না, যারা কাবুল প্রশাসনে সামরিক ও বেসামরিক সেক্টরে কাজ করেছেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না, সবাই নিরাপদে থাকবে আর শহরে কোনো সংঘাতও হবে না।

নিউজ করা পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে আশরাফ ঘানি পদত্যাগ করেছে।

FB-IMG-1628851695036

6 মন্তব্যসমূহ

  1. আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ!

    প্রিয়া ভাই ও বোনেরা!

    খোরাসানের বিজয় সুসংবাদ গ্রহণ করুন। তাগুতের পথের যোদ্ধাদের পরাজয় বরণ এবং সুন্দরভাবে আল্লাহর পথের মুজাহিদদের ক্ষমতা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

    খোরাসানের এই ফাতহে মুবিনে আমরা অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার করি, নিজেদেরকে মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞ ও শোকরগুজার বান্দা হিসেবে সমর্পণ করি। সামর্থ্য অনুযায়ী রব্বে কারীমের হামদ ও ছানা, তিলাওয়াত, সাদাকাহ, সালাত, সাওমসহ বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায়ে আত্মনিয়োগ করি।

    আল্লাহ আমাদেরকে আব্দে শাকুর হিসেবে কবুল করুন এবং তাঁর নেয়ামত আমাদের উপর পূর্ণ করে দিন। আমীন ইয়া রাব্বাশ-শুহাদায়ি ওয়াল মুজাহিদীন!

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন