কাশ্মীর | প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অসম সব লড়াইয়ে ৩২৭ এরও বেশি ভারতীয় সেনা নাস্তানাবুদ

4
2020
কাশ্মীর | প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অসম সব লড়াইয়ে ৩২৭ এরও বেশি ভারতীয় সেনা নাস্তানাবুদ

ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে দখলদার হিন্দুত্ববাদী ভারতের হিংস্র চেহারা বিশ্ববাসী যুগ যুগ ধরে অবলোকন করে আসছে। কিন্তু এর সমাধানের জন্য কোন কার্যকরী পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি কথিত বিশ্ব নেতারা। বিপরীতে তারা সর্বদাই নীরব ভূমিকা পালন করে গেছে। আর হিন্দুত্ববাদী ভারতের সাথে নিজেদের সুসম্পর্ক মজবুত করেই গেছে।

ফলে কাশ্মীরি যুবকরা বুঝতে পারেছেন যে, তাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য কোন অঞ্চলিক দেশ বা কথিত বিশ্ব নেতারা তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে না। তাই তাঁরা নিজেরাই হাতে অস্ত্র তুলে নিতে শুরু করেছেন। যুক্ত হচ্ছেন সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদা সহ আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রতিরোধ বাহিনীগুলোতে। অবতীর্ণ হচ্ছেন দখলদার ভারতীয় বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে। যার মাধমে তাঁরা নিজেরাও শহীদ হচ্ছেন এবং অসংখ্য দখলদার ভারতীয় সেনাকেও হত্যা করছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় কাশ্মীরে বিগত ২ বছরে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে বিভিন্ন সময় হওয়া লড়াইয়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ১০৪ দখলদার সেনা নিহত এবং আরও ২২৩ বর্বর সেনা আহত হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এমনটিই উল্লেখ করেছে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও উগ্র হিন্দু সেনা ও প্রশাসন নিহত হওয়ার প্রকৃত সংখ্যাটা আরও কয়েক গুণ বেশি বলেই মনে করা হয়।

দখলদার দেশটির মিনিস্টার অফ স্টেট ‘নিত্যানন্দ রায়’ এক বিজেপি সাংসদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বলে, শুধু ২০২০ সালেই সহিংসতায় কাশ্মীরে ৬২ জনের প্রাণহানি হয়েছে, আহত হয়েছে আরও ১০৬ জন। নিত্যানন্দ রায়’এর দাবি অনুযায়ী উক্ত বছরেই কাশ্মীরি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ৪২ দখলদার নিহত এবং আরও ১১৭ দখলদার আহত হয়েছে। এরপর গত ২০২১ সালে কাশ্মীরি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই অসম লড়াইয়ে নিহত ও আহত হয়েছে আরও কয়েক ডজন দখলদার ভারতীয় সেনা। যা ২০২০ সালে হতাহত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। সরকারি হিসাব মতে, ২০২১ সালে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে লড়াইয়ে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ৬২ দখলদার সৈন্য নিহত হয়। সেই সাথে ঐবছর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় আহত হয় আরও ১০৬ দখলদার।

হতাহতের এই পরিসংখ্যান তো শুধু দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দাবি মাত্র। যার দ্বারা তারা নিজেদের বিশাল ক্ষয়ক্ষতিকে আড়াল করতে চাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মাঝে এই ধারণা অনেকটা প্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অসম লড়াইয়ে দখলদার বাহিনীর ঘোষিত পরিসংখ্যান থেকে হতাহতের সঠিক সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। কেননা সেখানে দখলদার ভারতীয় বাহিনীর মেজর, কর্নেল এমনকি ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার অফিসার নিহত হওয়ার সংবাদ দালাল মিডিয়াতেই প্রচার হয়েছে। তাই বাস্তব সংখ্যাটা যে ঢের বেশি, সেটা সহজেই অনুমেয়।

যাইহোক! কাশ্মীরে চলমান এই লড়াইয়ে একদিকে রয়েছেন অত্যন্ত স্বল্প পরিসরের সামরিক সজ্জায় সজ্জিত, কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সদ্য প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেয়া দুঃসাহসী কাশ্মীরি যুবকরা। অন্যদিকে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিধর ভারতের উন্নত ও সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী পুলিশ, সিআরপিএফ, আর্মি ও অন্যান্য ইউনিটের সেনারা। সামরিক খাতে এই বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে এত বেশি প্রাণহানি ভারতের জন্য সত্যিই লজ্জাজনক।

বিস্লেশক্রা বলছেন, এই সেনা হতাহতের ঘটনা একদিকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য অঘোষিত বিজয়, কিংবাবলা যায় আসন্ন বিজয়ের হাতছানি। আর অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় দখলদারদের জন্য পরিতাপের বিষয় এবং পতনের ইঙ্গিত!

প্রতিবেদক :  আলী হাসনাত

4 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন