উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন মোকাবেলায় হিন্দুস্তানের মুসলিমদের প্রতি দেওবন্দের মুফতি আবুল কাসিম নোমানী (হাফি.) এর আহবান

উসামা মাহমুদ

10
3262
উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন মোকাবেলায় হিন্দুস্তানের মুসলিমদের প্রতি দেওবন্দের মুফতি আবুল কাসিম নোমানী (হাফি.) এর আহবান

দারুল উলূম দেওবন্দের প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা মুফতি আবুল কাসিম সাহেব নোমানী গত শুক্রবার ভারতের বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা ভারতে মুসলমানদের উপর অত্যাচারের প্রেক্ষাপটে একটি দিকনির্দেশনামূলক বক্তৃতা প্রদান করেন।

তাঁর ভাষণটি নীচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হল ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেছেন –

এই মুহূর্তে হিন্দুস্তানের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সবার সামনে দৃশ্যমান। প্রত্যেক সচেতন মানুষ জানে মুসলমানদের জন্য ইসলাম ও ইসলামী বিধি বিধান পালনের পরিধি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে। আগে হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিমদের দোকানপাট পুড়িয়ে দিত, বাড়িতে আগুন দিত, কিছু মুসলিমকে খুন করত। আস্তে আস্তে আবার জখম পূরণ হয়ে যেত।

কিন্তু এখন ইসলামের শরীয়ত বিধি-বিধান ও আচার-অনুষ্ঠানের উপর আঘাত করা হচ্ছে। ইসলামিক পোষাক হিজাবে বাধা, খোলা জায়গায় জুমার নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা। নামাজের জন্য আহ্বান আযানে লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে এবং অনুরূপ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে হিন্দুত্ববাদীরা পরিবেশকে যতটা সম্ভব বিষাক্ত ও দূষিত করার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিয়ে ‘দ্য কাশ্মীর কাইলস’ নামে একটি ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে এবং দেশ জুড়ে প্রচার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীদের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিমদের মধ্যে বিদ্বেষ উসকে দেওয়া, যাতে তারা মোটামোটি সফল হয়েছে।

এই অবস্থায় সাধারণ মুসলমানদের কি করা উচিত?

এটা কারোর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, আজ আমি প্রশ্ন করতে চাই, এই পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব কী?  আমার কি করা উচিৎ?

তিনটি জিনিস করতে হবে। আমি প্রথমে নিজেকে সম্বোধন করি, তারপর আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, শহরবাসী এবং সারা দেশের মানুষ যতদূর পারি, আমি মনে করি সমস্ত মুসলিমদের এগুলো করতে হবে।

প্রথম কাজ: আত্মসংশোধন, নিজের ঈমান ও আমলকে মজবুত করা।

ভেতর থেকে মন্দতা দূর করার চেষ্টা করুন, কারণ আল্লাহর সাহায্য তাকওয়া ও ধৈর্যের সাথে সম্পৃক্ত। আপনার কাজ সংশোধন করুন, আপনার নৈতিকতা সংশোধন করুন।

সবার আগে নিজের আমল সংশোধন করুন, নির্জন জীবনকে ঠিক করুন, নির্জনে বসে কৃত পাপ থেকে নিজেকে শুদ্ধ করুন, অন্তর ও মনকে পরিশুদ্ধ করুন, মনকে পরিশুদ্ধ করুন, নোংরামি থেকে রক্ষা করুন, আমল সঠিক করুন, মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করুন। আল্লাহর নাম পাঠ করুন, তিলাওয়াত করুন, নামাজের ব্যবস্থা করুন।

দ্বিতীয় কাজ:

দ্বিতীয় বিষয় হল ইসলাম এবং মুসলমানদের একটি চিত্র ইসলাম বিদ্বেষীরা বিশ্বের মনের মধ্যে রোপণ করেছে। যে এটি হল সহিংসতার ধর্ম, তারা দেশদ্রোহী, তারা সন্ত্রাসী, তারা অনৈতিক, তারা খুনি, তারা ভীতু। আর ইসলাম ও মুসলমানদের প্রকৃত চিত্র হল ইসলাম আমাদের যা শিখিয়েছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আমাদের যা বলেছেন, যাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে সভ্যতা গড়ে উঠেছে, আমরা শান্তিপ্রিয়, গরীব-দুঃখী প্রতিবেশীদের সাহায্যকারী। ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে হবে। যাতে করে- যাতে করে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি সাধারণ লকেদের মনে যে ঘৃণা-বিদ্বেষ তরি করে দেওয়া হয়েছে, সেট আমাদেরকে দেখে ভেঙ্গে যায়।

তৃতীয় করণীয়:

মনে রাখবেন, যা করার আমাদের নিজেদেরকেই করতে হবে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, বর্তমানে যে দুর্বিষহ পরিস্থিতি চলছে মুসলমানের উপর, তার বিরুদ্ধে না কোন রাজনৈতিক দল আওয়াজ তুলছে, আর না কোন রাজনৈতিক নেতা সামনে আসছে। অতএব যা করার তা আমাদেরকেই করতে হবে, আমাদের বাহুর শক্তি দিয়ে আর আমাদের ঈমানের শক্তি দিয়ে। তাই নিজের আমল-আখলাক মজবুত করার পর নিজের অন্তরে সাহস সঞ্চার করুন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পরিবেশ-পরিস্থিতির নাজুকতায় অন্তরে যে ভীতি তৈরি হয়েছে, তাঁর থেকে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে কিভাবে বের করে আনতে পারি?

এখানে আমার একটি হাদীস মনে এসেছে, আমরা যে রাস্তা ধরে এই দুর্বলতা ও ভীতি আমাদ্দের মাঝে এসেছে, সেই রাস্তা দিয়েই আবার সেটাকে দূর করতে হবে।

হাদিসটি হল –

قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك الأمم أن تداعى عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها»، فقال قائل: ومِن قلة نحن يومئذ؟ قال: «بل أنتم يومئذٍ كثير، ولكنكم غثاء كغثاء السيل، ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم، وليقذفن في قلوبكم الوهن»، فقال قائل: يا رسول الله وما الوهن ؟ قال: «حب الدنيا، وكراهية الموت».

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, “শীঘ্রই এমন সময় আসবে, যখন দুনিয়ার অমুসলিম জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে এমন ভাবে আহবান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ দস্তরখানে তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।”

জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’

তিনি বললেন, “না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।”

জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.),আল- ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন, “দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং ক্বিতালকে অপছন্দ করা।”

(মুসনাদে আহমদ, খন্ডঃ ১৪, হাদিস নম্বরঃ ৮৭১৩, হাইসামী বলেছেনঃ হাদিটির সনদ ভালো, শুয়াইব আল আর নাউতের মতে হাদিসটি হাসান লি গাইরিহি)

সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছেঃ

حُبُّ الْحَيَاةِ وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ

“দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।” (সুনানে আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমদ, হাদিস হাসান

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে বেচাকেনা কর, গাভীর লেজ ধরে থাক, ক্ষেত-খামার নিয়েই সন্তুষ্ট থাক, আর জিহাদ ছেড়ে দাও, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান চাপিয়ে দিবেন যে, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে না আসবে, ততক্ষণ সে অপমান তোমাদের থেকে তিনি সরাবেন না।” [আবু দাউদ: ৩৪৬২]

জিহাদ ছেড়ে দেওয়ার শাস্তি বুঝাতে কুরআনুল কারীমে আয়াত এনেছেন,

قُلۡ اِنۡ کَانَ اٰبَآؤُکُمۡ وَ اَبۡنَآؤُکُمۡ وَ اِخۡوَانُکُمۡ وَ اَزۡوَاجُکُمۡ وَ عَشِیۡرَتُکُمۡ وَ اَمۡوَالُۨ اقۡتَرَفۡتُمُوۡهَا وَ تِجَارَۃٌ تَخۡشَوۡنَ کَسَادَهَا وَ مَسٰکِنُ تَرۡضَوۡنَهَاۤ اَحَبَّ اِلَیۡکُمۡ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ وَ جِهَادٍ فِیۡ سَبِیۡلِهٖ فَتَرَبَّصُوۡا حَتّٰی یَاۡتِیَ اللّٰهُ بِاَمۡرِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ﴿۲۴﴾

(হে নাবী!) তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভাইগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ঐ ব্যবসায় যাতে তোমরা মন্দা পড়ার আশংকা করছ অথবা ঐ গৃহসমূহ যেখানে অতি আনন্দে বসবাস করছ, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে যদি (এই সব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় তাহলে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ নিজের নির্দেশ পাঠিয়ে দেন। আর আল্লাহ আদেশ অমান্যকারীদেরকে পথ প্রদশর্ন করেন না।( সুরা তাওবাহ)

তিনি বলেছেন, শুধু অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না। যে কারণে নিজেদের মাঝে দূর্বলতা তৈরি হয়েছে তা দূর করতে হবে। দুনিয়ার মোহাব্বত কমিয়ে, সঠিক দ্বীনের পথে হাটতে হবে।

ইমানদারদের জন্য পরীক্ষাও আসবে, এই ব্যপারে তিনি বলেন:

ইমানওয়ালাদের জন্য পরীক্ষা আসবে। নবীদের উপর এসেছিল, সাহবাদের উপরও এসেছিল। তা আল্লআ কুরআনে উল্লেখ করেছেন,

 ২:২১৪ اَمۡ حَسِبۡتُمۡ اَنۡ تَدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ وَ لَمَّا یَاۡتِکُمۡ مَّثَلُ الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلِکُمۡ ؕ مَسَّتۡهُمُ الۡبَاۡسَآءُ وَ الضَّرَّآءُ وَ زُلۡزِلُوۡا حَتّٰی یَقُوۡلَ الرَّسُوۡلُ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ مَتٰی نَصۡرُ اللّٰهِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ نَصۡرَ اللّٰهِ قَرِیۡبٌ ﴿۲۱۴﴾

ام حسبتم ان تدخلوا الجنۃ و لما یاتکم مثل الذین خلوا من قبلکم مستهم الباساء و الضراء و زلزلوا حتی یقول الرسول و الذین امنوا معهٗ متی نصر الله الا ان نصر الله قریب ﴿۲۱۴﴾

(২১৪) তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা বেহেশত প্রবেশ করবে; যদিও পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের অবস্থা এখনো তোমরা প্রাপ্ত হওনি? দুঃখ-দারিদ্র্য ও রোগ-বালা তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল। তারা এতদূর বিচলিত হয়েছিল যে, রসূল ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারিগণ বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?’ জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, পরিশ্রম ও মেহনত ব্যতীত এবং বিপদ-আপদে পতিত হওয়া ছাড়া কেউই জান্নাত লাভ করতে পারবে না।

 ২:১৫৫ وَ لَنَبۡلُوَنَّکُمۡ بِشَیۡءٍ مِّنَ الۡخَوۡفِ وَ الۡجُوۡعِ وَ نَقۡصٍ مِّنَ الۡاَمۡوَالِ وَ الۡاَنۡفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۵۵﴾ۙ

و لنبلونکم بشیء من الخوف و الجوع و نقص من الاموال و الانفس و الثمرت و بشر الصبرین ﴿۱۵۵﴾ۙ

তোমাদেরকে অবশ্যই তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবনে পরীক্ষা করা হবে। তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরিকদের কাছ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।

২:১৫৫ وَ لَنَبۡلُوَنَّکُمۡ بِشَیۡءٍ مِّنَ الۡخَوۡفِ وَ الۡجُوۡعِ وَ نَقۡصٍ مِّنَ الۡاَمۡوَالِ وَ الۡاَنۡفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۵۵﴾ۙ

و لنبلونکم بشیء من الخوف و الجوع و نقص من الاموال و الانفس و الثمرت و بشر الصبرین ﴿۱۵۵﴾ۙ

তোমাদেরকে ভয় ও ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, সবরকারীদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর।

এখানে মুফতি সাহেব (হাফি.) বিশেষভাবে উল্লাখ করেছেন যে, সবরের মানে শুধুমাত্র বিপদকে সহ্য করে যাওয়া বুঝায় না। বরং, বিপদ হোক কিংবা নিরাপত্তা – সকল হালতে দ্বীনের উপর অটল হয়ে থাকা… সকল দুর্বলতা থেকে নিজের নফসকে মুক্ত রাখা,  আর যে অবস্থাই হোক সেটাকে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মেনে নিয়ে বরদাস্ত করা, অযথা অভিযোগ না করা, – এটাই সবর।

হৃদয়কে শক্ত রাখো, ভয় ও আতঙ্ক দূর কর, হৃদয় থেকে মৃত্যুভয় দূর কর, আল্লাহ ঠিকই বলেছে, মৃত্যু আপনা-আপনি সময়ে আসবে আর একবারই আসবে। তাই বলে এটা নয় আমরা ঘরে বসে থাকব, তারা যা ইচ্ছে তাই করবে। আত্মরক্ষার অধিকার শরীয়ত ও আইন আমাদের দিয়েছে। আমরা শান্তি-শৃঙ্খলার রক্ষক।

আল্লাহর নাম পাঠ করুন, তিলাওয়াত করুন, নামাজের ব্যবস্থা করুন। আমি সবগুলোতেই নামাজের কথা বলেছি। আমি সবার শেষে দোয়ার কথা বললাম। কারণ শুধুমাত্র দোয়া করে, শুধুমাত্র কুনুতে নাজেলা পরে, শুধু তেলাওয়াত করে, শুধু কারিমার আয়াত পাঠ করলে অথবা শুধু হিসনে হাসিন পরে দোয়া করলেই হালাত(পরিস্থিতি) বদলে যাবে না। পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। আমরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ তায়ালা কোন জাতিকে পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়। আমরা তাই দোয়াো করবো, আবার দোয়া করার আগে কাজও করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ অংশে মুহতারাম মুফতি সাহেব (হাফি.) বলেন –

অন্তরকে মজবুত রাখুন। ভয় ও সংকীর্ণতা থেকে বেড়িয়ে আসুন। মৃত্যুর ভয় থেকে বের হয়ে আসুন। মৃত্যু অবধারিত, মৃত্যু সময়মতোই আসবে, এবং একবারই আসবে। কেউ মৃত্যুকে থামাতে পারবে না। কিন্তু মৃত্যুর ভয়ে আমরা ঘরের কনায় বসে কাপ্তে থাকবো – এটাও কোন সঠিক উপায় নয়। নিজেরদের আত্মরক্ষার অধিকার শরীয়ত এবং আইন আআমদেরকে দিয়েছে। আল্লাহ্‌ তাআলা না করুন, যদি এমন পরিস্থিতি এসে যায় যে, আমাদের যান-মালের উপর হামলা হচ্ছে, তখন আমরা বুজদিল কাপুরুষ হয়ে ঘরে বসে থাকবো না। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার হেফাজত করার দায়িত্ব নিজেদের উপরেই বর্তায়। নিজের পক্ষ থেকে আমরা শান্তি বিনষ্ট করার মতো কোন পদক্ষেপ নিবনা। কিন্তু যদি আমাদের যান-মাল-ইজ্জত-আব্রুর উপর কোন হামলা আসে, তাহলে শুধুমাত্র ছাদের উপর উঠে আমরা ‘নারায়ে তাক্কবির’ দিব না। বরং আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদেরকে যে শক্তি আর সাহস দিয়েছেন, সেটার মাধ্যমে হাতের কাছের সম্ভাব্য যে আসবাব, তা দিয়ে আমরা নিজেদের প্রতিরক্ষা করার চেষ্টা করব। আবারো বলছি, মৃত্যু আসলে যেন সম্মানের সাথেই আসে। মৃত্যু আসবে তাঁর নিজের সময়মতোই। কিন্তু অন্তরে কাপুরুষতা আর দুর্বলতা রেখে  নিজেকে অন্যের সাছে সমর্পণ করে দেওয়া – এটা ঈমানদেরের শান হতে পারে না। আল্লাহ্‌ তালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দ্দান করুন, সঠিক কাজ করার তৌফিক দান করুন। এই বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

||

এভাবেই কোরআন-হাদিসের জ্ঞানের আলোকে ভারত অঞ্চলের মুসলমানদেরকে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন এবং আসন্ন ভয়াবহ বিপদ মকাবিলায় নববি মানহাজ অনুসারে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন সম্মানিত আলেমে দ্বীন দেওবন্দের মুফতি আবুল কাসিম নোমানী (হাফি.). ইসলামি চিন্তাবিদগণ তাঁর এই ঘোষণাকে দেখছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিন্দুস্তানের মুসলিমদের প্রতি জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের কৌশলী আহ্বান হিসেবেই। এবং তাঁরা প্রশ্ন রেখেছেন যে, হিন্দুস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং তাঁর প্রেক্ষিতে সম্মানিত মুফতি সাহেবের এই আহ্বানের পরে মুসলিমদের জন্য আর কি ওজর থাকতে পারে!


 

সংকলক :   উসামা মাহমুদ


 

তথ্যসূত্র :

1. Mulk ke Bigadte halaat aur hamari Zimmedariyan | Mufti Abul Qasim Nomani
https://www.youtube.com/watch?v=0y4PyT8h87g

10 মন্তব্যসমূহ

  1. আল্লাহ হিন্দুস্তানে মুসলমানদের কে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন থেকে হেফাজত করুন আমীন। এবং প্রত্যেকটা জুলুমের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় প্রতিশোধ নেওয়ার তাওফীক দান করুন আমীন

  2. উনিতো কেবল মুফতী নন। দারুল উলূমের মুহতামিম!

    ইতিপূর্বে উনার কৌশলী ও তাওরিয়া পূর্ণ কথায় অনেকে ভুল বুঝেছিলেন। কিন্তু এখন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে গেল।

  3. যারা দারুল উলূমের ফতোয়ার উপর নিজেদের কর্ম সীমাবদ্ধ রাখেন, তাদের শেষ ওজরটিও আর থাকলো না।
    আলহামদুলিল্লাহ।
    এভাবেই একে একে সবার ‘মুখ খোলা’ উম্মাহর জন্য নতুন প্রাণসঞ্চারক হবে ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন