গরু পরিবহনের ‘অপরাধে’ মুসলিম যুবকের যাবজ্জীবন, জরিমানা ৫ লাখ

মাহমুদ উল্লাহ্‌

0
335

গুজরাটের তাপি জেলার ভায়ারায় দায়রা আদালত ২২ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবককে ‘গরু পরিবহন করার অপরাধে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মুহম্মদ আমীন মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার মালেগাঁওয়ের বাসিন্দা।

গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ আইন ১৯৫৪ এর ধারা ৫, ৬ এবং ৭ লঙ্ঘনের জন্য আমীনকে ‘আজীবনের জন্য কঠোর শাস্তি ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা’ এবং গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১০ এর ধারা ৬ (ক)(১) লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রধান জেলা ও দায়রা জজ সমীর বিনোদচন্দ্র ব্যাসের আদেশে বলা হয়েছে, “যদি সে জরিমানা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে আরও পাঁচ বছরের কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।”

আমীনকে ২৭ আগস্ট, ২০২০-এ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৬টি গরু পরিবহন করার অভিযোগে গুজরাট পুলিশ তাকে আটক করে। তখন থেকে এই মুসলিম যুবক ইতোমধ্যেই আড়াই বছর হিন্দুত্ববাদীদের জেলে কাটিয়েছেন।

মনগড়া শ্লোকের উদ্ধৃতি দিয়ে হিন্দুত্ববাদী আদালত তার রায়ে বলেছে, গরু শুধু একটি প্রাণী নয়। এই পরিস্থিতিতে গরু জবাই ও পরিবহন একটি বেদনা ও দুঃখের বিষয়। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে গরুর তৈরি ঘর পারমাণবিক বিকিরণ দ্বারা প্রভাবিত হয় না। গোমূত্রের ব্যবহার বহু দুরারোগ্য রোগের নিরাময়; গরু ধর্মের প্রতীক।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘গরুর তৈরি ঘর পারমাণবিক বিকিরণ দ্বারা প্রভাবিত হয় না’ এ দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোন প্রমাণ নেই। একইভাবে গৌমূত্রের ব্যবহারে ‘বহু দুরারোগ্য রোগের নিরাময়’ হওয়া তো দূরের কথা, এর ক্ষতিকর ভাইরাস থেকে বিভিন্ন রোগ তৈরি হয়।

হিন্দুত্ববাদীরা শুধু গরু পরিবহনের কারণে অনেক মুসলিমকে হতাহত করছে। আর হিন্দুত্ববাদী আদালত কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া অন্ধ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে, শুধু মুসলিম-বিদ্বেষের কারণে উক্ত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। অথচ বিশ্বে গরুর গোশত রপ্তানিতে ভারত অন্যতম। একদিকে গরুর গোশত রপ্তানি করে অর্থনৈতিক চাহিদা মেটায়, অন্যদিকে গরু সংরক্ষণের নামে মুসলিমদের উপর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা।



তথ্যসূত্র:
——–
1. Gujarat: 22-year-old Muslim youth gets life in prison for “illegal transportation of cows”
https://tinyurl.com/363sacsy

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন