নয় বছর থাইল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী থাকা দুই উইঘুরের মৃত্যু

0
104
৪০ বছর বয়সী উইঘুর মুসলিম মাত্তুহতি মাত্তুরসুন। ২১শে এপ্রিল থাইল্যান্ডে মারা গেছেন তিনি।

আরও একজন উইঘুর শরণার্থী মারা গেছেন থাইল্যান্ডে। চীনের কবল থেকে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন উইঘুর মুসলিমরা। এর মধ্যে থাইল্যান্ডে আশ্রয়ের খোঁজে এসেছিলেন ৫০ জনের মতো। কিন্তু তাদেরকে ২০১৪ সাল থেকেই ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী করে রেখেছে থাইল্যান্ড। এদের মধ্য থেকে এ বছর দুইজন উইঘুর মারা গেছেন।

গত ২৪শে এপ্রিল মাত্তুহতি মাত্তুরসুন (মুহাম্মাদ তুরসুন নামেও পরিচিত) নামে একজন উইঘুর মুসলিমের মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করেছে বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেস। ৪০ বছর বয়সী তুরসুন সোয়ান ফ্লো অভিবাসী ডিটেনশন সেন্টারে থাকাবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ২১শে এপ্রিল একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি একই ডিটেনশন সেন্টারে ৪৯ বছর বয়সী উইঘুর আজিজ আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

থাই কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনও তুরসুনের মৃত্যুর ব্যাপারে সুনিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। তবে স্থানীয় দাতব্য কাজে জড়িত এবং ডিটেনশন সেন্টারে খাবার ডোনেশনকারী চালিদা তাজারুয়েনসুক বলেন, অন্যান্য উইঘুররা তুরসুনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা জানিয়েছেন। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত এক পুলিশ সূত্রও তুরসুনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ইসলাম কাউন্সিলও বলেছে যে, তারা তুরসুনের দেহ গত সপ্তাহেই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন এবং ব্যাংককের একটি মসজিদের পাশে তাকে কবরস্থ করেছেন।

মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দুইজন মধ্য বয়স্ক উইঘুর পুরুষের মৃত্যু নিশ্চিতভাবেই ডিটেনশন সেন্টারের শোচনীয় পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে বলে মনে করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। আরও ভালো পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

“ভেতরে যে খুবই খারাপ পরিস্থিতি তা পরিষ্কার। সেখানকার খাবার-দাবার ও বসবাসের ব্যবস্থা খুবই নিম্ন মানের। এক জায়গায় অনেক মানুষ গাদাগাদি করে রাখা হয়। আর সেখানে স্থাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখানে খুবই সাদামাটা ও প্রাথমিক স্তরের একটি স্বাস্থ্য কক্ষ রয়েছে। কিন্তু কোনো ডাক্তার নেই, আছে কেবল নার্স,” বলছিলেন চালিদা।

উইঘুরদেরকে মুক্ত করে দিতে মানবাধিকার কর্মীরা আহ্বান জানিয়েছেন থাইল্যান্ড প্রশাসনের প্রতি। অন্তত উইঘুরদের মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলো যেন নিশ্চিত করা হয় এবং যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় সেই দাবিও জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ১৭৩ জন উইঘুরকে ফেরত পাঠিয়েছিল থাইল্যান্ড। এদের অধিকাংশ ছিল নারী ও শিশু। এর এক সপ্তাহ পর আরও ১০৯ জন উইঘুর পুরুষকে চীনে পাঠিয়েছিল থাইল্যান্ড।

তথ্যসূত্র:
1. 2nd Uyghur Detainee Death in Thailand Prompts Calls for Group’s Release, Resettlement – https://tinyurl.com/2e34m427

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধহিন্দুদের বিরুদ্ধে কথা বললে গুলি করা হবে: বিজেপি এমএলএ
পরবর্তী নিবন্ধকাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসন: এক যুবক গুম, অপর যুবক গ্রেফতার