আল্লামা আহমদ শফী (রহ.): বাংলাদেশের এক অবিস্মরণীয় আলেমে দ্বীন

- আব্দুল্লাহ্‌ বিন নজর

1
991

দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা আলহাজ শাহ আহমদ শফী (রহ.) ছিলেন একাধারে একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশের কওমি অঙ্গনের আধ্যাত্মিক রাহবার। ২০১৩ যখন ইসলামবিদ্বেষী সরকারের ছত্রছায়ায় নাস্তিক বামপন্থী ও হলুদ মিডিয়ার সম্মিলিত অপশক্তি কথিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির আড়ালে এদেশে নাস্তিক্যবাদী উগ্র সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠা করার এবং ইসলামের সমস্ত চিহ্ন মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতেছিল, ঠিক তখন ইসলামপ্রিয় মুসলিমদের ঈমান ও দ্বীনের হেফাজতে নিজের আস্থাভাজন শিষ্য-অনুসারীদের নিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ান এই বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমে দ্বীন। বার্ধক্য ও দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রও এদেশের আপামর মুসলিম জনগণের ঈমান ও দ্বীন হেফাজতের আন্দোলনে তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, জাতির এই মহান রাহবারের প্রয়াণের দিনে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক নিয়ে আল-ফিরদাউসের পাঠকদের জন্য আমাদের এই আয়োজন ও ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা কথা বলবো তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টায় আভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বল ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিয়েও, জীবনসয়াহ্নে এসে যারা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে বরেণ্য এই আলেমে দ্বীনের নাম ও ইজ্জত ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করতেও পিছপা হয়নি।
আমাদের আলোচনায় আরও থাকবে বিখ্যাত এই আলেমের জীবনী থেকে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয় বিষয়সমূহ।

জন্ম ও শৈশব

আল্লামা হযরত শাহ আহমদ শফী (রহ.) ১৯৩০ সালের ৫ এপ্রিল মোতাবেক ১৩৫১ হিজরি সনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া থানার অন্তর্গত পাখিয়ারটিলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর মরহুম পিতার নাম জনাব বরকত আলী এবং মরহুমা মায়ের নাম মুসাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম।

পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আহমদ শফী ছিলেন ছোট। পিতা-মাতা শিশুকালেই তাঁকে কোরআন শিক্ষার জন্য জনাব মৌলভী আজিজুর রহমান (রহ.)-এর কাছে প্রেরণ করেন এবং কোরআর শিক্ষার ফাঁকে নিয়মিত চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমেও শিক্ষা দান করেন। এরপর তিনি শরফভাটা মাদরাসায় প্রাথমিক কিতাব পাঠে মনোনিবেশ করেন।
ছয় বছর বয়সে তার মা ও দশ বছর বয়সে তার পিতা মৃত্যুবরণ করলে তিনি ভাইবোন, বিশেষত চতুর্থ ভাইয়ের নিকট লালিত-পালিত হন।

শিক্ষাজীবন

ছোটবেলা থেকেই আহমদ শফী অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, চিন্তাশীল এবং প্রখর মেধাবী ও সুবুদ্ধির অধিকারী হওয়ায় অতি অল্প বয়সেই কোরআনের তিলাওয়াত ও প্রাথমিক শিক্ষা-দীক্ষা সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করে কৃতিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হন।

এরপর তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রামস্থ ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়াতুল আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরি মাদরাসায়। ৫/৬ মাস পর ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জিরি মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক ১৩৬১ হিজরীতে জনাব হাফেজ ইমতিয়াজ সাহেবের প্রচেষ্টায় এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১০ বছর।

হাটহাজারী মাদ্রাসায় মিশকাত জামাত পর্যন্ত পড়ার পর উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৭১ হিজরী সনে তিনি যান ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ও এশিয়া মহাদেশের শ্রেষ্ঠতম দীনি বিদ্যানিকেতন দারুল উলূম দেওবন্দে। সেখানে তিনি দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন।

দেওবন্দে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই আহমদ শফী শাইখুল ইসলাম হজরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানীর (রহ.) হাতে বাইআত গ্রহণ করেন এবং অতি অল্প সময়েই খিলাফত প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে হুসাইন আহমদ মাদানী তাকে খেলাফত প্রদান করেন।
এছাড়া আল্লামা আহমদ শফীর (রহ.) শিক্ষকদের মধ্যে আরও রয়েছেন উপমহাদেশ প্রখ্যাত ইসলামী আইন বিশারদ মুফতিয়ে আজম হজরত মাওলানা ফয়যুল্লাহ (রহ.), শাইখুল হাদীস আল্লামা সুফী আবদুল কাইউম (রহ.), শাইখুল আদব আল্লামা মুহাম্মদ আলী নিজামপুরী (রহ.) ও শাইখ আল্লামা আবুল হাসান (রহ.) প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

দেওবন্দ মাদরাসার পড়াশুনা শেষে আল্লামা মাদানীর প্রতিনিধি হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন আহমদ শফী (রহ.)। চট্টগ্রামে আল্-জামিয়াতুল আহ্লিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। এরপর ১৪০৭ হিজরি মোতাবেক ১৯৮৬ সালে তিনি দেশের সর্ববৃহৎ এই মাদরাসাটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর ২০০০ সালে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস হিসেবেও নিযুক্ত হন। আমৃত্যু তিনি হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৫ সালে তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মনোনীত হন। এরপর ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠিত হলে তিনি সংগঠনটির আমীর মনোনীত হন। ২০১২ সালে সরকার বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা কমিশন গঠন করে, তিনি সেখানে সভাপতি হিসেবে যোগদান করে। আর ২০১৭ সালে তিনি আল হাইআতুল উলিয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

হেফাজতে ইসলাম গঠন ও প্রেক্ষাপট

২০০৮ সালে হাসিনার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করে। এতে ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা ও স্কুলে না পড়িয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা প্রভৃতি উপাসনালয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রদানের কথা বলা হয়। এভাবে ধর্মশিক্ষাকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করার কৌশল অবলম্বন করা হয়। মূলত এই শিক্ষানীতি ঘোষণার প্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে চট্টগ্রামের প্রায় একশত কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে গঠন করা হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংগঠনটি বাংলাদেশে ইসলামী পুনরজাগরন এবং ইসলামবিরোধী ঘটনাবলির বিরুদ্ধে ও ইসলামি শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে।

২০১১ সালে ইসলামবিরোধী জাতীয় নারী নীতি (২০০৯) প্রণয়ন করা হয়। এরপর আবার ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-এর নীতিটি বাতিল করা হয়। আল্লামা শফীর (রহ.) নেতৃত্বে প্রতিটি ইসলামবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

নাস্তিকবিরোধী আন্দোলন ও ১৩ দফা

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়ে শুরু হয় নাস্তিক ও বামপন্থীদের আন্দোলন। তবে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এটা প্রমাণ করেছেন যে, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবির আড়ালে তাদের মূল এজেন্ডা ছিল দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা এবং ইসলাম ও মুসলিমের ভিত নরবরে করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে সম্পূর্ণ হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যের মধ্যে নিয়ে যাওয়া।

একে একে এই শাহবাগ আন্দলনের নেতাদের লাগাতার ইসলাম অবমাননা, ইসলামের প্রতীকসমূহ নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করার অভিযোগ প্রমাণিত হতে থাকলে, ১৫ ফেব্রুয়ারি নাস্তিক ব্লগার রাজিব ওরফে থাবা বাবা নবীপ্রেমিক যুবকদের হাতে নিহত হয়।
কিন্তু তারপরও শাহবাগ সংশ্লিষ্টরা ক্রমাগত ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যেতেই থাকে।

দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় থাবা বাবার লেখাগুলো প্রকাশের ফলে প্রতিবাদও শুরু হয়। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার ও জাতির উদ্দেশ্যে ‘শাহবাগে ইসলামবিদ্বেষের প্রতিবাদে গর্জে উঠুন’ শীর্ষক খোলা চিঠি প্রদান করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শাহ আহমদ শফী।

২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে হেফাজতে ইসলাম এবং সমমনা ১২টি ইসলামী দলের পক্ষে প্রথম বিক্ষোভ মিছিলটি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ দারুল উলুম হাটহাজারীতে আলেমদের নিয়ে একটি ওলামা সম্মেলনের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এই সম্মেলন থেকে সরকারকে ১৩ দফা দাবি জানানো হয়। ৫ই এপ্রিলের আগে ১৩ দফা দাবি মানা না হলে ৬ই এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। লংমার্চ কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে জনমত গড়ে তুলতে জেলায় জেলায় অনুষ্ঠিত হয় শানে রিসালাত সম্মেলন।

ইসলাম ও রাসূলকে (ﷺ) কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন ও সমাবেশের পাশাপাশি ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে হেফাজতে ইসলাম।

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির দফাসমূহ হলো:

১। সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরান-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা।
২। আল্লাহ্, রাসুল ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।
৩। শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক এবং রাসূলের (ﷺ) নামে কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা।
৪। ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
৫। ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।
৬। সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৭। মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।
৮। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম সহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।
৯। রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।
১০। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিষ্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।
১১। রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র রাসুলপ্রেমিক জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা।
১২। সারা দেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবদের হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাঁদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।
১৩। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাছাত্র ও রাসুলপ্রেমিক জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান।

এই ১৩ দফা দাবি আদায় ও নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে হেফাজতের লংমার্চ বানচাল করতে ক্ষমতাসীন সরকারের মদদে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঘাদানিক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বাম ঘরানার ২৭ সংগঠন ৪ ও ৫ এপ্রিল হরতাল পালন করে। ৬ এপ্রিল যথাসময়ে সারাদেশ থেকে অর্ধকোটি মানুষের অংশগ্রহণে লংমার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ দফা দাবি মানা না হলে লংমার্চে আহমদ শফীর পক্ষে জুনায়েদ বাবুনগরী পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। সরকার দাবি না মানায় ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশ, র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর আক্রমণে হেফাজতে ইসলামের শত শত নেতাকর্মীকে শহীদ করে দেওয়া হয়।

হেফাজতের আন্দোলনের সেই সময়টায় গুটিকয়েক শাহবাগী ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের সমস্ত মুসলমান শাহবাগকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্হান গ্রহণ করেন।
মূলত এই ঘটনার পরেই নাস্তিক্যবাদী শাহবাগ আন্দোলনের পতন ঘটে।

পাঠ্যপুস্তক সংস্কার ও সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য অপসারণ

২০১৬ সালে শাহ আহমদ শফীর (রহ.) নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অভিযোগ করে যে, স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী ভাবধারা বাদ দিয়ে নাস্তিক্যবাদ এবং হিন্দুত্ববাদ পড়ানো হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘ইসলামী ভাবধারার’ ১৭টি বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে যে পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করা হয়, সেখানে হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ী মোট ২৯টি লেখা সংযোজন- বিয়োজন করে পরিবর্তন করা হয়।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। সেটিকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আন্দোলন শুরু করে। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের মুখে পরবর্তীতে ওই ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে অপসারণ করা হয়।

বিতর্ক

হেফাজতে ইসলামের আন্দলনের শুরু থেকেই আল্লাম আহমদ শফী হুজুরকে (রহ.) বিতর্কিত করতে হেফাজতের অভ্যন্তরে একদল নামধারী আলেম উঠে-পড়ে লেগেছিল। সরকারের যোগসাজশে তারা এই কাজে একপর্যায়ে আল্লামা শফীর (রহ.) কনিষ্ঠপুত্র মাওলানা আনাস মাদানীকে সামনে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাওলানা আনাস মাদানী একসময় তার পিতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় আল্লামা শফী (রহ.)-কে বিভিন্ন বিষয়ে ভুল বুঝাতে থাকেন, এবং তাঁর নাম ব্যবহার করেই হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের সমঝোতার ব্যবস্থা করেন।

২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ পাস করা হয়। যদিও কওমি মাদরাসার সরকারি স্বীকৃতির বিষয়টিকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখাতে চান, কিন্তু এই স্বীকৃতি প্রদানের পেছনে সরকারের দুরভিসন্ধির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এই উপলক্ষে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শোকরানা মাহফিলে কওমী আলেমদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয় আর সরকারের পক্ষ থেকে ৫ই মে গণহত্যার বিষয়টিকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়।
এই শোকরানা মাহফিল না করতে হেফাজতের ৬৮ নেতার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আহমদ শফী বরাবর দেওয়া হয়েছিল। হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমির নুর হুসাইন কাসেমী(রহ.), ইজহারুল ইসলাম (রহ.) ওআজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ (সাংগঠনিক সম্পাদক) অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। এই প্রেক্ষিতেই ২ অক্টোবর নায়েবে আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন।

একপর্যায়ে এসে মাওলানা আনাস মাদানি মাজুরের পর্যায়ে চলে যাওয়া শতবর্ষী প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা শফী হুজুর (রহ.)-এর নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে হাটহাজারী মাদরাসা, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশে ও হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করে নানান অনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে শুরু করে। এভাবে পুত্র আনাস মাদানী সরকারের আস্হাভাজন হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি তার পিতা আহমদ শফীকে ভুল বুঝিয়ে ও তাঁর প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের নানাভাবে হয়রানি ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন; এমনকি অর্থ লোপাট এবং অর্থের বিনিময়ে কওমী মাদ্রাসার নিয়মনীতিকে পাশ কাটিয়ে কওমি ধারার বিভিন্ন মাদ্রাসায় মুহতামিম বা পরিচালক নিয়োগ দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরি (রহ.) সহ যেসকল আপসহীন উলামা সরকারের নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করতেন, তাঁদেরকে হেফাজতে ইসলাম ও হাটহাজারী মাদরাসায় ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে ফেলা হতে থাকে। এমনকি হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা বাবুনগরি হুজুর (রহ.)-এর অনুসারী ছাত্র ও শিক্ষকদেরকে নানান অজুহাতে বহিষ্কার করার ঘটনা পর্যন্ত ঘটে। এসব মিলে তার উপর ছাত্রদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হেফাজতের আমীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতাবৃন্দের একাংশের সাথে সরকার ও হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের সখ্যতাকে সংগঠনের বড় অংশটিই মেনে নেয়নি। জুনায়েদ বাবুনগরী তাদের নেতা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। অন্যদিকে, দরবারি আলেম হিসেবে কেউ কেউ সমালোচিত হন। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসার তরুণ অংশ এই সকল অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ফেসবুকে সরব হওয়া শুরু করে।
এরপর ২০২০ সালের ১৭ জুন জুনায়েদ বাবুনগরীকে হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, আনাস মাদানী তার পছন্দের ব্যক্তিকে সহকারী পরিচালকের পদে বসানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বাবুনগরী হুজুরকে সরিয়ে দেন।

২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জুনায়েদ বাবুনগরীর গ্রামের বাড়ি বাবুনগরে তাঁর ছেলের বিবাহত্তোর ওয়ালিমার আয়োজনে অনেক আলেম অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আল্লামা মামুনুল হক মাজুর হওয়ায় আহমদ শফী হুজুরের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ করা হয়, সেই ওয়ালিমায় হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে যেসকল ছাত্র বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়েছিল, তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছিল। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের নূরিয়া মাদরাসায় একই বিষয়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

হাটহাজারীর ছাত্র আন্দোলন ও আল্লামা শফীর মৃত্যু

২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাদ জোহর শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে ছাত্ররা বিভিন্ন স্লোগানের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। আনাস মাদানীর রুমে ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর জন্য মাদ্রাসার ছাত্ররা মসজিদের মাইকে তাদের দাবিদাওয়া ঘোষণা করতে থাকেন। এরপর বিকেলে আনাস মাদানীর সহযোগী মাইনুদ্দীন রুহীকে শলাপরামর্শের মাধ্যমে দারুল উলুম হাটহাজারীসহ কওমি মাদ্রাসায় সব ধরনের অনিয়ম এবং অরাজকতার বীজ বপনের অভিযোগ এনে গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।

ছাত্ররা ৫ দফা দাবি নিয়ে এই আন্দোলন শুরু করেন। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মাদ্রাসায় লিফলেটের মাধ্যমে এই দাবিসমূহ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্রদের দাবি সমূহের মধ্যে ছিল:

১। অনতিবিলম্বে আনাস মাদানীকে তার কর্মস্থল তথা মাদ্রাসা থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে।
২। ছাত্রদের সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে এবং হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
৩। শাহ আহমদ শফী মাদ্রাসা পরিচালনায় অক্ষম হওয়ার কারণে তাকে সম্মানজনকভাবে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে মাদ্রাসার উপদেষ্টা বানাতে হবে।
৪। মাদ্রাসার শিক্ষকদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং তাদের নিয়োগ-বিয়োগকে সম্পূর্ণরূপে মজলিসে শুরার নিকট ন্যস্ত করতে হবে।
৫। মজলিসে শূরার বিতর্কিত সদস্যদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং পূর্ববর্তী মজলিসে শুরার হক্কানী আলেমদের পুনরায় বহাল করতে হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটি মোট তিনটি সিদ্ধান্ত নেয়। সেগুলো হল- আনাস মাদানীকে অব্যাহতি প্রদান, মাদ্রাসার ছাত্রদের কোনো রকমের হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি এবং আগামী শনিবার মজলিসে শূরার সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে অন্য সমস্যাসমূহের সমাধানের প্রতিশ্রুতি। এর পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়।

কিন্তু পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, শাহ আহমদ শফী (রহ.) আরেকটি বৈঠক ডেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে যাচ্ছেন যে, তিনি মাদ্রাসাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দেবেন এবং সাথে তার ছেলে আনাস মাদানীর প্রত্যাহার আদেশটি তিনি অজ্ঞাত অবস্থায় স্বাক্ষর করেছেন, তাই তিনি সেই আদেশটি স্থগিত করবেন। ফলশ্রুতিতে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। ১১টার দিকে ছাত্ররা আবার বিক্ষোভে নামে।

একইদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসব শর্ত আরোপিত হয়েছিল তা সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে। তবে মাদ্রাসাটি যেহেতু সরকারি নয়, সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার নেই- এই যুক্তি দেখিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া সরকারি সিদ্ধান্তটি প্রত্যাখান করে মাদ্রাসায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

তবে, সেইদিন রাতে মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন শাহ আহমদ শফী (রহ.)। পদত্যাগের পর আহমদ শফী (রহ.) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন শুক্রবার বিকালে তাকে ঢাকায় আনার পরই তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা আহমদ শফীর (রহ.) মৃত্যুর ৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি এদেশের মুসলিমদের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, সেই সমস্ত ত্যাগ ও কুরবানি তাঁর কনিষ্ঠপুত্রের ভুল বা ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের দ্বারা ম্লান হয়ে যাওয়ার নয়। তাছাড়া মানুষ হিসেবে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট দোয়া করি, তিনি যেন তাঁর সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং তাঁকে জান্নাত দান করেন। আমীন।



 

তথ্যসূত্র:

১. চেতনার মুরব্বী আল্লামা শাহ আহমদ শফী
https://tinyurl.com/yc3hfwm8
২. শাহ আহমদ শফী
https://tinyurl.com/bdhd62dv
. একনজরে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বর্ণাঢ্য জীবন
https://tinyurl.com/mu78p68b
৪. হাটহাজারি মাদরাসার ছাত্র আন্দোলনের সময় দেয়া সতর্কবাণী ১৭-৯-২০.. হজরত মাওলানা জামিল আহমদ আনসারি (ইউটিউব লিংক)
https://tinyurl.com/3xuwrdhf
৫. হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র আন্দোলনের সব ভিডিও একসাথে, স্বর্ণ অক্ষরে লেখা হাটহাজারী আন্দোলন,কে ছিলো
https://tinyurl.com/bde2kerk

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বাস্থ্যখাতে তালিবানের নজরদারি, অনিয়মে বন্ধ ৪০ ক্লিনিক ও ২৩ ফার্মেসি
পরবর্তী নিবন্ধকাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের উপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের হামলা