কাশ্মীর জিহাদের মহানায়ক: কমান্ডার জাকির মূসা রহিমাহুল্লাহ || পর্ব-১ ||

0
349

ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যেও একটি লাশকে ঘিরে হাজার হাজার জনতার ভীড়। লাশটি কালিমাখচিত কালো পতাকা দিয়ে মোড়ানো। এই লাশবাহী খাটোয়া কাঁধে বহন করে চলেছে জনতার স্রোত। আর থেমে থেমে স্লোগান শোনা যাচ্ছে তাদের কণ্ঠে। বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত কাশ্মীরের আকাশ-বাতাস। কখনও “মূসা, মূসা, জাকির মূসা” স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে; কখনও আবার স্লোগান উঠে, “আজাদি কা মতলব কীয়া? লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।”

এই স্লোগান দুটির মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে। প্রথম স্লোগানটি জাকির মূসাকে নিয়ে; যাঁর লাশ কাঁধে বহন করছে কাশ্মীরি মুসলিমরা। কাশ্মীরিদের কাছে তিনি কমান্ডার জাকির মূসা হিসেবে পরিচিত। কাশ্মীরের ইতিহাসে তিনি এমন এক মহাপুরুষ, যিনি নিজের জীবন দিয়ে কাশ্মীরের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন, সূচনা করেছেন কাশ্মীরি স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নতুন অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের স্লোগানই উঠে এসেছে কাশ্মীরি মুসলিমদের কণ্ঠে। তারা বলছেন, তাদের আজাদির মানে হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তথা তাদের কাছে মুক্তি বা স্বাধীনতার মানে হলো কাশ্মীরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আর এই স্লোগানের মর্ম যিনি কাশ্মিরি মুসলমানদের সামনে নবায়ন করেছেন, তিনি হলেন কমান্ডার জাকির মূসা রহিমাহুল্লাহ।

যুগের মহান এই মুজাহিদদের কর্মোদ্যম জীবনী নিয়ে আজ উপস্থাপন করছি আমাদের লেখনির প্রথম পর্ব।

কে ছিলেন কমান্ডার জাকির মূসা?

জাকির মূসার আসল নাম জাকির রশিদ ভাট। ১৯৯৪ সালের ২৫শে জুলাই কাশ্মীর উপত্যকার পুলওয়ামায় ট্রালের নূরপুরা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা আব্দুল রশিদ ভাট রাজ্য সরকারের একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। আর ভাই শাকির একজন ডাক্তার।

জাকির মূসা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন নূর পাবলিক স্কুলে। এরপর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন নূরপুরার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ২০১১ সালে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। পরে ভর্তি হন পাঞ্জাবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। তবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩য় সিমেস্টারে পড়াকালীনই তিনি বাড়ি ছাড়েন, নাম লেখান কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামে।

স্বচ্ছল পরিবারে আরামেই দিন কাটছিল জাকির মূসার। ব্যস্ত থাকতেন তাঁর আইফোন-আইপড নিয়ে। নিজের ইয়ামাহা আর-১৫ দ্রুতগতিতে চালাতে ভালোবাসতেন তিনি। আর পছন্দ করতেন আধুনিক ফ্যাশনের পোশাক পরতে। এই ছেলে যে মাত্র তিন বছর পরে ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবেন এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথই পরিবর্তন করে দেবেন, বাহ্যত এরকম কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না। তবে কেন এবং কীভাবে তিনি জাকির রশিদ ভাট থেকে কমান্ডার জাকির মূসায় পরিণত হলেন?

কেন এই পথে?

২০১০ সালের ৩০শে এপ্রিল। দক্ষিণ কাশ্মীরের কুপওয়ারার মাছহিলে তিন যুবককে খুন করে ভারতীয় দখলদার বাহিনী। তাদের দাবি, নিহতরা পাকিস্তানী অনুপ্রবেশকারী ছিলেন। তবে পরে সত্য প্রকাশ হয়। জানা যায়, যুবক তিনজন ছিলেন স্থানীয় কাশ্মীরি মুসলিম। তাদেরকেই হত্যা করে ভারতীয় বাহিনী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ শুরু হয় শ্রীনগরে। ধীরে ধীরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকায়।

ভারতীয় দখলদার বাহিনীর উপর পাথর নিক্ষেপ করছেন মুক্তিকামী কাশ্মীরিরা

উপত্যকাজুড়ে ভারতীয় বাহিনীর উপর পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন কাশ্মীরি তরুণরা। পুলিশ তাঁদের নামে মামলা করে। তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের একজন হলেন ১৪ বছর বয়সী জাকির রশিদ ভাট।

“তাঁর বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর। পুলিশ তাঁকে পাথর-নিক্ষেপের ঘটনায় অভিযুক্ত করে। সে পাথর নিক্ষেপ করেনি, এ কথা আমি বার বার তাদের বলছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথায় কর্ণপাত না করে তাঁকে হয়রানি করছিল,” ২০১৭ সালে নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলছিলেন জাকির মূসার বাবা আব্দুল রশিদ ভাট।

তিনি আরও বলেন, “আমি কখনও আমার সন্তানের গায়ে হাত তুলিনি। অথচ ঐ মুহূর্তে আমি দেখি, জাকিরের গালে এক পুলিশ চড় মেরেছে। আমার রক্ত তখন গরম হয়ে গিয়েছিল। আমি কখনও ঐ মুহূর্ত ভুলতে পারব না। হয়তো জাকিরও ভুলতে পারবে না। আপনারা দেখবেন, আমরা বৃদ্ধরা অনেক কিছুই মানিয়ে নিয়ে চলতে পারি। তবে যুবকরা আমাদের মতো নয়।”

আব্দুল রশিদ ভাটের মতে, ঐদিন পুলিশের এমন আচরণই জাকির মূসাকে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

“কিছু পুলিশ অফিসার একবার জাকিরকে বলেছিল যে, তাঁর কোনো ভবিষ্যত নেই; এফআইআরে তাঁর নাম ওঠানো হয়েছে। আমি জাকিরকে উৎসাহিত করতে চেষ্টা করছিলাম, এই পরিবেশ থেকে নিয়ে তাঁকে জম্মুতে কোচিং করতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জম্মু থেকে ডেকে আনে এবং হয়রানি করে। তবে অবশেষে সে চান্দিগড়ে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হতে সক্ষম হয়,” বলছিলেন জাকিরের বাবা ।

জাকির মূসার অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। অন্যায় দেখে তিনি চুপ করে থাকতে পারতেন না। কে কী বলবে, পরে কী হবে—এগুলো ভেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতেন না। তাঁর এক বন্ধু বলেছেন, “উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক মেয়ের সাথে এক শিক্ষক অসভ্য আচরণ করে। মেয়েটি ঐ শিক্ষকের ব্যাপারে জাকিরের কাছে এসে অভিযোগ জানায়। জাকির তখন ঐ শিক্ষকের মুখে ঘুষি মেরে আসে। তাঁকে গুন্ডা মনে করবেন না। সে এমন একজন মানুষ ছিল, যে আগে কাজ করতো এবং কী হবে না হবে এগুলো পরে ভাবতো। আর সত্যি বলতে, তাঁর অস্ত্র তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। আমি মনে করি, বর্তমানে শিক্ষিত এবং ভালো মানুষেরাই অস্ত্র তুলে নিচ্ছে।”

জাকির মূসার সহপাঠী-বন্ধুরা তাঁর ব্যাপারে জানান, জাকির এমনিতে ছিলেন মজার মানুষ। নিজে ভ্রমণ করতেন, অন্যদের ভ্রমণ করতে উৎসাহ দিতেন। তবে নিজে এমন আনন্দময় জীবন উপভোগের পরও, নিজ জাতির দুঃখ-কষ্টের কথা তিনি ভুলে যাননি। কাশ্মীরিদের দুঃখী জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি সর্বদা চাইতেন কাশ্মীর এমন একটি স্থান হবে, যেখানে মানুষ জীবনকে উপভোগ করতে পারবে।

কাশ্মীরের মানুষকে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই হঠাৎ একদিন বাড়ি ছাড়েন জাকির, হাতে তুলে নেন অস্ত্র।

ঘর ছেড়ে ফেরারী

২০১৩ সালের জুলাই মাস। কেউ একজন আব্দুল রশিদ ভাটের বাড়িতে পলিথিনে মোড়ানো একটি পার্সেল দিয়ে গেছে। তবে তাঁকে জানায়নি এর ভেতরে কী আছে অথবা কে এটা পাঠিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল রশিদ ভাট এমন একটি পার্সেল পেয়ে বিস্মিত। এর ভেতরে কী আছে, তা খুলে দেখতে তার আর তর সইছে না।

তিনি পার্সেলটি খুললেন। দেখলেন ভেতরে আছে একটি আইফোন, আইপড এবং তিনটি ডেবিট কার্ড। এই সবগুলো জিনিসই তার ছেলে জাকির রশিদ ভাটের। মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন। পার্সেলের ভেতরে আরেকটি ছোট নোটও আছে। আর এই নোটটি নিজের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার শেষ আশাটুকুও মিটিয়ে দিয়েছে আব্দুল রশিদের। নোটটিতে লেখা আছে, “আপনি আমাকে যা দিয়েছেন, আমার পরিহিত কাপড়গুলো ব্যতীত সবকিছুই আমি ফেরত দিয়েছি। এখানে আমার কাছে টাকা নেই। টাকা থাকলে আমি টি-শার্ট এবং ট্রাউজারটাও ফেরত দিতাম। দয়া করে আমাকে খুঁজবেন না। আমি আমার পথ খুঁজে পেয়েছি; প্রকৃত একটি পথ।”

২০১৩ সালের ১৭ই জুলাই, ১৯ বছর বয়স পূর্ণ হতে আর মাত্র ৮দিন বাকি জাকিরের। এদিনই দুইজন বন্ধুর সাথে বাড়ি ছাড়েন জাকির রশিদ ভাট।

যেভাবে কমান্ডার হলেন

বাড়ি থেকে পালিয়ে জাকির রশিদ ভাট যোগ দেন হিজবুল মুজাহিদিনে। তখন সংগঠনটির সামরিক কমান্ডার ছিলেন কাশ্মীর জিহাদের প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বুরহান মুজাফফর ওয়ানি রহিমাহুল্লাহ। কমান্ডার বুরহান ওয়ানি কমান্ডার জাকির মূসার সমবয়সী ছিলেন। তবে বুরহান ওয়ানি জাকির মূসার তিন বছর আগে কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন।

বুরহান ওয়ানির সাথে কমান্ডার জাকির মুসা

বুরহান ওয়ানি ২০০৮ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীনই প্রথমবার বাড়ি ছেড়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান। এরপর ২০১০ সালের ১৬ই অক্টোবর এই মেধাবী তরুণ আবারও বাড়ি ছেড়ে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দেন। তিনি কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান। অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। জাকির মূসা ছিলেন বুরহান ওয়ানির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোদ্ধা। ভারতীয় দখলদার বাহিনী ২০১৬ সালের ৮ই জুলাই মাত্র ২১ বছর বয়সী বুরহান ওয়ানিকে শহীদ করে দেয়। বুরহান ওয়ানির শাহাদাতের পর তাঁর স্থলে বসানোর জন্য হিজবুল মুজাহিদিনের দরকার তাঁরই মতো আরেকজনকে। আর এক্ষেত্রে জাকির মূসা ছিলেন উপযুক্ত ব্যক্তি। তাই দেরি না করে, জাকির মূসাকে বুরহান ওয়ানির স্থলাভিষিক্ত করা হয়। তখন থেকেই জাকির রশিদ ভাট হলেন কমান্ডার জাকির মূসা।

কমান্ডার জাকির মূসা প্রযুক্তিতে খুবই পারদর্শী ছিলেন। চতুর্থ শ্রেণিতে থাকতেই তিনি প্রথম ল্যাপটপ ব্যবহার শুরু করেছেন। এরপর স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের আগ পর্যন্ত প্রযুক্তির মধ্যেই কাটিয়েছেন। তাই কাশ্মীরের জিহাদে প্রযুক্তিকেন্দ্রীক তথ্য-যুদ্ধকে আরও বেগবান করতে সক্ষম হন কমান্ডার জাকির মূসা। এজন্য তাঁকে বলা হয় ‘প্রযুক্তিপ্রিয় নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত জিহাদী’। বুরহান ওয়ানির মতো তাঁকেও কাশ্মীরের জনগণ হৃদয়ের গভীরে স্থান দেন, শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেন। আর কমান্ডার জাকির মূসা সেই মর্যাদাকে নিজের রক্ত দিয়ে সমুন্নত করেছেন।

হিজবুল মুজাহিদিন থেকে পদত্যাগ

হিজবুল মুজাহিদিনকে অস্ত্র-অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে পাকিস্তান। তাই পাকিস্তানের নির্দেশের বাহিরে কাশ্মীরে স্বাধীনভাবে অপারেশন পরিচালনা করতে পারে না সংগঠনটি। পাকিস্তান নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এটিকে ব্যবহার করে। এমনকি প্রয়োজনে স্বাধীনতা-সংগ্রামীদের গ্রেফতারও করে, পশ্চিমাদের সুরে মুজাহিদদের আখ্যায়িত করে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলেছিল, “আমি (ইমরান খান) পুনরায় আপনাকে (মোদি) দাওয়াত দিচ্ছি যে, আমরা আলোচনায় বসি। আমি আপনাকে বলেছি, আমি জানি পুলওয়ামায় যেই ট্রাজেডি হয়েছে, তা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। তাই সন্ত্রাসীদের (মুজাহিদ) উপর আপনি যেমনভাবে অপারেশন চান, আমরা তার জন্য প্রস্তুত আছি।”

কাশ্মীরের স্বাধীনতার ব্যাপারে, কাশ্মীরি মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে এই শাসকগোষ্ঠীর কোনো মাথাব্যাথা নেই। তাই এভাবে পাকিস্তানের দাসত্ব করে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ করে, রক্ত ঝরিয়েও কাশ্মীরের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তাই কাশ্মীর জিহাদকে পাকিস্তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন কমান্ডার জাকির মূসা।

তাছাড়া, কাশ্মীর জিহাদকে জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের মোড়কে উপস্থাপন করা হচ্ছিল। কাশ্মীরের সমস্যাকে রাজনৈতিক বিষয় বলে উল্লেখ করা হচ্ছিল। সেক্যুলারগোষ্ঠী কাশ্মীরি মুসলিমদের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় আরোহণের নেশায় মত্ত ছিল। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন কমান্ডার জাকির মূসা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমাদের যুদ্ধ হবে কাশ্মীরে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য। আমাদের হাতে পাথর বা অস্ত্র তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্য হবে কাশ্মীরে ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়ন করা। তিনি হুররিয়াতের সেক্যুলার নেতাদের সতর্ক করে দেন যেন তারা শরীয়াত প্রতিষ্ঠার পথে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায়।

কমান্ডার জাকির মূসা এই বক্তব্য দেওয়ার একদিন পর হিজবুল মুজাহিদিন জাকির মূসার বক্তব্য থেকে নিজেদের দায়মুক্তির ঘোষণা দেয়। এটাকে জাকির মূসার ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করে। হিজবুল মুজাহিদিনের এই বিবৃতির প্রতিউত্তরে কমান্ডার জাকির মূসাও হিজবুল মুজাহিদিন থেকে পদত্যাগ করেন।

আনসার গাজওয়াতুল হিন্দ প্রতিষ্ঠা

হিজবুল মুজাহিদিন ত্যাগ করার পর কমান্ডার জাকির মূসার পথযাত্রা থেমে যায়নি। তিনি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পেয়ে থমকে যাননি। বরং কাশ্মীরে জিহাদের উদ্দেশ্য জনগণের সামনে বার বার তুলে ধরেছেন। বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছেন, কাশ্মীরের জিহাদ কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিলের জিহাদ নয়, এই জিহাদের উদ্দেশ্য হলো কাশ্মীরে এবং সমগ্র ভারতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। এ পথে কারা কাশ্মীরের মুসলিমদের মিত্র আর কারা শত্রু—তাও স্পষ্ট করেছেন। পাকিস্তান সরকার নিজেকে কাশ্মীরের শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রভুর আসনে বসালেও, কার্যত পাকিস্তানও যে কাশ্মীর জিহাদকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে, কমান্ডার জাকির মূসা সেটি বার বার সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেছেন, পাকিস্তান কাশ্মীরের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

আনসার গাজওয়াতুল হিন্দের পতাকা

কাশ্মীরে ইসলাম কায়েম করার পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে কমান্ডার জাকির মূসা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধাদের নিয়ে আনসার গাজওয়াতুল হিন্দ গঠন করেন। নতুন এই সংগঠনকে তিনি কাশ্মীরে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উপযোগী হিসেবে প্রস্তুতের চেষ্টা করেন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধভিডিও || গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে জায়োনিস্ট বাহিনীর উপর হামলা
পরবর্তী নিবন্ধগাজায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত শতাধিক, প্রাণহানি বেড়ে ৩২,৩৩৩