তুর্কি ড্রোন নিয়ে তুর্কি জনগণের প্রতি জেএনআইএম নেতার আহবান

0
386

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। গত ২০২২ সালে পরপর দেশটিতে দুটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। শেষবার এই অভ্যূত্থানের মাধ্যমে বুরকিনার ক্ষমতায় আসে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওর।

ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম এমন এক সময় ক্ষমতায় আসে, যখন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী ‘জেএনআইএম’ যোদ্ধারা এই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা ও বিজিত ভূমির পরিধি প্রসারিত করছেন। পূর্বেকার দূর্নীতিবাজ সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আল-কায়েদার এই অগ্রগতি ও সামরিক তৎপরতা ধ্বংস করতে অনেক দেশের সাথে, বিশেষ করে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সাথে সামরিক চুক্তি ও সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। কিন্তু এই দেশগুলো আল-কায়েদার অগ্রগতি ও তৎপরতার অবসান ঘটাতে পারেনি।

এর কারণ হিসেবে দেখা হয় আল-কায়েদার একতা ও মুসলিমদের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে। ফলে মুজাহিদগণ খুব সহজই সাহেল অঞ্চলের মুসলিম উপজাতিদের থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহায়তা পেয়ে আসছে। আর সাহেল দেশগুলোর উপজাতিদের সাথে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মাধ্যমে আল-কায়েদা পশ্চিমা আফ্রিকায় তাদের উপস্থিতি দিন দিন শক্তিশালী করতে সক্ষম হচ্ছেন।

যাইহোক, বুরকিনা ফাসোতে শেষ অভ্যুত্থানের পরে, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ, দেশটির ক্ষমতায় আসে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন জান্তা প্রশাসন। নতুন প্রশাসন যখন দেখলো পূর্ববর্তী সরকারগুলো পশ্চিমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল-কায়েদার অগ্রগতি রুখতে পারছে না, তখন ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ফ্রান্সের সাথে তার সামরিক সম্পর্ক শেষ করে এবং রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। সেই সাথে ইব্রাহিম ট্রাওর তুরস্কের সাথেও সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। আর এই চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক থেকে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি সশস্ত্র “Bayraktar TB2” ড্রোনগুলো ক্রয় করতে শুরু করে বুরকিনা সরকার।

বুরকিনা ফাসো জান্তা সরকার ঘোষণা করে যে, তারা এই অঞ্চলে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে তুরস্ক থেকে পাওয়া Bayraktar TB2 ড্রোনগুলো ব্যবহার করা শুরু করেছে।

এদিকে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট প্রতিরোধ বাহিনী জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) নিশ্চিত করেছে যে, তুরস্ক থেকে পাওয়া চালকবিহীন বিমানগুলি এই অঞ্চলের বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

“তুরস্কের উচিত সাহেল দেশগুলির সাথে নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করা”

এমন পরিস্থিতিতে বুরকিনা ফাসোতে নিযুক্ত ‘জেএনআইএম’ নেতা, আবু মাহমুদ আল-আনসারি (জাফর ডিকো), তার প্রকাশিত ২৪ মিনিটের একটি নতুন অডিও রেকর্ডিংয়ের এক অংশে তুরস্ককে সাহেল দেশগুলির সাথে তার নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করার দাবি জানান।

আবু মাহমুদ আল-আনসারী বলেন যে, তুরস্কের “বায়রাক্টার টিবি-২” ড্রোনগুলি মহিলা এবং শিশু সহ বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে বিমান হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এতে অসংখ্য নিরপরাধ ও বেসামরিক নাগরিক হতাহতের শিকার হচ্ছেন।

এসময় তিনি তুরস্ক এবং সাহেল দেশগুলির মধ্যে সামরিক চুক্তি শেষ করার জন্য জ্ঞানসম্পন্ন তুর্কি জনগণকে আহ্বান জানান যে, তারা যেনো তুর্কি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধগাজায় কয়েকটি ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে ইসরায়েল
পরবর্তী নিবন্ধইসরায়েলকে ৯৯ শতাংশ অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি