স্বামীর সঙ্গে তর্ক করায়, নওগাঁয় হিন্দুত্ববাদী কায়দায় বাসচালক কে ডেকে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করল হিন্দু পুলিশ সুপার

0
119

নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এক বাসের চালককে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় সাপাহার সার্কেল অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনে ধানসুরা যাওয়ার পথে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়ায় শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে ছেড়ে যায়। রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ওই বাসে যাত্রী হয়ে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে সিটবিহীন টিকিট কেটে উঠেছিল শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে জয়ন্ত বর্মণ বসেছিল সেটি থেকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। ওই সময় নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করে জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যায় জয়ন্ত। চালকের সঙ্গে চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা। এরপর নির্ধারিত গন্তব্য ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় জয়ন্ত বর্মণ।

তারা আরও জানান, জয়ন্ত বর্মণ গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেয় শ্যামলী রানী বর্মণ। টিকিট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করে সে। এরপর চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি ধামকি দেয়। যাত্রাপথে বারবার শ্যামলী রানী বর্মণের কল আসায় বাসটি নির্ধারিত সময়ে রাজশাহী পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করে। পরবর্তীতে রাত ১০টায় হিমাচল পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেয় শ্যামলী রানী বর্মণ। সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি দেয় শ্যামলী। বেধড়ক পেটাতে শুরু করে তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও। এরপর শ্যামলী রানী বর্মণের নির্দেশে তার দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
জানা যায়, পরে আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।

ভুক্তভোগী বাস চালক বাদল বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছেন। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে নির্যাতনের শিকার চালক বাদল বলেন, ‘এএসপি (শ্যামলী রানী বর্মণ) ম্যাডাম ও ওনার স্বামী (জয়ন্ত বর্মন) আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে শরীরের গোপন জায়গা গুলোতে মেরেছে। উনি (শ্যামলী রানী বর্মণ) বডিগার্ডকে বললেন মাইরা হাত পা ভেঙে দে। তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?’

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘আমাদের বাসের এক চালককে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সার্কেল এসপি শ্যামলী রানী বর্মণ নির্যাতন করার পর থেকে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি (শ্যামলী রানী বর্মণ) আমাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেছেন। আমরা অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। অন্যথায় হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।’


তথ্যসূত্র:
https://tinyurl.com/274u6afd

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধইয়েমেনে UAE সমর্থিত শত্রুর সামরিক কনভয়ে আনসারুশ শরিয়াহ্’র হামলা
পরবর্তী নিবন্ধআফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে কালোজাদু চর্চাকারী ২ নারী আটক