
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভোররাতে ভয়াবহ গণডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে।
গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল বালিয়াপাড়া সড়কের দড়িকান্দি শীতলছায়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, দড়িকান্দি এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকসহ পাঁচজন সিএনজি অটোরিকশাযোগে ভূলতা মাছের আড়তে যাওয়ার পথে ওই স্থানে পৌঁছালে ১২ থেকে ১৪ জনের একদল দুর্ধর্ষ ডাকাত তাদের পথরোধ করে। ডাকাতরা পিস্তল, রামদা ও চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যবসায়ীদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা লক্ষাধিক টাকা ও একাধিক মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
এ সময় একই কায়দায় আরও ৮ থেকে ১০ জন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রী ডাকাতির শিকার হয়। ডাকাতের কবলে পড়া আলী হোসেন নামের এক ট্রাকচালক কোনোমতে পালিয়ে পাশের দড়িকান্দি এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, বালিয়াপাড়া–গোলাকান্দাইল সড়ক দিয়ে অন্তত ৪০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। ভূলতা এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মজীবী ও ব্যবসায়িক অঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। তবে রাত ১২টার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত সময়টায় প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ চললেও ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। স্থানীয়দের দাবি, ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকলেসুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে।
এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকলেসুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফাঁড়ি ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পথচারী, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা বলেন, প্রায়ই তারা ডাকাতের কবলে পড়েন। বাধা দিলে কুপিয়ে আহত করা হয়। রাত ১০টার পর থেকেই ডাকাতি শুরু হওয়ায় অনেকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান।
তথ্যসূত্র:
১। ভোররাতে গণডাকাতি, ব্যবসায়ীদের সর্বস্ব লুট
– https://tinyurl.com/vka3y7wb


