ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একের পর এক অপহরণ-ছিনতাই, আতঙ্কে যাত্রীসাধারণ

0
58

আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। ফলে দেশের অন্যতম এই ব্যস্ত সড়কের যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় এসব ঘটনার আশঙ্কা বেশি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক আমার দেশ রবিবার (০৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানায়, মহাসড়কের দাউদকান্দি, চান্দিনা, আদর্শ সদর, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ এলাকায় সম্প্রতি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যার পর কিছু সংঘবদ্ধ চক্র ছোট ছোট মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ব্যবহার করে যাত্রীদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপহরণের শিকার হয়ে পরে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রী সাংবাদিকদের জানায়, অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়া হয়—ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তাদের হত্যা করা হবে। এ ধরনের ভয়ভীতির কারণে অনেক ভুক্তভোগীই মামলা করতে আগ্রহী হন না।

মহাসড়কের কয়েকজন চালক জানায়, সন্ধ্যার পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস নিয়ে যাত্রী পরিবহনের ছদ্মবেশে চলাচল করে। সন্দেহভাজন যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নেওয়ার পর নির্জন স্থানে নিয়ে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

গত বুধবার (৪ মার্চ) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল ঢাকায় যাওয়ার জন্য পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকারের চালক তাকে ডাকলে তিনি গাড়ির কাছে যান। তখন কয়েকজন মিলে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়ার কথা জানান তিনি।

পরবর্তীতে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা জানায়, শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বাদী হয়ে অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, অপহরণকারীরা আমার কাছ থেকে মোট ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আমাকে দাউদকান্দির একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তারা কয়েকবার গুলি ও স্প্রে করে অজ্ঞান করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে আমি এখনো গভীর ট্রমার মধ্যে আছি।

এ ধরনের আরেকটি ঘটনার শিকার হন প্রকৌশলী মাসুম রানা। তিনি কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন। ৩০০ টাকা ভাড়ায় গাড়িটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

মাসুম রানা জানান, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড পার হওয়ার পর আরও দুজন যাত্রী তোলা হয়। পরে সুয়াগাজী এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে বিকাশ ও ব্যাংক হিসাব থেকেও টাকা স্থানান্তর করে নেয়। সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমি কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। মামলা করে কি হবে? পুলিশের টহল থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। এদের সঙ্গে পুলিশের কিছু সদস্য জড়িত আছে বলেও সন্দেহ রয়েছে।

কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মাইক্রোবাস চালক আলাউদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর কয়েকটি চক্র প্রাইভেটকার নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে নামে। তাদের চেনা খুব কঠিন। এখন পর্যন্ত শুনিনি এসব চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজন্য ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম জানায়, কাঁচপুর থেকে চট্টগ্রামের সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় ১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্যামেরাই বর্তমানে অকার্যকর রয়েছে।


তথ্যসূত্র:
১। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাই আতঙ্ক
– https://tinyurl.com/53x2pv9y

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধসোমালিয়ায় ক্রুসেডার উগান্ডান ও বুরুন্ডিয়ান বাহিনীর উপর আশ-শাবাবের হামলা: হতাহত অন্তত ৬ শত্রু সেনা
পরবর্তী নিবন্ধপাকতিয়া প্রদেশে ডুরান্ড লাইনে সংঘর্ষ: নিহত ৮ পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সেনা