
৩০ মার্চ সোমবার ভারতের উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলায় ১২ বছর পূর্বে নির্মিত একটি মসজিদ গভীররাতে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন।
নাইগাঁও বেহাতি গ্রামে অবস্থিত হযরত উমর ফারুক (রাঃ) নামে এই মসজিদটি প্রায় ১.৫ বিঘা জমির উপর নির্মিত হয়েছিল।
ভিডিও:
https://archive.org/details/bulldozer-at-a-mosque-in-uttar-pradesh
গত ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় হিন্দু গ্রামসভা একটি অফিসিয়াল মামলা দায়ের করে। এতে বলা হয়, এই মসজিদ অবৈধভাবে পুকুর ও কবরস্থানের জন্য সংরক্ষিত সরকারি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।
উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গত ৬ জানুয়ারি এই মসজিদ কাঠামোকে অবৈধ ঘোষণা করে হিন্দুত্ববাদী আদালত। আদালত একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়, এরমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে মসজিদটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা আদলতের নির্দেশ অমান্য করলে সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সে মোতাবেক গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাত ৩টায় ৩টি বুলডোজারসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় সম্ভাব্য বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে ৫০০ পুলিশ কর্মী সেখানে মোতায়েন করা হয়। মসজিদ ভাঙ্গার এই পদক্ষেপে নেতৃত্ব দেয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নীতীশ কুমার। হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের এমন কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ে সকাল ৮টার মধ্যেই মসজিদটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক ইস্যু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত মাওলানা আব্দুর রহমান। এছাড়া ঘটনাটিকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর চলমান কাঠামোগত দমন পীড়ন ও ধর্মীয় পরিচয় নির্মূলের অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকগণ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5fn755yy


