
সুনামগঞ্জ সদরে জাকিয়া আক্তার নিহা নামে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে তার সৎমা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে শিশুর সৎমা আম্বিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুর বাবার নাম তাজউদ্দিন। সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও গ্রামে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার গোদারগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রি তাজউদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আম্বিয়া বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই আম্বিয়া বেগম পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানদের প্রতি অসহ্য হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা থেকে শুরু করে নির্যাতন পর্যন্ত করতো।
গত ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শিশু নিহা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এর আগে সৎমা আম্বিয়া বেগম জোর করে শিশুটিকে সুরমা নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যায়। পরে নিহা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির পিতা।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরদিন ১৯ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কাছে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর নিহার লাশের ডান উরুর ওপরে ও নিচে দু’টি গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন দেখা যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশের কাছে আম্বিয়া বেগম শিশুটিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া বেগম তার সৎ মেয়ে জাকিয়া আক্তার নিহাকে হত্যার পর বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ কী, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা এবং শিশুটির মৃত্যুর পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে – তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘুমন্ত অবস্থায় পিতার হাতে দুই শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে। পরপর এমন দু’টি ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১। সুনামগঞ্জে শিশুকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিলো সৎমা
– https://tinyurl.com/39y8ymtb


