গত এক সপ্তাহে আরও ১২৭টি নারীর অধিকার বিষয়ক মামলা নিষ্পত্তি করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া

0
0

আফগানিস্তানে নারীদের শরিয়াহভিত্তিক অধিকার সংরক্ষণ, পারিবারিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক বিরোধ নিরসনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইমারাতে ইসলামিয়া। নারীদের অধিকার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের দ্রুত সুরাহা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে নেওয়া এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে নারীদের শরিয়াহভিত্তিক অধিকার-সংশ্লিষ্ট ১২৭টি অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়ার সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ ও অভিযোগ শ্রবণবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সময়ে ১৩টি দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং ৫৬টি পারিবারিক, গোত্রীয় ও স্থানীয় বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া জাদুবিদ্যা ও কুসংস্কার চর্চার অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক কার্যক্রমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নারীদের অধিকার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর মধ্যে নির্যাতন, জোরপূর্বক বিয়ে, উত্তরাধিকার, মোহর, ভরণপোষণ, শরিয়াহসম্মত বিয়ের ব্যবস্থা এবং বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মীয় আলেম ও গোত্রীয় প্রবীণদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের মীমাংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে কাবুল, পারওয়ান, বলখ, বাগলান, কান্দাহার ও তাখার প্রদেশে জাদুবিদ্যা চর্চার অভিযোগে আটক ১৩ জনকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল সাত শতাধিক সচেতনতামূলক ও সংশোধনী বৈঠক। ধর্মীয় আলেম, গোত্রীয় প্রবীণ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় প্রতিরোধ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শরিয়াহর বিধান অনুসরণ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সঙ্গে প্রায় ৫০০টি বৈঠক করা হয়েছে।

এ ছাড়া আতশবাজি ও দাহ্য পদার্থের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে শহরাঞ্চল থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়েছে। সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়মূলক বৈঠক করেছেন মন্ত্রণালয়ের সামরিক পরিদর্শকরা।

নারীদের অধিকার সংরক্ষণ, পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা আফগান সমাজে ন্যায়বিচার, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে আরও অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র :

1. The Ministry for the Promotion of Virtue, Prevention of Evil and Hearing

– https://tinyurl.com/bdnz7knp

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধধ্বংসস্তূপ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও গাজায় ২৫০ দম্পতির গণবিবাহ, যুদ্ধের অন্ধকারে নতুন জীবনের স্বপ্ন