
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া ১৩ কোটি মানুষের মধ্যে ৩ কোটি ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাবি করেছে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার (২ নভেম্বর) হায়দ্রাবাদে এক সমাবেশে সে এই দাবি করেছে।
হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৬ কোটি ২৫ লাখ ভোটারকে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হিসেবে পাওয়া গেছে। তার মতে, প্রায় ৩ কোটি ভোটার মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত ছিল। অবশিষ্ট ৩ কোটি মানুষের কোনও অস্তিত্বই নেই। তারা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আড়ালে মূলত ভারতের মুসলিম বাসিন্দাদের টার্গেট করা হয়েছে। বিশেষত বাঙালি মুসলমানদের নাগরিকত্ব হরণ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বাংলাদেশে পুশইনের একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত করেছে বিতর্কিত এসআইআর।
শাহ নির্দ্বিধায় ঘোষণা দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে সব অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের দেশ থেকেও বের করে দেওয়া হবে।
অপরদিকে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। এ ঘটনায় তার পদত্যাগ দাবি করেছে উক্ত জোট। তাদের অভিযোগ, ভোট চুরির ষড়যন্ত্রে সে জড়িত।
এদিকে, কয়েকটি বিজেপিশাসিত রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অজুহাত দেখিয়ে অনেকের রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পাসপোর্ট নবায়নের অনুমতিও দেয়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিহারে প্রথম দফায় এসআইআর কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় তা আরও ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তৃতীয় দফার এসআইআর কার্যক্রম চলছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yfazmcym


