
ভারতে মহারাষ্ট্রের ধারাশিব জেলায় ১৮ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা ও তার সহযোগীরা।
নিহত ছাত্রের নাম সমীর জব্বার প্যাটেল। তিনি তুলজাপুরের তুলজাভবানি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ৩ নভেম্বর রাতে উগ্রপন্থীদের হামলায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। এ ঘটনায় সমীরের এক আত্মীয় আরবাজ আফসার সৈয়দকেও অপহরণ করে মারধর করা হয়।
এদিকে মৃত্যুর মাত্র সাত দিন পর আগামী ১০ নভেম্বর সমীরের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, সমীরকে বাঁশের লাঠি ও বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়। পরে ভারতীবুয়া মঠ মন্দিরের কাছের একটি পার্কিং এলাকায় তাকে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সমীরের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তুলজাপুর থানায় হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তুলজাপুর পৌরসভার সাবেক সভাপতি সন্তোষ দেবিদাস কদম ওরফে পরমেশ্বর ও সঞ্জয় বিলাস যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সন্তোষ কদম ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিল।
সমীরের মায়ের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে এক তরুণীকে অনুসরণ ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী সমীর ও তার বাবা-মাকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠায় সন্তোষ কদম। ওই তরুণী কদমের ভগ্নিপতির মেয়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় সমীরকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে ওই তরুণীর কাছ থেকে দূরে থাকার হুমকিও দেওয়া হয়।
সমীরের মা এফআইআরে জানান, ওই ঘটনার পর সমীর কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। প্রথম বর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি একটি বেকারিতে কাজ শুরু করেন।
গত ৩ নভেম্বর পরীক্ষা শেষে সমীর তার এক চাচাকে বাড়িতে আনতে বের হন। পুলিশের ভাষ্য, পরে ওই চাচা পরিবারকে জানান, সমীরকে কদমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ খবর পেয়ে সমীরের বাবা-মা কদমের বাড়িতে যান। তাদের অভিযোগ, সেখানে তারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্তোষ দেবিদাস কদম ও আরেকজন মিলে সমীরকে মারধর করতে দেখেন। এ সময় সমীরের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সমীরের মা।
সমীরের আরেক আত্নীয়কেও মারধর
এ ঘটনায় সমীরের এক আত্নীয় আরবাজকেও মারধর করা হয়। তিনি তুলজাপুরের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তিন হামলাকারী জোর করে তাকে একটি গাড়িতে তুলে কৃষিজমিতে নিয়ে যায় বলে মাকতুব মিডিয়াকে জানান আরবাজ। সেখানে তাকে লাঠি, বেল্ট ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এসময় হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড নিয়ে ফোনটি তল্লাশি করে।
আরবাজের অভিযোগ, ফোনে আপত্তিকর কিছু না পাওয়ার পরও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
আরবাজ মাকতুব মিডিয়াকে বলেন, ‘তারা আমার পকেট থেকে ১০ হাজার রুপি নিয়ে নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আমাকে মারধর করে। তাদের এলাকায় থেকে আয় করা এবং মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তারা আমাকে মারধর করে।’
আরবাজ আরও জানান, পরে হামলাকারীরা সমীরকে সেই কৃষিজমিতে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে ও সমীরকে অন্যান্য হিন্দুত্ববাদীরা মিলে মারধর করে।
উক্ত হামলার ঘটনায় আরবাজ প্রাণে বেঁচে গেলেও সমীরকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/mvv9rn9f


