
সোমালিয়ার দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক অপারেশন জোরদার করেছেন হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন। “মুজাহিদদের এসকল বীরত্বপূর্ণ অভিযানে সামরিক ও রাজনৈতিক ভাবে ধারাবাহিক পরাজয় বরণ করেছে হাসান শেখ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন মোগাদিশু সরকার” – মোগাদিশুতে একটি সংবাদ সম্মেলনের সময়, দেশটির সংসদ সদস্য এমপি আবদুর রহমান আবদুশ শাকুর ওয়ারসামী এমনটাই মন্তব্য করে।
এই সংসদ সদস্য, আদান-ইয়াবাল জেলার সাম্প্রতিক যুদ্ধকে মোগাদিশু সরকারের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করে। কেননা এই যুদ্ধে আশ-শাবাবের হাতে ৪০০ এরও বেশি সৈন্য নিহত হয়েছিল। এই সাংসদ জোর দিয়ে বলেছে যে, ২০২২ সালে হাসান মাহমুদের শুরু করা সামরিক অভিযানের সময় সরকার যে সমস্ত এলাকা দখল করেছিল, সরকার সাম্প্রতিক যুদ্ধে তার বেশিরভাগই শাবাবের কাছে হারিয়েছে। তার মতে, হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন তাদের হারানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকা ফিরে পেয়েছে।
এরফলে আশ-শাবাব এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, একটি গেরিলা বাহিনী থেকে একটি ভারী সশস্ত্র সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। আশ-শাবাব সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে বহু অস্ত্র অর্জন করেছে, ফলে তাদের মনোবল এখন উচ্চ এবং তাদের কর্মক্ষমতা প্রসারিত হয়েছে। আশ-শাবাব এখন বিশ্বাস করে যে, তারা সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম, এমনকি দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতেও তারা নিজেদের প্রস্তুত মনে করছে।
অপরদিকে মোগাদিশু সরকারি মিলিশিয়ারা সামরিক কাঠামোর পতন, দুর্বল সমন্বয় এবং ক্ষয়িষ্ণু মনোবলের শিকার। আর আশ-শাবাব কার্যকর ও অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে মোগাদিশু বাহিনীর এই দুর্বলতাগুলোকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগিয়েছে। সাংসদ বলে, “রাষ্ট্রপতি হাসান শেখ যুদ্ধক্ষেত্রে অপ্রশিক্ষিত মিলিশিয়াদের মোতায়েন করেছে, যেখানে আশ-শাবাব বছরের পর বছর যুদ্ধরত। ফলে আশ-শাবাব দ্রুত এবং আকস্মিক আক্রমণের মাধ্যমে মিলিশিয়া বাহিনীর ভারী ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে।”
এই এমপি রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও মোগাদিশু সরকারের ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করেছে। সে উল্লেখ করেছে যে, হাসান শেখ মাহমুদ সামরিক বাহিনীকে একত্রিত করতে এবং রাজনৈতিক গতি বজায় রাখতে অক্ষম ছিল, যা সরকারের প্রভাব হ্রাসে অবদান রেখেছে। ফলে হারাকাতুশ শাবাব প্রশাসন যুদ্ধরত উপজাতিদের মধ্যে পুনর্মিলন করতে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জনে সফল হয়েছে।
এমপি তার বক্তব্যের শেষাংশে আদান-ইয়াবাল যুদ্ধ থেকে শুরু করে হিরান, জালাজদুদ এবং মুদুগ রাজ্যের যুদ্ধে মোগাদিশু বাহিনীর ব্যাপক পলায়নের চিত্রগুলোর কথা উল্লেখ করে। এমপি শাবাবের ভয়ে মোগাদিশু বাহিনীর এই পলায়নের দৃশ্যগুলোকে খুবই লজ্জার এবং ভয়ংকর বলে বর্ণনা করে, কেননা এগুলো মোগাদিশু বাহিনীর পতনকে তরান্বিত করেছিল। তার ভাষ্যমতে: “মোগাদিশু বাহিনী আতঙ্কিত ও ব্যাপকভাবে পালিয়ে যাওয়ার কারণে আশ-শাবাব রাজধানী মোগাদিশুর দিকে অনেক দূর অগ্রসর হতে পেরেছে।”
এমপি আরো যোগ করে যে, হাসান শেখ মাহমুদের সরকার কেবল সামরিক পর্যায়েই নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেও গভীর সংকটে রয়েছে। কেননা সম্মুখ সারিতে বারবার পরাজয় এবং পলায়নের ফলে বিদেশি সহায়তা হ্রাস পেয়েছে, সেই সাথে মিত্রদের আস্থাও হ্রাস পেয়েছে। সর্বশেষ এমপি তার বক্তব্যে আশ-শাবাবের পুনরুত্থানের জন্য বর্তমান মোগাদিশু প্রশাসনের দুর্বল নেতৃত্বকে দায়ী করেন।
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/4fbwpa9f


