রাঙামাটির গহিন পাহাড়ে একটি সনাতন ঋষি আশ্রম নওমুসলিমদের নির্যাতনের সেল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে

0
0

গত ১১ জুন আয়েশা সিদ্দিকা জারা নামে একজন নওমুসলিমাকে রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া এলাকার গহিন পাহাড়ী এলাকায় একটি সনাতন ঋষি আশ্রম থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। গত এক বছর পূর্বে ইসলাম গ্রহণের পর গত ২৮শে মার্চ ২০২৬ তারিখে তাকে জোরপূর্বক তার হিন্দু বাবা-মা কর্তৃক পাহাড়ের আশ্রমে হস্তান্তর করা হয়। তার সহপাঠীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রায় ২ মাস পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে তিনি উদ্ধার হন।

জানা যায়, উদ্ধার হওয়া নওমুসলিমার বাড়ি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও এলাকায়। ইসলাম গ্রহণ করার পর গত ৯ মার্চ ২০২৬ সালে চকবাজার থানার পুলিশের মাধ্যমে তাকে তার বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ জোরপূর্বক তার হিন্দু মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেছিল। এরপর তাকে আশ্রমে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

তবে, এই আশ্রমে এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একই বন্দীশালা থেকে পালিয়ে বেঁচে ফেরা একাধিক ভুক্তভোগী রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। ২০২২ সালে জনপ্রিয় ইউটিউবার মোঃ ইব্রাহিমের একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাতকার দেন নওমুসলিম আব্দুর রহমান।

তিনি জানান, তাকে তুলে নিয়ে রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা থানার বাঙ্গালহালিয়া সনাতন ঋষি আশ্রমে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। সেখানে যতক্ষণ না ‘আল্লাহ’ নাম ছেড়ে ‘ভগবান’ বলতেন ততক্ষণ পর্যন্ত পেটাতো আশ্রমের লোকেরা। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই এমন পাশবিক নির্যাতন চলতো। আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, সেখানে তাঁর পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকজন নওমুসলিম ছেলে ও মেয়েকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। তাদের ওপরও চলতো একই কায়দায় নির্যাতন। হুমকি দেওয়া হতো ভারতে পাচার করে দেওয়ার। আব্দুর রহমান প্রায় ৭০ দিন সেখানে বন্দী থাকার পর পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু অন্যান্য বন্দীদের সেই সৌভাগ্য হয়নি।

গহিন পাহাড়ের সনাতন ঋষি আশ্রম থেকে বেঁচে ফেরা জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত নামে আরও এক নওমুসলিমা একটি সাক্ষাতকারে জানায়, সেখানে নওমুসলিমদেরকে যেভাবে আটকে রেখে মারধর করা হয় মানুষ কুকুরকেও সেভাবে মারে না। মেয়েদেরকেও অনেক খারাপভাবে মারা হয়। ইসলাম ছেড়ে হিন্দুধর্ম গ্রহণ না করলে রাঙামাটির জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে হত্যার হুমকি দিত আশ্রমের কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তিনি দেড় মাস পর এ নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু তাঁর সময়ে সেখানে বন্দী বাকি নওমুসলিম ৩ জন মেয়ে ও ১ জন ছেলের সেই সৌভাগ্য হয়নি।


তথ্যসূত্র:
১। রাঙামাটির ঋষি আশ্রমে নওমুসলিমদের বন্দী রেখে জোরপূর্বক হিন্দু বানাতে চলে পৈশাচিক মারধর
– https://tinyurl.com/m96an69f
২। ঋষি আশ্রম থেকে ধর্মান্তরিত – তরুণী উদ্ধার
– https://tinyurl.com/467fd8n3

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংস্কৃতিচর্চার বিরোধীদের কথা শোনার জন্য সরকার বসে নেই: প্রাথমিকে নাচ-গানের শিক্ষা চালু প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ