
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামে, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকালে জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের এক অভিযানে কেঁপে উঠেছে নিয়ামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এখানে অবস্থিত জান্তার বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি।
সূত্রমতে, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকালে নাইজারের রাজধানী নিয়ামে শহরে একটি বৃহৎ পরিসরে সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এর মুজাহিদিনরা। অভিযানটি বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে নিয়ামে শহরে দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিওরি-হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, এতে অংশ নেন জেএনআইএম এর সশস্ত্র কমান্ডো ইউনিটের একদল বীর মুজাহিদ, যারা টানা সাড়ে ৩ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বিমানঘাঁটিতে জান্তার অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালাতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে সামরিক জান্তা ও তাদের সহায়তাকারীদের মধ্যে অন্তত ৪৪ সদস্য নিহত হয়েছে এবং আরও অসংখ্য সদস্য আহত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বিভিন্ন বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামো, বিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম।
রাজধানী নিয়ামের দিওরি-হামানি বিমানবন্দরটি নাইজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর একটি। এটিকে জান্তা তাদের সর্বশেষ ও সবচেয়ে শক্তিশালী আশ্রয়স্থল হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। কেননা বেসামরিক হলেও এই বিমানবন্দরে নাইজার সেনাবাহিনীর সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়াও এই বিমানবন্দরে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর (মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার) জোট অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস এর স্থাপনাও রয়েছে, একারণে বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কড়া। বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ৩৫০টিরও বেশি নজরদারি ক্যামেরা এবং সামরিক বাহিনীর কয়েক ডজন চেকপয়েন্ট রয়েছে আছে। আর জান্তার এই কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীকে ফাঁকি দিয়েই বৃহস্পতিবার ভোরে বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করেন মুজাহিদিনরা।
নাইজারের জান্তা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল যে, মুজাহিদদের বীরত্বপূর্ণ এই অভিযানে ১১ সেনা সদস্য এবং ২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সূত্রগুলো ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত মৃতের সংখ্যা দেখে দাবি করেছে যে, হতাহতের সংখ্যা সরকারি বিবৃতিতে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে বানিবাঙ্গু অপারেশনের পর যখন ঘটনাপ্রবাহ সরকারি বিবৃতির বিপরীত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে শুরু করে, তখন জান্তা সরকারের ঘোষিত ৩৪ সেনার মৃত্যুর সংখ্যা এক সপ্তাহ পরেই বাড়িয়ে ৭১ সেনা দেখানো হয়েছিল। অর্থাৎ নাইজারের সামরিক সরকার, সবসময় হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান লুকানোর চেষ্টা করে এবং তা নিজেদের অনুকূলে প্রচার করে থাকে।
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/3nzp8pek


