বাবরি মসজিদ ইস্যু: কিছুক্ষণ পরেই কি শুরু হবে গণহত্যা?

2
338

বাবরি মসজিদ, উপমহাদেশের মুসলিমদের হৃদয়রাজ্যে তার স্থান। প্রায় ৫০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই মসজিদটি ১৯৯২ সালে ধ্বংস করে দেয় সন্ত্রাসী হিন্দুরা।  মসজিদ ধ্বংসের পাশাপাশি ঐসময় ভারতীয় মুসলিমদের উপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছিল পাষণ্ড হিন্দু সন্ত্রাসীরা।  এরপর থেকে বিভিন্ন সময় মামলার নামে মুসলিমদের সাথে ছেলেখেলা করেছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী আদালত। সেই ধারাবাহিকতায় আর কিছুক্ষণ পরেই বাবরি মসজিদের জায়গা কার? সে রায় দিতে যাচ্ছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সুপ্রিম কোর্ট।

আসলে রায় তো তারা আগেই দিয়ে রেখেছে! বাবরি মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে, এটাই ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী দল বিজেপির নেতাকর্মীদের রায়! ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, আজ তারা ক্ষমতায়। সেই হিন্দু সন্ত্রাসীরা বাবরি মসজিদের উপর শেষ আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের অন্যতম সহায়ক ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। তারা ক্ষমতায়ও এসেছে বাবরি মসজিদের স্থলে রাম মন্দির বানানোর ইশতেহার দিয়ে। সেই ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশই তারা আজ ঘটাতে চায়। বিজেপির নেতাদের মুখে সে কথাই ফুটে উঠছে। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা ভারতীয় সাংসদ সাক্ষী মহারাজ বলেছে, বাবরি মসজিদের উপর রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে। গত ১৭ই অক্টোবরের সংবাদে জানা যায়, সন্ত্রাসী হিন্দু নেতা সাক্ষী মহারাজ আগামী ৬ই ডিসেম্বর থেকেই বাবরি মসজিদের উপর মন্দির নির্মাণের কাজও শুরু করার কথা জানিয়েছে!

এদিকে, বাবরি মসজিদ মামলার রায়কে ঘিরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তথাকথিত নিরাপত্তা জোরদার করেছে হিন্দুত্ববাদী সরকার। কিন্তু, কাদের দমিয়ে রাখতে এই নিরাপত্তা?  ১৯৯২ সালে যখন বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়, তখনই আমরা এর উত্তর পেয়েছি। ভারতের তৎকালীন হিন্দুত্ববাদী সরকারও একইভাবে কথিত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু, তাতে কী হয়েছে? বাবরি মসজিদ রক্ষা পায়নি, রক্ষা পায়নি মুসলিমরা। ভারতজুড়ে সন্ত্রাসী হিন্দুরা মুসলিমদেরকে পাইকারীভাবে হত্যা করতে শুরু করে। মূলত, সরকারের মদদেই ঐ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, সেনা-পুলিশের সামনেই ভাঙ্গা হয়েছিল বাবরি মসজিদ।

আর, বর্তমানে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায়। তাদের ক্ষমতায় আসার মূল ইশতেহারই ছিল বাবরি মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণ। তাই, বিবেকবান প্রতিটি মানুষ এ বিষয়টি বুঝতে সক্ষম যে, বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের আগে বিভিন্ন জায়গায় কথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অর্থ কী! বাস্তবতা হলো- সেখানে চেকিংয়ের নামে মুসলিমদেরকেই হয়রানী করা হচ্ছে। তাদের কথিত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আসলে মুসলিমদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নয়, মুসলিমরা শংকামুক্তও নন। বরং, বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার সময় যেভাবে মুসলিমদের উপর গণহত্যা চালিয়েছিল হিন্দুরা, ঠিক সেরকমই আরেকটি গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার শংকায় রয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা।

আল্লাহ মুসলিমদের হেফাজতে রাখুন, বাবরি মসজিদ ইস্যুকে মুসলিমদের জাগরণের কারণ বানিয়ে দিন। আমীন।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন