ক্রুসেডার ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা পুরোটাই ইসরায়েলের পক্ষে

0
802
ক্রুসেডার ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা পুরোটাই ইসরায়েলের পক্ষে

দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে ক্রুসেডার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি কথিত শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনাটি পুরোটাই ইসরায়েলের পক্ষে। পরিকল্পনাটিকে সে ‘নতুন ভোর’–এর প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা এটিকে স্বাভাবিকভাবেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা এটাকে একপেশে এবং ‘ইতিহাসের ভাগাড়’ বলে মন্তব্য করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে সন্ত্রাসী ট্রাম্প এই মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশ করে। তাঁর মতে, সেখানে দশকের পর দশক ধরে মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তাঁর এই পরিকল্পনা সফল হতে পারে।

দর্শকদের সামনে ট্রাম্প বলেছে, ‘আমরা একসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ভোর আনতে পারব।’ দর্শক সারিতে ইসরায়েলি ও ইহুদি আমেরিকান অতিথি ছিল। কোনো ফিলিস্তিন প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। ইসরায়েলের জন্য ওই পরিকল্পনাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে জেরুজালেম নিয়ে বিরাজমান সংকট এতে মেটেনি। জেরুজালেম হলো ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী। তবে মার্কিন পরিকল্পনায় এই জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিদের পরিবর্তে ‘অবিভক্ত’ রাজধানী হিসেবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা বলেছে। পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরে গড়ে তোলা পত্তনগুলো ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কথিত ‘শান্তির পথে বড় পদক্ষেপ’ নেওয়ায় ইসরায়েলের প্রশংসা করে। পরিকল্পনাটিতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একের পর কঠিন শর্ত পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সামরিক মুক্ত থাকতে হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে পরিকল্পনায়। পাশাপাশি ইসরায়েলে অধিকৃত অঞ্চলের পত্তনগুলোতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

ভবিষ্যতের এই চিত্রের জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলেছে সন্ত্রাসী ট্রাম্প। সেই সঙ্গে সে ইসরায়েল যেন কখনো নিজেদের নিরাপত্তার সঙ্গে সমঝোতা না করে সেটার ওপরও জোর দিয়েছে। সে এ ব্যাপারে আগের মার্কিন কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে অসার উল্লেখ করে সমালোচনা করে। ট্রাম্প জানায়, তাঁর এই পরিকল্পনাটি ৮০ পৃষ্ঠার এবং এতে প্রস্তাবিত ভবিষ্যৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্য মানচিত্র অঙ্কিত রয়েছে।

এই পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের চুক্তি কখনো বাস্তবায়িত হবে না। আমাদের জনগণ এটাকে ইতিহাসের আবর্জনায় ফেলে দেবে।’

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্প বলেছে, অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। একই সময়ে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনকে একটি রাজধানী ঘোষণা করতে দেওয়া যেতে পারে।

গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস জানিয়েছে, তারা জেরুজালেমের ব্যাপারে কোনো ধরনের সমঝোতা মেনে নেবে না।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে লোকজন। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।

পরিকল্পনা প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল তিন আরব দেশ ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতেরা। ট্রাম্পের দাবির পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে সমর্থন বাড়ার পক্ষে কিছু প্রমাণও তুলে ধরে তাঁরা।

সৌদি আরব ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রশংসা করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানায়।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন