
হেরাত পুলিশ কমান্ডের মাদকবিরোধী বিভাগ জানিয়েছে, ইমারাতে ইসলামিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় পাঁচ বছরে হেরাত প্রদেশে ৪০ হাজারেরও বেশি মাদকাসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে চলমান এই কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হেরাতের একটি বিশেষ পুনর্বাসন হাসপাতালে প্রায় ৪ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন শহর ও বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন আসক্তদের সংগ্রহ করে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে।
হেরাত পুলিশ কমান্ডের মাদকবিরোধী বিভাগের প্রধান হায়াতুল্লাহ রুহানি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইমারাতে ইসলামিয়ার পুনরাগমনের পর থেকে হেরাতে ৪০ হাজার মাদকাসক্তের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।”
সম্প্রতি চিকিৎসা শেষে আরও ২৫০ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন এবং নিজেদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হয়েছেন। সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা এখন মাদককে ঘৃণা করেন এবং আর কখনো সেই অন্ধকার জীবনে ফিরে যেতে চান না।
মাদকমুক্ত হওয়া এক ব্যক্তি ফারহাদ বলেন, “অনেক হয়েছে। যৌবন থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আর কত? আমার সন্তান রয়েছে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর কখনো মাদকের দিকে ফিরব না।”
এদিকে হেরাতের মাদকবিরোধী বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যৌথভাবে ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল ৭০০-র বেশি দরিদ্র পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তার আওতায় রাখা হবে, যাতে তারা পুনরায় ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে না যায়।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধি আব্দুল মাজিদ খাদেমি বলেন, “এসব মানুষকে ধারাবাহিক সরকারি সহায়তার আওতায় রাখা হবে, যাতে তারা পুনরায় ভিক্ষাবৃত্তি বা জনদুর্ভোগের কারণ না হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর সহায়তায় গৃহীত এসব পদক্ষেপ সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অপরাধ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুনর্বাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
1. More Than 40,000 Addicts Treated in Herat Over Five Years
– https://tinyurl.com/2hetn6as


