করোনাভাইরাস নিয়ে মুফতী তাকী উসমানীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

2
782

শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ বিশ্বব্যাপী আলোচিত করোনা ভাইরাস বিষয়ে সংক্ষিপ্ত তবে সারগর্ভ ইসলামী বার্তা তুলে ধরেছেন।

তাঁর বার্তাটি পাকিস্তানের বিখ্যাত দ্বীনী প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুর রশীদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।

হযরতের বক্তব্যের হুবহু অনুবাদ নিম্নে তুলে ধরা হল-

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আজকাল বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কথা শোনা যাচ্ছে। এর বিস্তৃতি ক্রমেই বাড়ছে। একে প্রতিরোধ করার জন্য ও সর্তকতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে।

কেউ কেউ মনে করেন, এক্ষেত্রে পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা ইসলামের তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী। এ কথাটি একেবারেই সঠিক নয়। স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকম পরিস্থিতিতে পূর্ব সতকর্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

যেমন, তাউন বা প্লেগ রোগ কোথাও ছড়িয়ে পড়লে, বাহির থেকে কাউকে সেখানে যেতে বারণ করেছেন। আর ভিতরের লোককে বাহিরে যেতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা শরীয়তের চাহিদার অন্তর্ভু্ক্ত।

অতএব এ ব্যাপারে সরকার প্রধান বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে, তা অনুসরণ করা শুধু উচিত-ই নয়; বরং শরীয়াতের দৃষ্টিতেও জরুরী।

অধিক হারে লোক সমাগম হয় এমন কোনো প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে যেহেতু করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আংশকা প্রবল, তাই এ মুহূর্তে এমন প্রোগ্রামের আয়োজন না করাই উচিত।

বিয়ে-শাদীর প্রোগ্রাম ছোট পরিসরে করা উচিত। লোক সমাগম যেনো কম হয়। তাছাড়া বিয়ে শাদী ছোট পরিসরে হওয়াই সুন্নাহ।

হয় বিয়ে শাদীর প্রোগ্রাম এ মুহূর্তে পিছিয়ে দিন অথবা পরিসর ছোট করুন।

জুমা ও অন্যান্য ফরয নামাযের ক্ষেত্রে শুধু ফরযটি মসজিদে পড়বে। বাকি সুন্নাত ও নফল নামায ঘরেই আদায় করবে। তাছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায়ও নফল নামায ঘরে পড়াই উত্তম। এমনকি ওযুও বাসা থেকেই করে আসবে।

এমনকি জুমা ও অন্যান্য নামাযের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবগণ ক্বেরাত সংক্ষেপ করাই উত্তম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে যদি মুসাফাহা না করার পরামর্শ দেয়া হয়, তবে সেটাও পালন করা উচিত। মুসাফাহা করবে না। কারণ তা ফরয বা ওয়াজিব নয়। আর যা ফরয বা ওয়াজিব নয়, সেটা এ মুহূর্তে ত্যাগ করতে কোনো সমস্যা নেই।

পূর্বে যা বলা হল তা অনুসরণ করাই ভালো। এতে নিজ ও দেশ সকলেরেই কল্যাণ রয়েছে। এটি শরীয়াহ্ ও নববী নির্দেশনার সম্পূর্ণ অনুকুল। সুতরাং এর উপর আমল করা চাই। “ (শেষ)

টিকা: হযরত যে মূল্যবান বার্তা তুলে ধরেছেন, তা ইতালী, চীন ও এরকম অন্যান্য দেশের জন্য শতভাগ প্রযোজ্য, যেসব দেশে এ ভাইরাস বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে আমাদের দেশের জন্য এখনি তা হুবুহু প্রযোজ্য হবে কি না তা স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ভেবে দেখবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু আমাদেরকে এরকম পরিস্থিতির সম্মুখিন হওয়া থেকে হেফাযতর করুন। বিশ্ববাসীকে এ আযাব থেকে মুক্ত করুন। আমীন।

 

2 মন্তব্যসমূহ

  1. আমাদের দেশের জন্য এখনি তা হুবুহু প্রযোজ্য হবে কি না তা স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ভেবে দেখবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু আমাদেরকে এরকম পরিস্থিতির সম্মুখিন হওয়া থেকে হেফাযতর করুন।

  2. [B][B]মসজিদে নবাবী[/B][/B] [COLOR=”#FF0000″]মহামারীর[/COLOR] ভয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে! যা আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কেননা মদিনায় মহামারী প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা হাদীস শরীফে আছে,

    গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
    অধ্যায়ঃ ১৬। হজ্জ (كتاب الحج)
    হাদিস নম্বরঃ ৩২৪১

    ৮৭. মহামারী ও দাজ্জালের প্রবেশ থেকে মদীনাহ সুরক্ষিত

    ৩২৪১-(৪৮৫/১৩৭৯) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [COLOR=”#00FF00″][B]মাদীনার প্রবেশ পথে মালায়িকাহ প্রহরারত। তথায় মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না[/B][/COLOR]।
    [RIGHT]
    باب صِيَانَةِ الْمَدِينَةِ مِنْ دُخُولِ الطَّاعُونِ وَالدَّجَّالِ إِلَيْهَا ‏‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ ‏”‏ ‏.‏
    [/RIGHT]
    গ্রন্থঃ আল-লুলু ওয়াল মারজান
    অধ্যায়ঃ ১৫/ হজ্জ (كتاب الحج)
    হাদিস নম্বরঃ ৮৭১

    ১৫/৮৭. মহামারী ও দাজ্জালের প্রবেশ থেকে মদীনাহ সংরক্ষিত হওয়া।

    ৮৭১. আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার প্রবেশ পথসমূহে ফেরেশতা পাহারায় নিয়োজিত আছে। তাই প্লেগ রোগ এবং দাজ্জাল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
    [RIGHT]
    صيانة المدينة من دخول الطاعون والدجال إِليها حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ [/RIGHT]

    গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
    অধ্যায়ঃ ৩১/ কলহ ও বিপর্যয় (كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ)
    হাদিস নম্বরঃ ২২৪২

    ৬১. দাজ্জাল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না

    ২২৪২। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জাল মাদীনায় উপস্থিত হয়ে দেখতে পাবে যে, ফিরিশতাগণ তা পাহারা দিচ্ছেন। অতএব, আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছায় মহামারী ও দাজ্জাল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।

    সহীহ

    আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, ফাতিমা বিনতু কাইস, উসামা ইবনু যাইদ সামুরা, ইবনু জুনদাব ও মিহজান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ[RIGHT]
    باب مَا جَاءَ فِي الدَّجَّالِ لاَ يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَأْتِي الدَّجَّالُ الْمَدِينَةَ فَيَجِدُ الْمَلاَئِكَةَ يَحْرُسُونَهَا فَلاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَفَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَسَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ وَمِحْجَنٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ‏.‏

    [/RIGHT]
    গ্রন্থঃ মুয়াত্তা মালিক
    অধ্যায়ঃ ৪৫. বিভিন্ন প্রকারের মাস’আলা সম্বলিত অধ্যায় (كتاب الجامع)
    হাদিস নম্বরঃ ১৬৪৮

    ৪. মদীনার মহামারী সম্বন্ধে রেওয়ায়ত

    রেওয়ায়ত ১৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মদীনার দ্বারে ফিরিশতা মোতায়েন রহিয়াছে। উহাতে কখনও মহামারী দেখা দিবে না আর দজ্জালও প্রবেশ করিবে না।
    [RIGHT]
    مَا جَاءَ فِي وَبَاءِ الْمَدِينَةِ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةٌ لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ
    [/RIGHT]
    গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
    অধ্যায়ঃ ৬৩/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
    হাদিস নম্বরঃ ৫৩২০

    ২৩০১. প্লেগ রোগের বর্ণনা

    ৫৩২০। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদিনা নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না মাসীহ দাজ্জাল, আর না মহামারী।
    [RIGHT]
    باب مَا يُذْكَرُ فِي الطَّاعُونِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ الْمَسِيحُ وَلاَ الطَّاعُونُ ‏”‏‏.‏
    [/RIGHT]
    গ্রন্থঃ মুয়াত্তা মালিক
    অধ্যায়ঃ ৮. জামা’আতে নামায পড়া (كتاب صلاة الجماعة)
    হাদিস নম্বরঃ ৩০০

    ৬. বসিয়া নামায আদায়কারীর নামাযের তুলনায় দাঁড়াইয়া নামায আদায়কারীর নামাযের ফযীলত

    রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) বর্ণনা করেন- আমরা যখন মদীনায় আসিলাম তখন মদীনার মহামারীরূপী প্রচণ্ড জ্বর আমাদেরও আক্রমণ করিয়া বসিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিকট আগমন করিলেন, তখন তাহারা (সাহাবীগণ) তাহদের নফল নামায বসিয়া পড়িতেছিলেন। (ইহা দেখিয়া) তিনি ইরশাদ করিলেনঃ বসিয়া নামায আদায়কারীর নামায (সওয়াবের বেলায়) দাঁড়াইয়া আদায়কারীর নামাযের অর্ধেকের মত।
    [RIGHT]
    بَاب فَضْلِ صَلَاةِ الْقَائِمِ عَلَى صَلَاةِ الْقَاعِدِ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ نَالَنَا وَبَاءٌ مِنْ وَعْكِهَا شَدِيدٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ فِي سُبْحَتِهِمْ قُعُودًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةُ الْقَاعِدِ مِثْلُ نِصْفِ صَلَاةِ الْقَائِمِ[/RIGHT]
    [LEFT] আলেমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি[/LEFT]

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন