করোনা পরিস্থিতি : তাগুত প্রশাসনের বাড়াবাড়ি, মসজিদের ইমামদেরকে আটক, জরিমানা!

1
830
করোনা পরিস্থিতি : তাগুত প্রশাসনের বাড়াবাড়ি, মসজিদের ইমামদেরকে আটক, জরিমানা!

বাংলাদেশে মুরতাদ সরকারের অব্যস্থাপনার কারণে দিন দিন করোনা মহামারি আকার ধারণ করছে। এদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে করোনা প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি ত্বাগুত সরকার। এখনো অবধি মৌখিক বড় বড় কথা ব্যতীত প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করেনি তারা। এমতাবস্থায় ত্বাগুত সরকারের ব্যর্থতা লুকাতে ইমাম, মুসল্লি ও সাধারণ জনতার উপর কঠোরতা আরোপ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে বিনা দোষে ইমাম, মুসল্লিদের হয়রানি, জরিমানা ও আটক করছে।

সংবাদ মাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে পাঁচ জনের বেশি মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করায় ইমামসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে কথিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার জেলা সদরের লাল মোহন বাহাদুর জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

মসজিদের মুসল্লিরা জানান, প্রথমে তিন জন মুসল্লি ইমামের পেছনে জোহরের নামাজে জামাতে দাঁড়ান। পরে পেছনে আরও কয়েকজন জামাতে শরিক হন। নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম মসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি ইমাম সাহেবের কাছে এত ব্যক্তি নিয়ে নামাজ পড়ার কারণ জানতে চান। পরে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ডেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করার নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাবিবুল হাসান মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল খালেককে দুই হাজার টাকা এবং চার মুসল্লির প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার করে চার হাজার, সর্বমোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এ ব্যাপারে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমি নামাজ শুরু করার সময় আমার পেছনে মাত্র তিন জন মুসল্লি ছিলেন। জামাত চলার সময়ে আরও ৩/৪ জন মুসল্লি অংশ নেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্দেশনা আসার পর আমি বিষয়টি মসজিদের মাইকের মাধ্যমে এলাকায় প্রচার করি। আমি ইমামতি করার সময় আমার অগোচরে এবং পেছনে যদি কোনও মুসল্লি দাঁড়িয়ে যায় তখন আমার করার কী থাকে? কিন্তু জেলা প্রশাসক আমার এসব কথা শোনারও চেষ্টা করেননি।’

একইভাবে, লক্ষ্মীপুরে এশার নামাজের জামাতে পাঁচজনের বেশি মুসল্লি হওয়ায় ইমামকে আটক করেছে সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাদ এশা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার আনু ব্যাপারী জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে জামাতে বেশি মুসল্লি হওয়ার ঘটনায় ইমামদের দোষ দিচ্ছেন না সচেতন মহল।

সচেতন মহলের ভাষ্যমতে, ইমামরা নিষেধ করলেও নামাজে দাঁড়ানোর পর অতিরিক্ত মানুষ এসে অংশগ্রহণ করেন।

ইমামকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মসজিদ ও মদিনাতুল উলুম রহমতে আলম ইসলামী মিশন মাদরাসা কমিটির দফতর সম্পাদক ফিরোজ আলম রাসেল বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। ইমামের দোষ ছিল না। জামাতে দাঁড়ানোর পর অতিরিক্ত মুসল্লি এসে নামাজে অংশ নেয়।

এদিকে, দেশবরেণ্য আলেমগণের অনেকে মনে করছেন, সরকার প্রয়োজনের বিবেচনায় কাঁচা বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দোকান, ফ্যাক্টরী বিভিন্ন নিয়মে খোলা রাখছে, আবার, এমনও দেখা যাচ্ছে যে, মসজিদে মুসল্লিদের চেয়ে তাদের ফটো তোলার জন্য যাওয়া সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি! তাহলে কিছু সময়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে মসজিদে জামাত চালু রাখলে সমস্যা কোথায়?
আর যাইহোক, জামাআতে নামাজ আদায়ে মসজিদের ইমামদেরকে আটক ও জরিমানার ঘটনাগুলোকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না দেশের জনসাধারণ। তাদের মতে, দেশের ইসলামবিদ্বেষী সরকার সুযোগ পেলেই ইসলাম ও মুসলিমদের উপর বর্বরোচিতভাবে আঘাত হানে।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন