শহীদ বাবরি মসজিদ স্থানে রাম মন্দির: মুসলিম হৃদয়ে রক্তক্ষরণের নতুন মাত্রা

0
494
শহীদ বাবরি মসজিদ স্থানে রাম মন্দির: মুসলিম হৃদয়ে রক্তক্ষরণের নতুন প্রতীক

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ে ধারণ করা এক আবেগ ও ভালবাসার নাম। ১৫২৮ সালে ঐতিহাসিক এ মসজিদটি নির্মাণ করেন মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি।

সেনাপতি মীর বাকি বাবরি মসজিদ নির্মাণের ৩৫৭ বছর পর ১৮৮৫ সালে মসজিদটি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক ও আইনি লড়াই। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে মহন্ত রঘবীর দাসের দায়ের করা এক মামলা থেকে সেনাপতি মীর বাকি নির্মিত বাবরি মসজিদ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। মহন্ত রঘবীর দাসের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয় ব্রিটিশ আদালত।

এরপর ১৯৪৯ সালের ২২ডিসেম্বর রাতে বাবরি মসজিদে রাম ও সীতা মূর্তি রেখে আসে অজ্ঞাতনামা  হিন্দু উগ্রবাদীরা। এঘটনাকে অলৌকিক দাবী করে প্রার্থনা শুরু করে মন্দিরপন্থীরা। এ ঘটনার পর ১৯৫০সালে মসজিদে তালা দেয় ভারতীয় আদালত।

১৯৫৯সালে হিন্দুদের পক্ষে জমি চেয়ে মামলা করেন নির্মোহী আখড়া। অপরদিকে ১৯৬১ সালে মসজিদের জমির মালিকানা দাবী করে মুসলমানদের পক্ষে আদালতের দারস্থ হন উত্তর প্রদেশ মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড।১৯৮০-র দিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও তাদের রাজনৈতিক সহযোগী কট্টোর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা ওই স্থানে রাম মন্দির নির্মানে প্রচারাভিযান চালায়।

১৯৮৬সালে আদালত মসজিদের তালা খোলার নির্দেশ দিলে ১৯৯০সালে এ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে বেশ কিছু শোভাযাত্রা ও মিছিল বের করে লাল কৃষ্ণ আদভানি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি দেড় লাখ কর সেবক নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করে। পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্য এদিনে শোভাযাত্রা চলাকালীন সময়ে উগ্রবাদী হিন্দুরা সহিংস হয়ে ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত এমসজিদটি শহীদ করে মুসলিমদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে।

পরবর্তীকালের অনুসন্ধানে ঘৃণ্য এ অপরাধে ৬৮ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, যাদের অধিকাংশই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপির নেতা বলে জানা যায়। ৩ এপ্রিল ১৯৯৩ সালে সংসদে এক আইন পাশ করিয়ে এ জমি দখল করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রামলালা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এই তিনভাগে জমিটি ভাগ করার রায় দেয় এলাহাবাদের তিন বিচারকের বেঞ্চ। কিন্তু ২০১১ সালের ৯মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় এবং ৯ নভেম্বর শনিবার ২০১৯ অযোধ্যার এ জমিটিতে হিন্দুদের মন্দির নির্মাণ ও মুসলিমদের বিকল্প ৫একর জমি দেওয়ার বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক এক রায় দেয় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট।

১৮৮৫সালে বাবরি মসজিদ নিয়ে ১৩৪ বছরের বিতর্কের পর ৫ আগস্ট বাবরি মসজিদস্থলে রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী মোদী সরকার।

মোদী সরকারে এমন কাজ মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করছেন ইসলামী ব্যক্তিত্বরা।

এদিকে ভারতীয় মুসলমানদের জনপ্রিয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি মাওলানা অলি রহমানি বলেছেন, তাওহীদের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং আল্লাহর ঘর খানায়ে কাবাও একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শিরক ও মূর্তিপূজার আখড়া ছিল। অবশেষে মক্কা বিজয়ের পর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে পুনরায় তা তাওহীদের মারকায হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা পুরোপুরি আশাবাদী, শুধু বাবরি মসজিদই নয়; এই পুরো বাগান একদিন তাওহীদের সুরে মুখরিত হবে। আমাদের কর্তব্য হলো, এ কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেরা গুনাহ থেকে তওবা করা। নিজ নিজ স্বভাব ও আচরণকে সুন্দর করা। ঘর এবং সমাজে দ্বীনদার বানানো। এবং পূর্ণ সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করা।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন