সেই রাতের বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সুলাই লাল

0
461
সেই রাতের বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সুলাই লাল

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমেদকে সেই রাতে অর্থাৎ রবিবার (১১ অক্টোবর) সুস্থ অবস্থায় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে আনা হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার সুলাই লাল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুইপার সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার ঘর থেকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নেওয়া হয়। ওই রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দরজায় শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখি ছেলেটি (রায়হান) দরজা ধাক্কা (ধাক্কায় জোড়াতালির ছিটকানি ছুটে যায়) দিয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মনে মনে ভয় পেলাম। এতো রাতে আমার দরজা ঠেলে কে এলো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কে ভাই আপনি? তখন দেখলাম ছেলেটি নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, কথাও বলতে পারছে না। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে হাজির। পুলিশ বাসায় ঢুকে রায়হানকে ধরে। কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না এবং আমাকে বলছিল- আমি ছিনতাইকারী না। আমিও ভয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না।

সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন শুনি ছেলেটি নাকি ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছে। শুনে মনটা খুব খারাপ হলো। তবে এখানে কোনো গণপিটুনি হয় নাই, আমি নিশ্চিত।
পুলিশ ভালো অবস্থায়ই তাকে ধরে নিয়েছে বলে জানান সুইপার কলোনির মৃত দিল মলি লালের ছেলে সুলাই লাল।

এদিন কাস্টঘরেও কোনো গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেলেনি গণপিটুনির কোনো প্রমাণ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাস্টঘরের সুইপার সুলাই লালের বক্তব্য এমনই।

এছাড়া নির্যাতনের আগে রায়হান শারিরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। অতিমাত্রায় নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এমনটিই নিশ্চিত করেছেন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম।

ঘটনার রাতে ২টা ৯ মিনিটে রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে আনেন এএসআই আশিক এলাহি। এরপর তাকে নেওয়া হয় ইনচার্জ উপরিদর্শক (এসআই) আকবরের কক্ষে। সেখানে লাঠি দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। আকবরের সঙ্গে অতি উৎসাহী হয়ে রায়হানকে পেঠান কনস্টেবল হারুন ও টিটু। ফাঁড়ির প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক রায়হান। এ অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর রবিবার থেকে এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন। কালের কণ্ঠ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন