মুজাহিদিনের জমায়েতে ইসলামি ইমারাহর নায়েবে আমির খলিফা সাহিব সিরাজউদ্দীন হাক্কানীর (হাফিজাহুল্লাহ) গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের বঙ্গানুবাদ

0
1216
মুজাহিদিনের জমায়েতে ইসলামি ইমারাহর নায়েবে আমির খলিফা সাহিব সিরাজউদ্দীন হাক্কানীর (হাফিজাহুল্লাহ) গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের বঙ্গানুবাদ

শ্রদ্ধেয় মুজাহিদ ভাই ও বন্ধুগণ, মাশায়েখ ও উলামায়ে কেরাম! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আল্লাহ তায়ালা আপনাদের সকল কষ্ট ও ত্যাগ কবুল করুন।

জিহাদের ময়দানে আপনাদের বিজয় এবং দেশের স্বাধীনতার পথে সফলতার জন্য আপনাদের শুকরিয়া জানাই।
এই পথে আমাদের অনেক ভাই শাহাদতবরণ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জান্নাতের উঁচু মাকামে অধিষ্ঠিত করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্যধারণের তাওফিক দান করুন। বিশ্বাস করুন! আমি যখন বড়দের সামনে কথা বলি তখন নিজেকে অনেক ছোট ও দুর্বল মনে হয়।

যাইহোক,সময় ও কাজের প্রয়োজনে আপনাদের সাথে সাক্ষাতের এই সুযোগ খুবই আনন্দের। বিশ্বাস করুন! আপন সহকর্মীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ শেয়ার করার এবং সাক্ষাতের আশা বহুদিন ধরে লালন করে আসছি।
আলহামদুলিল্লাহ! এমন একটি জমায়েতে সমবেত হতে পারা বড় এক অর্জন। এমন পরিবেশ সৃষ্টির পেছনে রয়েছে ভাই ও বন্ধুদের বহু আত্মত্যাগ।

ভাইয়েরা আমার! আপনারা নিজেদের কর্তব্যসমূহ যে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে আঞ্জাম দিচ্ছেন, তা নিয়ে ইসলামি ইমারাহর নেতৃবৃন্দ গর্ববোধ করে। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের সকল চেষ্টা ও ত্যাগ কবুল করুন। আপনাদের কাজে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।

প্রিয় ভাইয়েরা! আপনারা জানেন যে, জিহাদের কাজ খুবই সূক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর। যদি কেউ আনুগত্য না করে, আলস্য ভাব দেখায় অথবা বেআইনি কিছু করে তাহলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে অপদস্থ করবেন। এসব থেকে আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।

আপনারা অবগত আছেন যে, ইসলামি ইমারাহর রাজনৈতিক, জিহাদি ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, নিরবচ্ছিন্ন আত্মত্যাগ ও ইস্পাত কঠিন অবিচলতার বিষয়টি সারা বিশ্ব আজ জানে। দোস্ত-দুশমন সকলেই তা মানে। আমাদের এই ঐক্য ও মনোবলে চিড় ধরতে দেয়া যাবে না।

দেখুন! কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ ভীতি ত্যাগ করা যাবে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করুন। দায়িত্ব ও সেবার পরিধি যখন বিস্তৃত হয় তখন স্বভাবতই বস্তু নির্ভরতার প্রবণতা দেখা দেয়। যদি আল্লাহ তায়ালাকে ছেড়ে বস্তুনির্ভর হয়ে পড়েন তাহলে সফলতা ব্যর্থতায় রূপান্তরিত হবে।

আলহামদুলিল্লাহ! এখন আপনারা বিজয় ও অগ্রগতি লাভ করছেন। আজ থেকে বিশ বছর আগে যখন জিহাদ শুরু হয়েছিল তখন আমাদেরকে পাহাড় প্রমাণ বাধা বিপত্তি, চড়াই উৎরাই, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সে সময়কার একজন মুজাহিদও কি কল্পনা করতে পেরেছিল যে, আমরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছতে পারব! কেউ কি ভাবতে পেরেছিল যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বিনীত, অহংকারী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে আমরা এভাবে পর্যুদস্ত করে ছাড়ব এবং আমাদের হাতে তাদের পরাজয়ের ইতিহাস রচিত হবে! যা আমরা কল্পনা করতে পারিনি, ভাগ্যক্রমে আজ তার বাস্তবায়ন নিজ চোখে দেখছি। এগুলো আপনাদের ত্যাগের ফসল। কোনো মানুষ এগুলো আমাদের খয়রাত করেনি।

বন্ধুগণ! আপনারা জানেন যে, চলমান জিহাদের সূচনা হয়েছিল বিশুদ্ধ নিয়ত তথা নিষ্ঠার সাথে। সেসময় জিহাদ করে জাগতিক কিছু পাওয়ার ছিল না; ছিল না পদ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিস্থিতি; ছিল না আমাদের বিভাগ, জেলা; ছিল না পদপদবি, পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব; ছিল না দেশ। মানুষের মনে ছিল শুধু এই বিশ্বাস, জিহাদ এক ঐশী বিধান। তা যে কোনো মূল্যে চালিয়ে যেতে হবে। পরে কী ঘটবে তা দেখার বিষয় নয়। জয়-পরাজয় মূখ্য নয়। সব কিছুর আগে খোদায়ী বিধান ‘জিহাদ’ শুরু করতে হবে।

অপরদিকে শত্রু-মিত্র সকলেই উপদেশ দিচ্ছিল যে, তোমরা অপরাজেয় সুপারপাওয়ারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাচ্ছ; তাজা বুলেটের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহুতি দিতে চাচ্ছ; যা করতে চাচ্ছ তা আদৌ সম্ভব নয়। নিজেদেরকে অযথা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না। জীবনের অপচয় করো না। বিশ্বের কোনো দেশ‌ তোমাদের পাশে থাকবে না। বিজয়ের অলীক কল্পনা ঝেড়ে ফেল। তা নিছক অসম্ভব।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বিজয়ের প্রতিশ্রুতি পূর্বেই দিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকনির্দেশনার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ আস্থা ছিল। আমরা আল্লাহর দ্বীনের মর্যাদা রক্ষার জন্য চেষ্টা করেই যাবো, কখনো দুর্বলতা দেখাবো না, ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা তখনকার কথা ভুলবো না যখন জিহাদের মাধ্যমে বস্তুগত লাভ, সুনাম- সুখ্যাতি লক্ষ্য ছিল না; বরং সবকিছু করা হয়েছে নির্যাতিত মুসলিম ও আফগানদের জন্য। তখন শাখাগত বিষয়ে দ্বন্দ্বের কথা কেউ কল্পনাও করতো না। এটা সত্য যে, দায়-দায়িত্ব ও পদ-পদবির পরিধি বিস্তৃত হওয়ার কারণে স্বভাবতই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় সামনে এসেছে। নিষ্ঠার মধ্যে ত্রুটির কারণে এসব হচ্ছে।

তাই সূচনালগ্নে আমাদের জিহাদ ও আবেগ কেমন ছিল তা ফিরে দেখতে হবে। জিহাদ করাকে কখনো দায়িত্ব পাওয়া-না পাওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করবেন না। জিহাদকে বস্তুগত অর্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না। মাঝে মধ্যে আমি এমনটি দেখেছি—তারা ভালো, শক্তিশালী এবং নিষ্ঠাবান মুজাহিদ; কিন্তু যতক্ষণ তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া না হয় ততক্ষণ তারা নিজেদেরকে কাজ করতে বাধ্য মনে করে না। যাইহোক, জিহাদ এক ফরজ ইবাদত। জিহাদ করতে প্রত্যেক মুসলিম নরনারী বাধ্য।

ভাইয়েরা আমার! আমরা জিহাদে অংশগ্রহণ করব ইবাদত হিসেবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ইসলামি ইমারাহর কাঠামো বিস্তৃত হয়েছে; বহু কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিকে হাতেগোনা কয়েকটি কমিশন ছিল। সকল কাজ কয়েকটি মাত্র কমিশনের দ্বারা পরিচালিত হতো। পরে যখন কমিশনের সংখ্যা বাড়লো, তখন স্বভাবতই প্রতিটি কমিশনের জন্য আইন ও কার্যপ্রণালী প্রণীত হল। প্রতিটি আইন উলামা মাশায়েখ কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত হয়। ঐক্যমতের ভিত্তিতে আইন পাশ হওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, কমিশনসমূহের মাঝে সমন্বয় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া কখনো কখনো অনুপস্থিত মনে হয়। অন্য কথায়, এক দেশ যেমন অন্য দেশকে অথবা এক দল যেমন অন্য দলকে প্রতিপক্ষ মনে করে, তেমনি কখনো একটি কমিশন অন্যান্য কমিশনকে নিজের প্রতিপক্ষ মনে করে। আমাদের সকল কমিশনের উচিত সুসমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতিতে কাজ করা। প্রতিটি কমিশনের উচিত অপর কমিশনের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। আমাদের দেশ অভিন্ন, জাতিসত্তা অভিন্ন, মর্যাদা ও গৌরব অভিন্ন।

আল্লাহ না করুন, কোনো শাখা বিচ্যুত হয়ে যদি আমাদের মান-মর্যাদা নষ্ট করে তাহলে তা বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্রোহ বলে গণ্য হবে। যদি কোথাও অনর্থ পরিলক্ষিত হয় তাহলে একে সমর্থন করা, এতে হাওয়া দেওয়া, ছড়িয়ে বেড়ানো, মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করা এবং বিভেদের উপকরণ বানানোর পরিবর্তে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে হবে এবং জবাব খুঁজে বের করতে হবে।

আপনি যদি কোনো বিষয়ে একমত না হন অথবা যদি তা আপনার বুঝে না আসে তাহলে বিষয়টি শরীয়ত সম্মত কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে পারেন। যদি শরিয়া বোর্ড বিষয়টিকে শরীয়ত সম্মত বলে জানায় তাহলে এতে আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর যদি শরীয়ত বহির্ভূত প্রমাণিত হয় তাহলে আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের ভুল শুধরে নেবো।
একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও ষড়যন্ত্রের পরিবর্তে আমরা ইসলামি ইমারাহর সকল ডিপার্টমেন্টকে ঐক্যবদ্ধ রাখবো। সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদেরকে সাহায্য করবো। কারণ আমরা নিজেদেরকে ইসলামি ইমারাহর প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের কর্মরতদের সেবক বিবেচনা করি। আমাদেরকে যেসব সেবা প্রদান করা হবে তা হতে হবে যথানিয়মে যেন কোনো বিরোধ না হয় এবং কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।

কর্তব্য পালনের আরো একটি দিক:
নিজের দল, পক্ষ, জেলা, অঞ্চল, সামরিক কমিশন ইত্যাদির বাহিরে আর কিছুই আপনার জানার প্রয়োজন নেই—এমনটি ভাববেন না। কর্মকর্তাগণ অন্যান্য কমিশনের নিয়ম-নীতিও (লিখিত আইন) সংগ্রহের চেষ্টা করবেন এবং নিজেদেরকে সেগুলোর সাথে পরিচিত করবেন।
যেন অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে না হয়।
যখনই কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে তখনই আমরা তদন্ত করেছি এবং দেখতে পেয়েছি সমস্যার মূলে ছিল আইন লংঘন। যদি আমরা প্রতিটি কার্যালয়ের আইন মেনে চলি তাহলে কোনো সমস্যা এবং দ্বন্দ্ব থাকবে না। নিশ্চিত করে বলা যায় যে, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যক্তির জিহাদী জীবনে পরিবর্তন আসবে। অনেক সাধারণ ব্যক্তি মর্যাদাবান ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারেন, অখ্যাত ব্যক্তি খ্যাতি লাভ করতে পারেন, নিরস্ত্র কৃষক নেতৃত্ব লাভ করতে পারেন, নিঃস্ব ব্যক্তি ধনাঢ্য হয়ে যেতে পারেন,পদমর্যাদাহীন ব্যক্তি উচ্চ পদ লাভ করতে পারেন।

যদি আমরা আত্মতুষ্টি,অসংযম পরিহার করি, আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা এবং তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি তাহলে আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং আমরা হবো প্রকৃত মুজাহিদ। কিন্তু আমরা যদি এর ব্যতিক্রম করি তাহলে আমাদের অবস্থা হবে সে সকল সাবেক জিহাদী নেতাদের মতো,যারা আজ শত্রুদের পক্ষ নিয়েছে এবং দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ করেছে।
ভাইয়েরা আমার! জিহাদের বিশাল ফজিলত এবং এর সাথে যে সকল ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন।
প্রিয় ভাইয়েরা! এমন বহু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান না। তারা পদ চান না। তারা ভয় করেন যে, ভুল কিছু করে ফেললে আল্লাহর রোষানলে পড়বেন এবং তাদের পরকাল বরবাদ হয়ে যাবে। শরীয়ত মেনে চলতে আল্লাহ আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে দৃঢ়তা ও অবিচলতা দান করুন।

আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফলতা ও পরাজয়ের উৎস সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। তিনি উহুদ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের কয়েকজনকে পাহাড়ের পাদদেশে মোতায়েন করেছিলেন। তিনি তাদেরকে বলেছিলেন যে, জয়-পরাজয় যাইহোক স্থান ত্যাগ করা যাবে না। কয়েকজন এই নির্দেশ অমান্য করলেন। ফলে মুসলিমগণ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো সাহাবায়ে কেরামের। এই ছিল মুসলিমদের সোনালী যুগের ঘটনা। যদি বর্তমান সময়ে আমাদের কাজের প্রতি লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাবো যে আমাদের দ্বারা আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং পরে এসব ভুলের কারণে গোটা বাহিনী এবং জিহাদী কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আল্লাহর জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া বা শাহাদাত লাভ করা এক বিশাল মর্যাদার বিষয়। আমরা সকলেই আল্লাহর কাছে শাহাদাত কামনা করি। তবে আমাদের সকলেরই উচিত আমাদের কর্ম বা আমলের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া। মুজাহিদগণের মাঝে যখন মতপার্থক্য বৃদ্ধি পায় তখন নিষ্ঠা হ্রাস পায়, আক্রোশ বৃদ্ধি পায়; ফলে শাহাদাত বিফলে যায়। শত্রুদের মনোবল চাঙ্গা হয় এবং মুজাহিদগণের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ে।

এসবের কারণ হচ্ছে হতাশা, অনৈক্য, কথা কাটাকাটি বা কলহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে ও নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না; করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে।

যদিও আপনার দলপতি, জেলা প্রশাসক, গভর্নর ও কমিশনের প্রধানকে আপনার ভালো না লাগে তবুও আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মেনে চলুন (আমীরের আনুগত্য করুন)। প্রত্যেকেরই মনে রাখা উচিত যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওয়াস্তে এই আমিরের আনুগত্য করছি, তার কথামতো কাজ করছি। এই আনুগত্যের ফলে আমার অপছন্দের আমিরের পদমর্যাদা বেড়ে গেলেও তা দেখার বিষয় নয়। প্রত্যেকেরই ভাবা উচিত যে, আমি আমার ঐকান্তিকতা তথা ইখলাস নষ্ট হতে দেবো না। আল্লাহ মনোনিত দ্বীন ও ইসলামি ইমারাহকে শক্তিশালী করবো এবং শ্রদ্ধার চোখে দেখবো।
ইসলামি ইমারাহ আমাদের ঈমান ও ধর্মের কেন্দ্রস্থল। এর অধীনে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং এর পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ।
ইসলামি ইমারাহর মুজাহিদগণের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নেই। বিশ্বের অন্য সকল রাষ্ট্রে প্রতিটি সেবার বিনিময়ে রয়েছে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা। নবী-রাসূলগণ দ্বীন প্রচার করতেন এবং বলতেন যে, তোমাদের কাছে আমরা কিছুই চাই না। আমাদের প্রতিদান দেবেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

মুজাহিদগণের ঈমান ও স্বকীয়তা বোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তারা পাঁচ-ছয় মাস একাধারে সামরিক কাজে নিয়োজিত থেকেছেন। তাদের কেউই আমাদের কাছে একথা বলেননি যে, পরিবারের জীবিকা নির্বাহের তাগিদে আমাকে সামরিক কাজ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আমাদের অজানা নয় আপনাদের অনেকে জীবিকার তাগিদে রিক্সা চালাচ্ছেন; শ্রমিকের কাজ করছেন। আপনারা অন্যের কাছে হাত পাতেন নি এবং জিহাদ চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানাননি। আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে আপনাদেরকে সফলতা দান করুন। আপনাদের ঐকান্তিকতার প্রতি আস্থা রেখে বলছি যে, শরীয়াহ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনারা আরো বেশি আন্তরিক হবেন এবং বড়দের সাথে সহযোগী ভাবাপন্ন হবেন। এই নিষ্ঠা সফলতার মূল রহস্য।
আপনারা জানেন যে, আমেরিকা ঘোষণা করেছে এক বছরে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। এর মানে হচ্ছে, তালেবান নিজেদের নেতৃস্থানীয়দের আদেশের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত তা দেখে আমেরিকা রীতিমত হতবাক হয়েছে। বদখশান, কান্দাহার, পাকতিয়া, নাঙ্গাহার সর্বত্র আমিরের নির্দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সব সময় একে অপরকে সহায়তা করার চেষ্টা করুন এবং অন্যের বিরক্তি ও দুশ্চিন্তার কারণ হওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। আমাদের অনেক সহকর্মী এমন রয়েছে যারা অন্যের প্রতি অসন্তুষ্ট। কিন্তু যখন তারা শাহাদতবরণ করেন তখন সকলেই কেঁদে কেঁদে তাদের প্রশংসা করেন। একে অপরকে শ্রদ্ধা করুন। একে অপরের প্রতি সহনশীল হোন এবং একে অপরের প্রতি দয়ার্দ্র হোন। বড়দের উচিত ছোটদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং ছোটদের উচিত বড়দের শ্রদ্ধা করা। আল্লাহ চাহেন তো আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

বস্তুগত উপকরণের মাধ্যমে নয় বরং আল্লাহর অনুগ্রহের মাধ্যমে আপনারা শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন। আমাদের একতার উসিলায় আল্লাহ তাআলা শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন। আমাদের একতার কারণে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে। তারা মুজাহিদের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্রই প্রয়োগ করেছে। কিন্তু তারা মুজাহিদদের সংকল্প ও নিষ্ঠাতে চির ধরাতে পারেনি। তাদের অবস্থান ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এখন একমাত্র যে কৌশল বারবার প্রয়োগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা হচ্ছে, মুজাহিদদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা। তারা এটি করতে চাচ্ছে, কারণ অনৈক্য ও কলহ সৃষ্টির নীতিতে তারা বহু ইসলামি আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

যদি আপনি দেখেন যে, কেউ অন্যায় কিছু করছে, যদিও এর দায়ভার আপনাকে নিতে হবে না তবুও আপনি বিষয়টি অনুসন্ধান করুন এবং নীরবে ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, এ ধরনের তৎপরতা আপনার জন্য এবং আপনাদের গোটা কার্যক্রমের জন্য ক্ষতিকর। আর আপনি যদি জানতে পারেন যে তাঁর কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে তাহলে আপনার কর্তব্য হচ্ছে, বিষয়টি কোনো দায়িত্বশীলকে অবহিত করা।

সর্বদা এমন লোকদের একজন হওয়ার চেষ্টা করুন, যারা সৎ কাজের আদেশ করে এবং মন্দ কাজ করতে বারণ করে। কারণ যাদের মাঝে এই গুণ থাকবে তাদের মাঝে কেউই ফাটল ও বিভেদ দেখতে পাবে না।

নিপীড়িত ও দুর্বলদের অধিকার:

আপনাদের মাঝে অনেক বিধবা ও এতীম রয়েছে। আপনারা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন আছেন। আমি যখন আপনাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ করি তখন দেখতে পাই যে, তিনি হয়তো তার দলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দলপতি, পূর্বসূরী শাহাদতবরণ করেছেন; কিংবা তার প্রথম অথবা দ্বিতীয় ভাই শাহাদাতবরণ করেছেন; তার দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাই জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন; অথবা তার পরিবারের সদস্যরা জিহাদে যোগদান করেছেন।

কিন্তু দেখুন প্রতিটি দল ও প্রতিটি ঘরেই শহীদ রয়েছে। প্রতিটি প্রদেশে হাজার হাজার লোক শাহাদাতবরণ করেছেন। সুতরাং তাদের স্ত্রী সন্তানদের খোঁজখবর রাখুন। দুর্বলদের কান্নাকাটি, কাকুতি-মিনতিতে আল্লাহর সাহায্য আসে। সুতরাং তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না। কারণ আল্লাহ তাআলা নিপীড়িত, বিধবা, যুদ্ধাহত,বন্দি ও উদ্বাস্তুদের সহায়তা করেন। যদি আমরা তাদের যত্ন নিই এবং নিজেদেরকে তাদের চেয়ে ছোট মনে করি তাহলে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল পরিস্থিতিতে সাহায্য করবেন।

এ লক্ষ্যে ইসলামি ইমারাহ যতটুকু করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কিন্তু এ ধরনের মানুষের খোঁজ নেয়া এবং তাদের সহায়তা করা খুবই জরুরী। আর এটি গ্রুপ লিডার বা যিনি দলের প্রধান, তার করা উচিত। এসকল মানুষের আবেদনকে অন্যের হাতে ন্যস্ত করবেন না। আলহামদুলিল্লাহ! শহীদানের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যেসকল আবেদন আসে সেগুলোর কোনোটিই বিফলে যায় না বা তাদের কেউই খালি হাতে ফেরেন না। আপনারা এই বিষয়টির প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হন। নিজেকে শহীদের পরিবারের একজন কল্পনা করে কাজ করুন।

আমাদের নিজেদের ঘরে এতিম রয়েছে। যখন ঘরে প্রবেশ করি তখন নিজেদের সন্তানদের কোলে তুলে নিতে পারি না। এমনটি করতে লজ্জাবোধ হয়। কারণ সেখানে এতিম রয়েছে। এই এতিমদের যত সুন্দর দেখাশোনাই করি, তাদের চেহারায় দেখতে পাই বিষণ্নতা। তাদের মানসিক দিক বিবেচনায় আমরা আমাদের সন্তানদের সাথে এতিমের মতো আচরণ করি, যেন এতিমের মনে আঘাত না লাগে। আমাদের এই আচরণকে আল্লাহ তায়ালা কপটতার অন্তর্ভুক্ত না করুন। আমরা এতিমদেরকে নিজেদের পরিবারের সব রকমের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন ঈদের দিনেও তাদের মুখে আনন্দের ছাপ দেখতে পাইনি।

আপনাদের সকলকে একজন করে এতিম শিশু দেওয়া হবে। তাদেরকে শ্রদ্ধার চোখে দেখবেন। তাদের পিতাগণ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে নিজেদের নির্ভেজাল রক্ত আল্লাহর জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামা রক্তে রঞ্জিত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই রক্ত কিসের?’ তিনি বললেন, ‘এগুলো আফগানিস্তানে শাহাদাতবরণকারীদের রক্ত। এই রক্ত খুবই মূল্যবান ও মর্যাদাপূর্ণ। এগুলো মাটিতে পড়ে থাকা উচিত নয়।’

আমি বলছি যে,এ সকল শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বিশ্বের এক দাম্ভিক শক্তির অহমিকা চূর্ণ করেছি। এই শহীদানের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা মাথা উঁচু করে হাঁটতে পারছি। শহীদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে বলবো যে, এতিমদের দেখাশোনার সৌভাগ্য, সুযোগ ও অর্থ আমাদের আছে। তাই আপনাদের বলবো, শহীদের পরিবারের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হোন। ভিক্ষা করা ভালো নয়। কিন্তু শহীদের স্ত্রী-সন্তানদের এবং আহত ভাইদের জন্য প্রয়োজনে আমি ভিক্ষা করবো। তবুও তাদেরকে অনাহারে থাকতে দেবো না।

শুনুন বন্ধুরা আমার! বিধবাগণ আমাদের জাতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যাদের দোয়ায় আমরা আল্লাহর সাহায্য লাভ করে থাকি। বিধবাদের দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষোভ আমাদের সকলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি:
এটি আজকের জমায়েতের আলোচ্য বিষয় নয়। তবুও জিহাদের ফলাফল যেহেতু পলিটিক্যাল অফিসের ওপরও নির্ভর করে, তাই এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সকলেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে রাজনৈতিক তৎপরতা আমরা এগিয়ে নিতে চাই। আলহামদুলিল্লাহ সামরিক অঙ্গনে আপনারা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে ইতিবাচক গতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন এবং আপনারা সফল হয়েছেন। এখন বাকি কাজ পলিটিক্যাল অফিসের কাঁধে বর্তায়। আমাদের সহকর্মীরা এ বিষয়ে সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে কাজ করছেন। সুতরাং ভুল বুঝাবুঝির শিকার হবেন না এবং শত্রুদের প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হবেন না।

ভাইয়েরা আমার! চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া নিয়ে শ্রদ্ধেয় আমিরুল মুমিনিন শেখ সাহেব আমির খুবই সচেতন ও যত্নশীল ছিলেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি যতটা ব্যস্ত ছিলেন আমি কখনোই তাঁকে সামরিক বিষয়ে ততটা ব্যস্ত দেখিনি।

সামান্য ব্যাখ্যাসহ তিনি চুক্তিপত্র লিডারশিপ কাউন্সিলের কাছে প্রেরণ করেন। তারপর তিনি শাইখদের কাছে প্রেরণ করেন। এর যথার্থতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে, তা কাতারে অবস্থিত পলিটিক্যাল অফিসে প্রেরণ করেন। আলহামদুলিল্লাহ সুন্দরভাবে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে পাঁচ হাজার বন্দি মুক্তিলাভ করছে। চুক্তিতে লেখা ছিল যে, তাঁরা সম্পূর্ণরূপে সৈন্য প্রত্যাহার করবে এবং দখলদারিত্বের অবসান ঘটাবে।

আলহামদুলিল্লাহ ইসলামি ইমারাহ প্রথম ধাপে সবকটি বিষয়ে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমেরিকার ত্রুটি নিয়ে। তারা কখনও এক স্থানে অভিযান চালাচ্ছে, আবার হয়তো অন্য কোথাও বোমা হামলা করছে। কিছুতেই এসব মুজাহিদের মর্যাদার সাথে যায় না। কিন্তু শ্রদ্ধেয় শেখ সাহিব বলেছেন, আমরা শরীয়ত আঁকড়ে থাকবো। আমাদের আছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম। ইসলামের ইতিহাসে মুসলিমরা কখনোই চুক্তিভঙ্গ করেননি। বরং চুক্তি ভঙ্গ করেছে কাফিররা। যদি আমরা চুক্তি বাতিল করি, তাহলে তা কিছুতেই ছলচাতুরি ও প্রতারণার ভিত্তিতে করবো না।

কর্তৃপক্ষের আদেশ হচ্ছে, যেন মুজাহিদগণ চুক্তিবিরোধী কিছু না করেন। যদি চুক্তি বাতিল করতে হয় তাহলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সমাজকে তা অবহিত করার মধ্য দিয়ে করবো। অপর পক্ষের চুক্তিবিরোধী কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও আমিরুল মুমিনিন সকল কর্মকর্তা ও কমান্ডারগণকে চুক্তি মেনে চলতে আদেশ করেছেন। যদি ছলচাতুরির মাধ্যমে আমরা দশটি প্রদেশ দখল করে নিই তাহলে এটাকে বিজয় বলা যাবে না। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন। ইসলাম ও মুসলিমদের গৌরবময় ইতিহাস কলঙ্কিত হবে।

আমরা আমাদের ইতিহাসে কখনোই চুক্তি ভঙ্গ করিনি। তবে শত্রুরা সব সময় প্রতারণা করেছে। কেউ চুক্তিভঙ্গ করলেও আমরা প্রতারণা করবো না। তবে মুজাহিদিনের আত্মমর্যাদাবোধ কিছুতেই অপরপক্ষের একের পর এক চুক্তিবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না। আমেরিকায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকে টালবাহানা শুরু করেছে। এসবে প্রভাবিত হবেন না। পনের বছর আগে আমরা ঈমানী শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি। তখন আমরা সামরিকভাবে ছিলাম অনেক দুর্বল। এখন আমাদের ঈমানী শক্তি এবং সামরিক সক্ষমতা দুটোই আছে। ড্রোন ব্যবহারের প্রযুক্তি আমাদের রয়েছে। রয়েছে আমাদের নিজস্ব মিসাইল। এখন মুজাহিদরা যদি আবারও লড়াই শুরু করে তাহলে শত্রুরা এমন কিছু দেখতে পাবে, যা তারা অতীতে কখনোই দেখেনি। তারা আক্ষেপ করে বলবে, আহা! যুদ্ধক্ষেত্র যদি আগের মতো হতো তবুও ভালো ছিল।

আমি ছিলাম মুজাহিদিনের নেতৃত্বে। আমার দায়িত্ব ছিল আমাদের দ্বারা চুক্তিবিরোধী কিছু হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা। মুজাহিদগণের এই বাহিনীর উপর আটটি ড্রোন নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। পাল্টা হামলার জন্য মুজাহিদগণ মরিয়া হয়ে উঠছিলেন। আমি তাদেরকে ধৈর্য ধরতে বলেছি। হুদায়বিয়াতে রাসুলের সাহাবীগণ তরবারি কোষমুক্ত করে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ধৈর্য ধরেছেন। সেখানে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক পর্যায়ে কাফেররা আল্লাহর রাসূলের কাছে সংবাদ পাঠাতে বাধ্য হলো যে, আবু জান্দাল ও আবু বাসীরদের (রাদি.) ফিরিয়ে আনুন।

আল্লাহ চাহেন তো বিশ্বের আরো এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি পরাজিত হবে। আমরা তার সাক্ষী হয়ে থাকবো। আপনাদের ত্যাগ ও কুরবানির কারণে শুকরিয়া জানাচ্ছি। চুক্তি মেনে চলা মানে আমাদের ক্ষয়, অধঃপতন বা দুর্বলতা নয়। কিন্তু শরীয়তের উপর অবিচল থেকে আমরা তা ইতিহাসের পাতায় লিখে রাখতে চাই।

যদি আমরা জিহাদ চালিয়ে যাই, তাহলে তা শরীয়ত সম্মতভাবে চালিয়ে যাবো, আর যদি আলোচনা চালিয়ে যাই তাহলে তাও শরীয়ত সম্মতভাবে চালিয়ে যাবো। আমরা শরীয়াহর সামনে আত্মসমর্পণ করেছি। আমরা আমাদের চাহিদার কাছে আত্মসমর্পণ করিনি। আপনারা দেখেছেন, এ দেশে অতীতে বহু আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু আজ সে সবের অস্তিত্ব নেই। কারণ তারা শরীয়াহ মেনে আন্দোলন করতো না। যদি আমরা ঈমান ও শরীয়তকে আঁকড়ে থাকতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমরা ইহকাল ও পরকালে সফল হবো।

আমার মুজাহিদ ভাইয়েরা! আমি নিজেকে আপনাদের পায়ের ধূলির সমানও মনে করি না। মুজাহিদগণের সাথে বের হয়ে আমি অনুভব করেছি যে, আমি নিজের সাথে একটি ব্যাগ বহন করতেও সক্ষম নই। কখনো আমার চাদর কাঁধে জড়িয়ে যায় এবং আমার কাছে তা বোঝা মনে হয়। আমি হতবাক হয়েছি, একজন মুজাহিদ কেমন করে হেঁটে চলে। তারা রকেট ও বুলেট সাথে বহন করে চলাফেরা করে। ক্ষুধা-পিপাসা নিয়েই তারা লড়াই করে। শহীদের লাশ এবং আহতদের তারা বয়ে নিয়ে আসে, সুবহানআল্লাহ।

যখন ভাই নাসিরুদ্দীন শহীদ হলেন এবং প্রয়াত মোল্লা সাহিব মৃত্যুবরণ করলেন তখন আমি অনেক বেশি মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতাম। সেখানে আমি লিডারশিপ কাউন্সিলের অবস্থান দেখেছি; শরীয়তের প্রতি তাদের নিষ্ঠা দেখেছি। তখন আমার মধ্যে এই দৃঢ়বিশ্বাস জন্ম নিল যে, যদি অন্য সকলে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তবুও এই শাইখগণ ও লিডারশিপ কাউন্সিল মাতৃভূমিকে নিলামে তুলবেন না।

প্রয়াত মোল্লা সাহিব আমাদেরকে এমন কোনো অবস্থায় ছেড়ে যাননি যে অন্য কেহ আমাদের লজ্জা দেবে অথবা আমাদের বদনাম করার সুযোগ পাবে। ইসলামি ইমারাহকে আল্লাহ তায়ালা এমন উঁচু অবস্থান প্রদান করার কারণ হচ্ছে, এর সামনের সারিতে রয়েছে ওলামা-মাশায়েখগণ। আজ আপনারা শিষ্যের মতো ওলামা-মাশায়েখদের সামনে বসেছেন। এটি আপনাদের সফলতা। যদি আমরা ওলামা-মাশায়েখ এবং আমীরকে আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করি তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে সফল রাখবেন। শায়েখগণ আপনাদেরকে মূল্যবান সময় দিচ্ছেন এবং আপনারা তাদেরকে নিজেদের মূল্যবান সময় দিচ্ছেন, এজন্য আল্লাহ সকলকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আজকের শিক্ষাকে আপনারা শুধু শিক্ষার মধ্যে সীমিত রাখবেন না। বরং নিজেদের মধ্যে তা প্রয়োগ করুন।

মুজাহিদগণের সাথে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতাম তখন আমি দুটি বিষয়ে লক্ষ্য করেছি। আমাদের জাতি আমাদের সাথে অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছে অথচ তারা আমাদেরকে ভয় করতো। কারণ বহির্বিশ্বের প্রোপাগান্ডা তাদের কানে আসতো যে তালেবানরা মানুষ হত্যা করে, কট্টরপন্থা ও সন্ত্রাস ছড়ায়। মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছিল যে, আপনাদের ভালোর জন্য বা কল্যাণ কামনা করে কিছু বলা যাবে না। কারণ তাদের মনে ছিল সন্দেহ।

এই জাতি মহান জাতি। তাদের সাথে সেভাবে আচরণ করুন। এই জাতি আমাদের সাথে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং এখনো করে চলেছে। সুতরাং এই জাতির সামনে নম্রভাবে নিজেদের উপস্থাপন করুন। নিজের গাড়ি এমনভাবে চালাবেন না যে, মানুষ আতঙ্কিত হয় অথবা এই জাতির মনে আঘাত লাগে। এমন কিছু করবেন না, যা দ্বারা মনে হয় যে আপনি নিজেকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে মনে করেন বা আপনাকে কেউ কিছু বলার নেই। দৃঢ় শপথ করুন যে, এই জাতির মনে আঘাত দেওয়া যাবে না। যদি জমিজমা ইত্যাদি নিয়ে অথবা অন্য কোনো আইনি ইস্যুতে বিরোধ ধাকে তাহলে ইসলামি ইমারাহর মধ্যস্থতায় তা সমাধান করে নেবেন। জেনে রাখা ভালো যে, এসবের জন্য ইসলামি ইমারাহর স্বতন্ত্র বিভাগ রয়েছে। বরং সামরিক কমিশন, গোয়েন্দা বিভাগ, সাধারণের ক্ষয়ক্ষতি অনুসন্ধান বিভাগ, অভিযোগপত্র দাখিল বিভাগ, মোটকথা সবই আছে।

মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। এক সন্ধ্যায় আমি দেখেছি, মুজাহিদগণের গাড়ি উল্কা বেগে ছুটে চলেছে। মানুষ পাশ থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। শক্তি প্রদর্শনের নির্দিষ্ট ক্ষেত্র রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন, ‘তারা মুমিনদের প্রতি কোমল, কাফিরদের প্রতি কঠোর।’

শক্তি দেখাতে হবে দখলদারদেরকে। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত মুসলিমদের সামনে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করবেন না। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, যদিও আমরা বহুবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তবুও মানুষকে এমনটি ভাবার সুযোগ দেবেন না যে, তালেবানরা আমাদেরকে পীড়া দিচ্ছে। সর্বত্র মানুষকে উৎসাহিত করুন। তাদেরকে সম্মান করুন এবং তাদের সুরক্ষায় কাজ করুন।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমি লক্ষ্য করেছি, তা হচ্ছে আপনারা নিয়মিত কাজ ও এবাদত বন্দিগিতে অলসতা করছেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করছেন না। সালাতের সময় তো সবারই জানা। জামাতের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য আপনাদের এটুকু জানাই যথেষ্ট যে, শরীয়ত যুদ্ধকালীন সময়ে জামাতের সাথে সালাত আদায় করার আদেশ করেছে এবং সালাতুল খাউফ এর বিধান প্রবর্তন করেছে। মানুষ আমাদের জানিয়েছে, অনেক মুজাহিদ রাতে মসজিদে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু ফজর পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠছেন না। সালাতের জন্য ডাকলে তারা ধমক দিচ্ছেন।

প্রতি নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত করুন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিজয়ের সুসংবাদ আসলেও ভোর পর্যন্ত সালাতে কাটাতেন।

প্রিয় ভাইয়েরা আল্লাহ তা’আলার সাথে যদি আত্মিক সম্পর্ক না থাকে; সালাত, কোরআন তেলাওয়াত যদি না করা হয়, তাহলে বিজয় আসবে কার কাছ থেকে?
যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে, যিকির করে, ইবাদত করে, ভালো কাজ করে, ফেরেশতাগণ পরকালে তাদের কণ্ঠস্বর চিনতে পারবেন। আর যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে না, তিলাওয়াত করে না, যিকির করে না ফেরেশতাগণ তাদের কণ্ঠ চিনবেন না। তাই আল্লাহ তা’আলার সাথে সম্পর্ক করুন। তার সন্তুষ্টি কামনা করুন। শরীয়তের আলোকে জীবন পরিচালনা করাকে অভ্যাসে পরিণত করুন।

এভাবে চিন্তা করবেন না যে, আমি গ্ৰুপ লিডার, আমি জেলা প্রশাসক, আমি গভর্নর, আমি কমিশন প্রধান—পদপদবী যেন আপনাকে বিপথে পরিচালিত না করে।
নববী যুগে এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে যখন কেউ নিজ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করতেন, তখন তারা আল্লাহর শুকর করতেন এবং বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি এই কাজের প্রতিদান চাই না। আমাকে শুধু দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সংঘটিত ভুল ত্রুটির কারণে পাকড়াও করবেন না। বর্তমানে আমাদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলে তা লাভের জন্য কাকুতি-মিনতি করতে শুরু করি। আমরা সরাসরি অথবা কোনো মধ্যস্থতায় প্রস্তাব করি যে, আমি এমন এমন পদ লাভের উপযুক্ত।
শ্রদ্ধার সাথে বলছি, দায়িত্ব ও পদ আপনারা পাবেন। কিন্তু কীভাবে সে দায়িত্ব পালন হবে? আমরা আপনাকে গাইডলাইন দেবো। । তা যথাযথভাবে মেনে চলুন। আপনাদের কাছে এর বাহিরে আর কিছু চাই না।

আগে আমাদের সময়ে আমরা এমন দেখিনি যে, বিশ্বাসঘাতকতার কারণে কেউ বরখাস্ত হয়েছে। বরং সে সময় বরখাস্ত হয়েছে বেপরোয়া হওয়ার কারণে অথবা অযোগ্যতার কারণে। আমরা যদি দেখতে পাই যে, কেউ গঠনতন্ত্র মানছে না, তাহলে আমরা তা অন্যের সাথে তুলনা করি এবং বলি যে, সে এই পদের উপযুক্ত নয়। ইসলামি ইমারাহর নীতিমালা বাস্তবায়নের মতো ধৈর্য তার নেই। আপনার নেতা যদি আপনার পছন্দ না হয় তাহলে আপনি নিজের চাহিদা মতো তাকে অপছন্দ করতে যাবেন না। বরং এক্ষেত্রে শরীয়ত কী বলে সেটি ভাবুন। আরো মনে রাখুন যে, এমনটি আমাদের নজরে আসলে তা আপনার ক্ষতির কারণ হবে। নিজেকে দৃঢ়ভাবে বলুন যে, আমি আমার মুখ বন্ধ রাখবো। আমি আমার দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করে যাবো। আপনি যদি মান্য করেন, অন্যরাও তাই করবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

এখানে আরো একটি বিষয় বলতে চাই যে, আমাদের অনেক সহকর্মীর দুর্বলতা ও ত্রুটি সম্পর্কে আমরা অবগত। তবুও আমরা এখনো আপনাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিইনি। কারণ আপনাকে এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা জানি যে, আপনি জিহাদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই পথে আপনি অনেক কষ্ট করেছেন। কিন্তু আপনার উচিত, নিজেকে সংশোধন করা।

আত্মসংশোধনের জন্য আমাদের দাওয়াহ কমিশন রয়েছে। সুতরাং জিহাদ থেকে কাউকে তাড়িয়ে দেবেন না এবং তাদেরকে এত বেশি তিরষ্কার করবেন না যে, মানুষ তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখে। তাদেরকে জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার এবং সেবা করার সুযোগ দিন। তার সাথে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, যদি এ ধরনের মানুষকে নিজেদের মাঝে না রাখতে পারেন, তাহলে শত্রুর দরজা সব সময়ই খোলা।

আমাদের কেউ কেউ যখন কোনো মুজাহিদের প্রতি বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হই, তখন তাকে পথভ্রষ্ট না করে ছাড়ি না। সমস্যা যাই হোক, তা সংশোধনের চেষ্টা করুন। তাড়িয়ে দেবেন না। অনুগ্রহ প্রদর্শন করুন। দেখুন জিহাদের দিনগুলো সীমিত। তা ফুরিয়ে গেলে আমরা আশা করবো, আমরা যদি এই এবাদতের স্বাদ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারতাম।

উদাহরণস্বরূপ নাঙ্গারহারে আমাদের মুজাহিদ প্রয়োজন। ওয়ারদাক,গজনি ও অন্যান্য প্রদেশ থেকে মুজাহিদ প্রয়োজন। যখন আমরা তাদেরকে তলব করি, তখন অনেক সময় বলা হয় যে, আমরা আমাদের নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করেছি। এখন শীতকাল। আমরা বসন্তে আসবো। বসন্ত না শীত ,তাতে কি আসে যায়? আনুগত্য করা কি অবশ্য কর্তব্য নয়? প্রতিকূল ও অনুকূল, সর্বাবস্থায় আনুগত্যের শপথ কি আমরা করিনি?

আপনারা জানেন যে, মানুষ আপনাদের কাছে সাহায্যের আবেদন নিয়ে আসবে। এখানে যদি আপনার দায়িত্ব পালন শেষ করে থাকেন, তাহলে এখানে আর সময় নষ্ট করবেন না। অন্যদের কাছে যান। তাদের সহায়তা করুন। আল্লাহ আপনাদের বদলা দেবেন।

আপনারা হাদীসগ্ৰন্থ থেকে তাবুক যুদ্ধের ইতিহাস এবং তিন সাহাবীর ঘটনা জেনেছেন। তারা অনেক কষ্ট করেছেন; অবর্ণনীয় মানসিক চাপের মধ্যে প্রায় দুই মাস কাটিয়েছেন।

আপনারা সেই সাহাবীর কথা জানেন, যিনি সবার সাথে মিলে জুমুআর সালাত আদায়ের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বের হতে পারেননি। জুমুআর সালাত শেষে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হলেন। আল্লাহর রাসূল জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বিলম্বের কারণ কী? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই মহান ইবাদতে ( জুমুআর সালাত) অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমার একটু দেরি হয়েছে। আল্লাহর রাসূল তাকে বললেন, এক সকাল অথবা এক বিকাল আল্লাহর রাস্তায় কাটানো, দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম।

বর্তমানে জিহাদের ফজিলতের কথা আমরা ভুলে গেছি। আমাদের উচিত, সাথীদের সহায়তায় এগিয়ে যাওয়া। কুন্দুজ, বদখশান তথা যেখানে প্রয়োজন হয় সেখানে ছুটে যাওয়া। গোত্র, অঞ্চল ও ভাষার ভিত্তিতে শত্রুরা মুজাহিদিনকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে। তাদের এই অপতৎপরতা রুখতে, আমরা আমাদের ভাইদের সহায়তায় এগিয়ে যাবো। যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানেই যাবো।

ভাইয়েরা আমার! মানুষের ভুল হতেই পারে। আমার কোনো কথা অনধিকার চর্চার শামিল হতে পারে। আমাকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করুন।

আমিরুল মুমিনীন আপনাদের প্রতি খুবই সদয়। তিনি আপনাদের জন্য দোয়া করছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করে দিন। দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদেরকে সুখী করুন।
و آخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

৫ রজব,১৪৪২ হিজরী।

বি.দ্র: ইসলামি ইমারতের মুহতারাম নায়েবে আমিরের এই বার্তাটি এ দেশের মুজাহিদিন ও তাঁদের সমর্থকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বার্তাটি থেকে অন্যান্য ইসলামি সংগঠনগুলোও উপকৃত হতে পারবে আশা করি ইনশাআল্লাহ।

অনুবাদক: তারেক মুসান্না

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন