এক দশক পরেও শেষ হয়নি ছোট সেতু নির্মাণ, ব্যয় বেড়েছে ৬২%

1
749
এক দশক পরেও শেষ হয়নি ছোট সেতু নির্মাণ, ব্যয় বেড়েছে ৬২%

শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর দৈর্ঘ্য সোয়া কিলোমিটারের মতো। প্রকল্প অনুমোদনের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১০ সালে পদ্মা সেতু ও তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্প অনুমোদন দেয়। নদীর পরিস্থিতি অনুকূল থাকার পরও মাত্র ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি।

গুরুত্ব-প্রয়োজনীয়তা, নকশা ও নির্মাণশৈলীর দিক থেকে পদ্মা সেতুর সঙ্গে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর তুলনা হয় না। তবে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুটির গুরুত্বও নেহাত কম নয়। কারণ, সেতুটি হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদরের সঙ্গে বন্দর উপজেলারও সংযোগ ঘটবে।

বর্তমানে প্রতিদিন বন্দর উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষকে নৌকা ও ট্রলারে করে নারায়ণগঞ্জ সদরে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত যেমন ভোগান্তি থাকে, তেমনি মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে।

এই সেতুর কাছেই ৪ এপ্রিল বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে আসা একটি কার্গো জাহাজ চাপা দেয় ছোট লঞ্চকে। এতে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। নৌযানচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, জাহাজটির গতি যেমন বেপরোয়া ছিল, তেমনি সেতুর কাছে নৌপথ সংকুচিত হওয়াও দুর্ঘটনার একটি কারণ। লঞ্চ দুর্ঘটনার তদন্তে গঠিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কমিটির প্রতিবেদনেও দুর্ঘটনার অনেকগুলো কারণের একটি হিসেবে সংকুচিত নৌপথকে দায়ী করেছিল।

১০ বছরেও কেন তুলনামূলক ছোট এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার কারণ হল বাংলাদেশ সরকারের খামখেয়ালি। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় ও মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্পটি পাস করার সময় এর ব্যয় ধরা হয় ৩৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এসএফডি ৩১২ কোটি টাকা ঋণ এবং সরকারের ৬৫ কোটি টাকা জোগান দেওয়ার কথা। পরের বছর সংস্থাটির সঙ্গে ঋণচুক্তি সই হয়। ২০১৩ সালের মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় ৩৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প এখন ৬১০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। খরচ বেড়েছে ২৩৩ কোটি টাকা, যা শুরুর ব্যয়ের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি। বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ জোগান দিতে হবে সরকারের তহবিল থেকে। নতুন ব্যয় কাঠামো অনুযায়ী, সরকার দেবে ২৬৫ কোটি টাকা, যা আগে ছিল ৬৫ কোটি টাকা। আর এসএফডি দেবে ৩৪৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সার্বিক কাজ এখনো ২৫ শতাংশ বাকি। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছে সওজ অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রকল্পের নথিপত্র সূত্র জানাচ্ছে, এই প্রকল্পে পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগ দিতেই লেগে যায় সাত বছর। কারণ, সেতুর নির্মাণ ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ নিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে অর্থায়নকারী সংস্থা এসএফডির টানাপোড়েন চলে।
কালক্ষেপণ করে এভাবে ব্যয় বাড়ানো একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে সরকারের। জনগণের ভোগান্তি হলেও নিজেদের আখের গোছানোই যেন মুল উদ্দেশ্য। প্রথম আলো

১টি মন্তব্য

  1. সুশৃঙ্খল খবর !!!!!
    দেখে ভালোই লাগলো তবে দুঃখজনক হলেও সত্য এখন প্রশ্ন হলো সরকারের খামখেয়ালির কারণে যে খরচ বেড়েছে ২৩৩ কোটি টাকা, যা শুরুর ব্যয়ের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি , মাফিয়া সরকার এখন এ টাকাগুলো পূরণ করবে কাদের টাকা দিয়ে ?????????
    সাধারন জনগণের টেক্সের টাকা দিয়েই তো , মানুষ না খেয়ে মরে যাক তবুও তার কোন সমস্যা নেই সে আছে হিন্দুত্বাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজে ব্যস্ত এ এজেন্ডা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় যদি সকল মানুষ মরেও যায় তার কোন আপত্তি নেই, কেননা সে তো চলে দিল্লির নির্দেশে ……..

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন