খোরাসান | ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬টি প্রদেশ বিজয় করে নিয়েছেন তালিবান মুজাহিদিন

12
1929
খোরাসান | ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬টি প্রদেশ বিজয় করে নিয়েছেন তালিবান মুজাহিদিন

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জানবায তালিবান মুজাহিদিন তাদের অভূতপূর্ব বিজয় অভিযানের ধারাবাহিতায় গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানের আরও ৬টি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। যেখানে উড়ছে এখন তাওহিদের ঝাণ্ডা। আল্লাহু আকবার কাবীরা

IMG-20210814-231855-742

ইমারতে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ক্বারী ইউসুফ আহমদি হাফিজাহুল্লাহ্ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন যে, তালিবান মুজাহিদগণ (১৪ আগস্ট শনিবার) সন্ধ্যায় আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ফারিয়াবের রাজধানী মাইমানা শহর, গভর্নর কার্যালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, কেন্দ্রীয় কারাগার এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামরিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

IMG-20210815-003934-678

এর আগে বিকাল বেলায় ফারয়াব প্রদেশের সর্বশেষ জেলা “পশতুন কোট” বিনা যুদ্ধে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তালিবান মুজাহিদিন। কেননা এদিন কাবুল সেনারা তাদের অস্ত্রশস্ত্রসহ তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ মুজাহিদদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

IMG-20210815-004116-133

অপরদিকে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ তাঁর টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, তালিবান মুজাহিদগণ পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদ, গভর্নর কার্যালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং সরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। এসময় বেশ কিছু সরকারি সৈন্য তাদের অস্ত্র ত্যাগ করে তালিবান মুজাহিদদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

IMG-20210815-004334-338

তিনি এদিন পৃথক বার্তায় বলেছেন যে, তালিবান মুজাহিদগণ পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গার্দিজের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছেন। যেখান থেকে মুজাহিদগণ অনেক অস্ত্র, যানবাহন এবং সরঞ্জাম গনিমত পেয়েছেন।

IMG-20210815-004220-686

তিনি পৃথক কয়েকটি বার্তায় জানান যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত মুজাহিদগণ পাকতিকা প্রদেশের সর্বশেষ ৪টি জেলা কেন্দ্র এবং তার সাথে আনুষাঙ্গিক সকল স্থান সম্পূর্ণভাবে জয় করে নিয়েছেন মুজাহিদগণ। যেগুলো দীর্যদিন মুজাহিদদের অবরোধের মধ্যে ছিল। তবে অধিকাংশ স্থানেই কাবুল সেনা ও পুলিশ সদস্যরা যুদ্ধ না করে এদিন তাদের সমস্ত অস্ত্র ও যানবাহন ও সরঞ্জাম তালিবান মুজাহিদিনদের হাতে তুলে দিয়েছে।

IMG-20210815-003755-098

সর্বশেষ গতাকাল রাতে তালিবান মুজাহিদগণ বলখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরিফ ও লাগমান প্রদেশের রাজধানী মেহতারলাম বিজয় করে নেন।

IMG-20210815-004028-902

এরমধ্যে মাজার-ই-শরিফে গত কয়েকদিন যাবৎ কুখ্যাত জেনারেল আবদুর রশিদ দোস্তম ও তার মিলিশিয়াদের সাথে তীব্র লড়াই চলছিল তালিবান মুজাহিদদের। তবে গতকাল সকালে মুজাহিদগণ কাবুল সেনা ও মিলিশিয়াদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে তারা এতে সাড়া দেয়নি, ফলে সকাল থেকেই মুজাহিদগণ কেন্দ্রীয় শহর অবরোধ করে চতুর্দিক থেকে তীব্র হামলা চালাতে শুরু করেন এবং সন্ধ্যার পর মুজাহিদগণ কেন্দ্রীয় শহরের ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।

Pics-Art-08-15-12-54-55

স্থানীয় সূত্রমতে, আবদুর রশিদ দোস্তম ও তার শত শত মিলিশিয়া এবং কাবুল সৈন্যরা উজবেকিস্তানে প্রবেশের জন্য হায়রতান ব্রিজ হয়ে পালাতে শুরু করছে। যার কিছু দৃশ্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তালিবান মুখপাত্র- মুহতারাম জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এদিন মধ্যরাতে এক বিবৃতিতে গত ২৪ ঘন্টায় ৬টি প্রদেশের রাজধানী বিজয়ের সুসংবাদ দেন। তিনি বলেন, এদিন শত্রু পক্ষের হাজার হাজার সৈন্য, পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী তাদের অস্ত্র রেখে ইমারতে ইসলামিয়ার মুজাহিদদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এছাড়াও বীজিত প্রদেশগুলো থেকে হাজার হাজার হালকা ও ভারী অস্ত্র, লক্ষ লক্ষ গোলাবারুদ, হাজার হাজার সামরিক ও অ-সামরিক যানবাহন এবং সরঞ্জামাদি মুজাহিদগন গনিমত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ইমারতে ইসলামিয়ার সকল মুজাহিদিন এবং সাধারণ জনগণের এই মহান বিজয়ের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ দিনে এনিয়ে তালিবান মুজাহিদগণ আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্য থেকে ২৪টি প্রদেশ সম্পূর্ণভাবে বিজয় করে নিয়েছেন। বর্তমানে রাজধানী কাবুল সহ ৪টি প্রাদেশিক রাজধানী ব্যাতিত বাকি সবগুলো প্রাদেশিক রাজধানী এখন মুজাহিদদের অবরোধের মধ্য রয়েছে।

IMG-20210814-232008-730
IMG-20210814-231845-423
IMG-20210814-231858-235
IMG-20210814-231904-541
IMG-20210814-231858-235
IMG-20210814-231914-279
IMG-20210814-231920-576
IMG-20210814-231952-595
IMG-20210814-231957-252
IMG-20210815-004909-960
IMG-20210815-004911-874
IMG-20210815-005144-194
IMG-20210815-004901-450
IMG-20210815-004902-523

12 মন্তব্যসমূহ

  1. আল্লাহু আকবার কাবিরা!
    নিশ্চই আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটে যদি আমরা সুন্নাহ ফলো করি।
    তাই সকল গণতান্ত্রিক ইসলামি দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান থাকবে যে আপনারা তালেবান মুজাহিদিন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুণ।
    আসুন হে প্রতিভাবান উম্মাহর নেতৃবৃন্দ!গণতন্ত্ররের নোংরা পথ ছেড়ে দ্বীনের সঠিক পথে।
    ইনশাআল্লাহ গাজওয়াতুল হিন্দ অতি নিকটবর্তী,কড়া নাড়ছে আপনার দুয়ারে।
    একটা কথা মনে রাখবেন যে,গাজওয়াতুল হিন্দ কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে না।তা সশস্ত্র যুদ্ধই হবে ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন