চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আজান দিয়ে ভিডিও পোস্ট করায় দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার

0
1800
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আজান দেওয়ায় ভিডিও পোস্ট করায় দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার

সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। চট্টগ্রামের একটি দর্শনীয় স্থান। সুউচ্চ পাহাড়, ঝর্ণা ও পার্ক সবমিলিয়ে দর্শনার্থীদের একটি পছন্দের জায়গা। সবার মতো বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যায় কিছু মাদরাসা শিক্ষার্থী। নামাজের সময় হলে আজান দিয়ে নামাজ আদায় করে তারা। ঘোরাঘুরির ছবি এবং অন্যান্য ছবির সঙ্গে আজানের ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করে তারা।

ক্যাপশনে লিখে :
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আজান দিলাম আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ অতিশীঘ্রই সেখানে ইসলামের পতাকা উড়বে।
ব্যাস, এতেই ক্ষেপে গেলো হিন্দুরা। এটাকে রূপ দিলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হিসেবে। মামলা হলো।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হলো।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মালাউন কেশব চক্রবর্তী এ তথ্য জানিয়েছে।  সে বলেছে, সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে ধর্মীয় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আমরা দুই জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের মধ্যে একজন চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে আজান দেওয়ার ছবি তুলে ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দেন। অন্যজন সেটি শেয়ার করেন। দুই জনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার দুই ছাত্র ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের একজন একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানে ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করছেন। গত ২৭ আগস্ট পর্যটক নিয়ে ওই শিক্ষার্থী চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বেড়াতে যান। পরে সেখানে গিয়ে তিনি আজান দেন। ওই ঘটনার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে পোস্ট দেন। অপর শিক্ষার্থী ওই পোস্ট শেয়ার করেন।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাসুদেব রায় মামলাটি দায়ের করেছে। মামলায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া শিক্ষার্থীসহ যারা ওই পোস্ট শেয়ার এবং তাতে কমেন্ট করেছেন তাদেরসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।’

আসলে এখানে এমন কী উস্কানী ছিলো?

এমন কী আঘাত ছিলো?

পুরো দুনিয়াটাই মুসলমানদের জন্য মসজিদ। তো পাহাড়ে আযান দিয়ে নামায পড়লে সমস্যা কোথায়?
এছাড়া, বাংলাদেশের  কুফরী সংবিধানের ৪১ এর ১ এর (ক) ধারা অনুযায়ী, “প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে”।
তারা সীতাকুণ্ড পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দিরে কিংবা মন্দির চত্বরে আজান কিংবা নামাজ পড়েনি। তবুও এ অবস্থা! তাহলে আমরা কেন বলতে পারি না, এতে একজন স্বাধীন নাগরিককে তাঁর ধর্মপালনে বাঁধা দেয়া হয়েছে? তাদের গ্রেফতার করে কোটি-কোটি মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে?

ফেসবুকে আযানের ভিডিও দিয়ে ক্যাপশনে ভবিষ্যতে সেখানে ইসলামের পতাকা উড়বে লিখা কী অনেক বড় অধরাধ হয়ে গেছে। যে, মামলা দিতে হবে। গ্রেফতার করতে হবে!?

পক্ষন্তরে, হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্যজোটের নেতা গৌবিন্দ প্রমাণিক যখন প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে রাম রাজত্বের অংশ করার ঘোষণা করেছিল। তার কিছুই হয়নি। তখনতো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কারো নামে মামলাও করা হয়নি।

তাহলে মুসলিমদের সাথে এমন আচরণ কেনো?

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, চন্দ্রনাথ পাহাড়ে এক জায়গায় মন্দির থাকায় সেটাকে হিন্দুদের তীর্থস্থান দাবি করা হচ্ছে। তাহলেতো যে যে এলাকায় মন্দির আছে সেসব স্থানে মুসলিমদের আযাো  দেওয়া নামায পড়া নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। যেমনিভাবে পাশের দেশ ভারতে যে যে এলাকায় মন্দির আছে সেখানে গরু জবাই আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিন্দুদের মন্দিরতো যেকেউ যখন তখন মাটির মূর্তি রেখে কিছু ইট,পাথর দিয়ে মন্দির বানিয়ে ফেলতে পারে।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন