ইমারতে ইসলামিয়ার বিজয়ে আল-কায়েদার শুভেচ্ছা বার্তা এবং মুসলিম ভূমিগুলো পূণরুদ্ধারের ডাক

2
882
ইমারতে ইসলামিয়ার বিজয়ে আল-কায়েদার শুভেচ্ছা বার্তা এবং মুসলিম ভূমিগুলো পূণরুদ্ধারের ডাক

বৈশ্বিক জিহাদী তানযিম জামা’আতুল কায়িদাতুল জিহাদ এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ফাতহে কাবুল উপলক্ষ্যে ইমারতে ইসলামিয়ার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও পুরো মুসলিম উম্মাহকে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বিশ্বের সমস্ত মুসলিম ভূমিগুলো ‘শত্রু’র হাত থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানায় আল-কায়েদা।

গত ৩১ আগস্ট তানযিমুল কায়েদা এর কেন্দ্রীয় “আস-সাহাব” মিডিয়া এর পক্ষ থেকে ফাতহে কাবুল উপলক্ষে ইমারতে ইসলামিয়াকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানিয়ে “আফগানিস্তানে আল্লাহ প্রদত্ত বিজয়ের জন্য ইসলামী উম্মাহকে অভিনন্দন” শিরোনামে একটি বার্তা প্রকাশ করেছে। যদিও এর আগে তালিবান মুজাহিদদের বিজয়ে তানযিমুল কায়েদার আঞ্চলিক শাখাগুলো পৃথক পৃথকভাবে শুভেচ্ছা বার্তা সংবলিত বিবৃতি প্রকাশ করেছিল।

তানযিমুল কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে প্রকাশিত নতুন এই শুভেচ্ছা বার্তার প্রথমে আল্লাহ রাব্বুল ইযযাত ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশংসা করা হয়। অভিনন্দন জানানো হয় কাবুলের প্রেসিডেনসিয়াল প্যালেসে বসে পবিত্র কুরআনুল কারীমের আয়াত তিলাওয়াতকারী মুজাহিদকে।

এরপর আফগানিস্তানকে ‘সাম্রাজ্যবাদীদের গোরস্তান’ ও ‘ইসলামের দূর্গ’ অভিহিত করে বিশ্ব কুফর শক্তির মাথা আমেরিকার লজ্জাজনক পরাজয়কে তুলে ধরে বলা হয়, “আমরা আল্লাহর প্রশংসা ঘোষণা করছি, তিনি আমেরিকার কোমর ভেঙে দিয়েছেন, বিশ্বের সামনে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন তার দম্ভকে। আফগানিস্তান থেকে তাকে লজ্জাজনক এবং অপমানজনক পদ্ধতিতে বিতাড়িত করেছেন”।

বার্তাটিতে আমেরিকার অশুভ সাম্রাজ্যের পরাজয়কে জিহাদের ময়দানে এই যুগে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিদর্শন, নুসরাত ও বিশ্বের মাজলুম জনগোষ্ঠীর জন্য প্রেরণার বিরাট উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়।

বার্তায় আফগানদের প্রশংসা করে বলা হয়, জিহাদ ও প্রতিরোধ যুদ্ধের এই পথে আফগান জাতি অমূল্য কোরবানি দিয়েছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা পশ্চিমা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। পশ্চিমা ত্বাগুতি শক্তির কাছে না তারা মাথা নামিয়েছে, না জিহাদ ও শাহাদাতের রক্ত-পিচ্ছিল পথকে ছেড়ে দিয়েছেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পুরষ্কৃত করেছেন এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে বিজয় দান করেছেন।

এরপর বার্তায় আমিরুল মু’মিনীন মুহতারাম শাইখুল হাদিস মৌলভী হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা (হাফিযাহুল্লাহ) ও ইমারতে ইসলামিয়া এর নেতৃবৃন্দকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, আফগানিস্তানের ঘটনা ইসলামী বিশ্বের জন্য একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত। মুজাহিদদের এই বিজয় দেখিয়েছে দিয়েছে- মুসলিম উম্মাহ’র এই সামর্থ্য আছে যে, তারা তাদের পবিত্র স্থান, দ্বীন, ভূমি এবং সম্পদের নিরাপত্তা দিবে- যদি তারা একত্রিত হয়, অস্ত্র হাতে নেয় এবং নিজ দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে। এই বিজয় এটাও প্রমাণ করেছেন যে, জিহাদই বিজয় ও শক্তির একমাত্র পথ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটের পরাজয় ছিল পশ্চিমা আধিপত্য ও দখলদারিত্বের অবসানের সূচনা। মুজাহিদদের এই বিজয় “মুসলিম জনগণের জন্য ইসলামী বিশ্বের উপর চাপিয়ে দেওয়া পশ্চিমাদের নিপীড়ক আদেশগুলিকে ধ্বংস করে মুক্তির পথ সুগম করবে।” এর থেকে সূচনা হবে নতুন এক অধ্যায়ের, যা হবে জায়নিস্ট দখলদারিত্ব থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তি অধ্যায়।

বার্তায় আল-কায়েদার পক্ষ থেকে দুয়া করা হয়, আল্লাহ তাআলা যেন জিহাদের পথে শাহাদাত বরণ করা ভাই ও বোনদের কবুল করে নেন। প্রাক্তন আমিরুল মু’মিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর (রাহিমাহুল্লাহ) এর ঈমানদৃপ্ত চেতনা ও অটল জিহাদি মানসিকতারও প্রশংসা করা হয় বার্তায়, তাঁর জন্য রহমতের দুয়া করা হয়। স্মরণ করা হয় তাঁর ঈমান-জাগানিয়া উক্তি:- “আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আমাদেরকে বিজয়ী করার, আর বুশ ওয়াদা করেছে আমাদের পরাজিত করার। আমরা দেখব, কার ওয়াদা সত্য হয়।”

আল-কায়েদার এই বার্তায় প্রাক্তন আমিরুল মু’মিনীন, আপসহীন নেতা শহীদ শায়েখ আখতার মানসুর (রাহিমাহুল্লাহ) এর জন্যও দুয়া করা হয়। “শহীদদের পিতা” সম্বোধন করে দুয়া করা হয় হাক্কানি নেটওয়ার্ক এর প্রাক্তন আমীর জালালউদ্দীন হাক্কানি (রাহিমাহুল্লাহ) এর জন্যও।

সূরা আন-নূর এর ৫৫ নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাটিতে বলা হয়, শত্রু যতই শক্তিশালী ও অস্ত্রসজ্জিত হোক না কেন, কিতাবুল্লাহ ও রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরলে বিজয় কেবল সময়ের ব্যাপার।

মুসলিম উম্মাহকে উদ্দেশ্য করে এরপর আহবান করা হয় পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে। বলা হয়, আফগানের এই বিজয় মুসলিম ভূখন্ডে পশ্চিমা ত্বাগুতি শাসনব্যবস্থার মূলোৎপাটনের যুদ্ধের বিজয়ের দরজা খুলে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আফগানের এই বিজয় হবে ফিলিস্তিনের ভূখন্ডে যায়োনিস্টদের ধ্বংস করে দ্বীনের পতাকা উত্তোলনের যুদ্ধের ভূমিকাস্বরূপ। ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার দখলদারিত্বের জিঞ্জির চূর্ণ হবার সুযোগ তৈরি হয়েছে আফগানের এই বিজয়ের মাধ্যমেই।

সবশেষে আফগান জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়াহকে আঁকড়ে ধরতে। মুসলিম উম্মাহকে আহবান করা হয় আফগানদের সঙ্গ দিতে।

আল-কায়েদার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে এই দুয়া করা হয় যে, যেমনিভাবে তিনি (আল্লাহ তাআলা) ইমারতে ইসলামিয়াকে আফগানে শরীয়াহ কায়েম করে ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করতে সাহায্য করেছেন, তেমনিভাবে তিনি যেন সাহায্য করেন ফিলিস্তিনে যায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে ও আফ্রিকার ইসলামিক মাগরিবে ফ্রান্সের ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মুসলিমদের।

আল্লাহ যেন মুক্ত করে দেন শাম, সোমালিয়া, ইয়েমেন, কাশ্মীর এবং পুরো মুসলিম ভূখন্ডকে দ্বীনের দুশমনদের হিংস্র থাবা থেকে। তিনি যেন মুক্ত করে দেন কারাবন্দি মুসলিম ভাইদেরকে। তিনি যেন রহমত বর্ষণ করেন শুহাদাদের উপর, যাঁরা নিজেদের রক্ত দিয়ে লিখেছেন বিজয়গাথা। এবং দুয়া করা হয়, ইমারতে ইসলামিয়া যেন শরীয়াহ’র এই বরকতময় পথে অটল থাকে, শরীয়াহর ছায়াতলের মুসলিমরা যেন দিনাতিপাত করতে পারেন শান্তিতে।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন